শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫৭
প্রিন্ট করুন printer

চিকিৎসাধীন ২৯ রোগী উদ্ধার

রংপুরে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রোগীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রংপুরে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রোগীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন

রংপুরে প্রধান মাদকাসক্তি নিরাময় পুনর্বাসন কেন্দ্রে নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রোগীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে এক রোগীকে অমানবিক নির্যাতনের সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। তখন এলাকবাসি ও রোগীদের স্বজনরা কেন্দ্রটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে চিকিৎসাধীন ২৯ রোগীকে উদ্ধার করে ২৭ জনকে তাদের অভিভাবকের নিকট হস্তান্তর করেন। 

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক রোগীর কয়েকজন স্বজন প্রধান মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র নামে ওই প্রতিষ্ঠানটিতে যান। এ সময় প্রায় সব রোগী চিকিৎসার নামে নিজেদের ওপর চলা শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা খুলে তাদের উদ্ধারের অনুরোধ জানান। নির্যাতনের বর্ণনা শুনে এলাকবাসি ও রোগীর স্বজনরা প্রতিষ্ঠানটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এসময় কেন্দ্রের ইনজার্চ আকিব হোসেন, মোহনসহ অন্যান্যরা পালিয়ে যায়। 

নিরাময় কেন্দ্রে থাকা রোগীদের অভিযোগ, প্রতিদিনই তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। কেন্দ্রের ইনচার্জ আকিব ও মোহন মিলে তাদেরকে লোহার পাইপ দিয়ে প্রতিদিন মারপিট করে। ইলেকট্রিক শক দেয়া ছাড়াও বিবস্ত্র করে শরীরের বিভিন্ন অংশে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে  নির্যাতন করা হয়। খাবার ঠিক মত দেয়া হত না। ৩টি রুমে ৩০ থেকে ৩৫ রোগীকে একসাথে মেঝেতে গাদাগাদি করে রাখা হত। তাদের আলাদা রুমে নিয়ে ইচ্ছে মতো পেটানো হত বলে রোগীরা অভিযোগ করেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করতে থাকেন মাদকাসক্ত রোগীরা।

চিকিৎসাধিন মাদকাসক্ত এক রোগী জানান, সঙ্গ দোষে নেশা ধরেছিল। বাবা-মা ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করায়। প্রায় ৪ মাস থেকে সেখানে রয়েছে। কথায় কথায় তাকে মারধর করা হত। শাস্তি হিসেবে না খাইয়ে রাখা হত। 

চিকিৎসাধীন আরেক রোগী বলেন, অপরাধীকে যে ভাবে পেটানো হয়। আমাকেও এখানে প্রতিদিন পেটানো হত। চিৎকার করলে জোর করে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়া হত। আবার ঘুম ধরলে চোখে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দেয়া হত। 

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাব ইন্সপেক্টর তাহেদুল আলম সোহাগ বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সেখানে রোগীদের নির্যাতন, অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নানান অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পেয়েছি। প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স বাতিল করে সিলগালা করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।  

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ- পুলিশ কমিশনার মারুফ হোসেন জানান, নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ২৯ রোগীর মধ্যে ২৭ জনকে তাদের অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুজনের অভিভাবককে খবর দেয়া হয়েছে। তারা এলে ওই দুজনকে হস্তান্তর করা হবে। তিনি জানান, নিরাময় কেন্দ্রটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সিলগালা করেছে। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করবেন। 

জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরন্ব কুমার রায় বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে গিয়েছে। তারা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।  

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর