শিরোনাম
প্রকাশ : ২ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৪:৫৭
আপডেট : ২ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৪:৫৮
প্রিন্ট করুন printer

বন্যার পর বগুড়ার সবজি চাষিরা আবারও স্বপ্ন দেখছেন

আব্দুর রহমান টুলু, বগুড়া

বন্যার পর বগুড়ার সবজি চাষিরা আবারও স্বপ্ন দেখছেন
বগুড়ার মহাস্থানগড়ে সবজি হাট।

দফায় দফায় বন্যার পর বগুড়ার সবজি চাষিরা আবারও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। বন্যায় আমন ধান ও মরিচের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সবজির বাম্পার ফলনের দিকে তাকিয়ে আছেন চাষিরা।

বগুড়া অঞ্চলে সবজির ক্ষেতগুলো নতুন করে সবুজে ভরে উঠেছে। কৃষি বিভাগ বলছে, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রায় সোয়া ৩ লাখ মেট্রিক টন সবজির ফলন পাওয়া যাবে।

বগুড়ার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, অনেক কৃষকই বাড়তি লাভের আশায় শীতকালীন আগাম সবজি চাষ করেছে। মুলা, শিম, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক, পালংশাক, করলা, লাউ, কাঁচা মরিচ, ঢেঁড়স, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, টমেটোসহ কিছু কিছু সবজি বাজারে পাওয়া গেলেও মূল চাষের ফলন নামতে আরো কিছু দিন সময় লাগবে।

বগুড়ার ১২টি উপজেলার মধ্যে সদর, শাজাহানপুর, শেরপুর, শিবগঞ্জ, সারিয়াকান্দি গাবতলী উপজেলা সবজি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এসব উপজেলায় বছরের বারো মাসই রকমারি সবজি ফলান কৃষকরা।

বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস বলছে, করোনার সময় সবজির সরবরাহ যেন স্বাভাবিক থাকে সে দিকে লক্ষ রেখে চাষিরা সবজি চাষে মাঠে নেমেছে। এখন পর্যন্ত আগাম জাতের শীত সবজি চাষ হয়েছে প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে। জেলায় চলতি বছর চাষের জন্য মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৮১৩ হেক্টর।

শীতের সবজি চাষাবাদ চলমান থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাষের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন।

এর আগে, ২০১৮ সালে বগুড়া জেলায় রবি মৌসুমে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে শবজি চাষ করা হয়। আর ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন।

আর ২০১৯ সালে রবি মৌসুমে জেলায় ১২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে রকমারি সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। যা থেকে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। হিসেব অনুযায়ী ফলন ধরা হলেও চাষিরা আগাম জাতের উচ্চ ফলনশীল চারা রোপণ করায় ফলন আরো বৃদ্ধি পায়।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. দুলাল হোসেন জানান, জেলায় এ বছর শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন। এ লক্ষ্যে কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সবজিতে সারা বছর একরকম আয় ভালো হয় বলে বগুড়ার চাষিরা সবজি চাষে ঝুঁকেছে বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে আছে বলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কৃষক মুসা মিয়া জানান, এবার বন্যা হয়েছে বেশি। বন্যার কারণে আমনের ফলন ভালো হয়নি। এবার তিনি সবজি চাষ করেছেন। এই শীত সবজির ফলন ভালো পাবে বলে তিনি জানান।

এদিকে, বগুড়ার মহাস্থানগড় সবজির হাটে এখন আগাম জাতের সবজি উঠতে শুরু করেছে। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। এর সাথে পাতা পিয়াজ, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বরবটিও পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির এই হাট থেকে প্রতিদিন অর্ধশত ট্রাক সবজি বোঝাই করে ঢাকার কাওরান বাজারে নেওয়া হচ্ছে। বন্যার সময় সবিজর দাম বেড়ে গেলেও এখন কিছুটা সবজির দাম কমে এসেছে। আগামী কিছু দিন পর সবজির দাম আরো কমে যাবে বলে সবজির পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। 

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর