শিরোনাম
প্রকাশ : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৯:০৮
প্রিন্ট করুন printer

লাকসামে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ, কমছে গাছির সংখ্যা

ফারুক আল শারাহ, লাকসাম:

লাকসামে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ, কমছে গাছির সংখ্যা
ফাইল ছবি

কুমিল্লার বৃহত্তর লাকসাম অঞ্চলে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুরের রস। দিনদিন খেজুরের গাছের সংখ্যা কমার পাশাপাশি রস সংগ্রহ করা গাছির (চাষি) সংখ্যাও কমছে। পরিশ্রম ও ঝুঁকির পেশা হওয়ায় নতুন করে কেউ এ পেশায় আসছেন না। যার কারণে কোথাও কোথাও খেজুর গাছ দেখা গেলেও গাছির সঙ্কটের কারণে রস সংগ্রহ হয় না। অথচ ৭/৮ বছর আগেও বেশ উৎসাহের সাথে গ্রামীন জনপদে খেজুরের রস সংগ্রহ করা হতো। আর সেই রস থেকে তৈরি হতো গুড় ও মজাদার পিঠা-পায়েস।  

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, একসময় বৃহত্তর লাকসাম (লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট) অঞ্চলের প্রায় অধিকাংশ গ্রামেই রাস্তার ধারে এবং বাড়ির পাশে বিপুল সংখ্যক খেজুর গাছ দেখা যেত। শীত মৌসুমে গাছিরা বেশ উৎসাহের সাথে রস সংগ্রহ করতো। রসের হাড়ি ও খেজুর গাছ কাটার সরঞ্জামসহ গাছির ব্যস্ততার দৃশ্য সকলের নজর কাঁড়তো। সাত সকালে খেজুরের রস নিয়ে গাছিরা বাড়ি বাড়ি হাকডাক দিতেন। 

শীতের মৌসুম শুরু হতেই বাড়ি বাড়ি চলতো খেজুরের রস কিংবা রসের পাটালি গুড় দিয়ে মজাদার পিঠাপুলির আয়োজন। গ্রাম-বাংলার এমন দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। কারণে-কারণে নিধন চলছে খেজুর গাছ। নতুন করে কেউ খেজুর গাছ রোপনে আগ্রহী নন। এতে ক্রমাগত কমছে খেজুরের গাছ। দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে খেজুরের রসও। খেজুর গাছের সংখ্যা কমার পাশাপাশি কমছে রস সংগ্রহ করা গাছির (চাষী) সংখ্যাও। 

গাছির সংকট হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কুমিল্লা কৃষি তথ্য সার্ভিসের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. মহসিন মিজি জানান, দিনদিন খেজুর গাছ কমে যাচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় গাছ থাকলেও গাছির সঙ্কটে তেমনটা রস সংগ্রহ হয়না। পরিশ্রম ও ঝুঁকির কাজ হওয়ায় বর্তমান প্রজন্মের কেউ এ পেশায় আসতে আগ্রহী হয় না। খেজুর গাছ রোপন, গাছ থেকে রস সংগ্রহের বিষয়ে কেউ পরামর্শ চাইলে আমরা পরামর্শ দিতে প্রস্তুত আছি। 

চলতি মৌসুমে গাছ থেকে রস ও গুড় উৎপাদন করছেন মনোহরগঞ্জের হাতিমারা গ্রামের মো. মাছুম। তিনি বলেন, নিজেদের একটি খেজুর গাছ আছে। স্থানীয় এক গাছির সহায়তায় গাছ ছুলে তিনি রস সংগ্রহ করেন। গাছিরা পারিশ্রমিক না নিয়ে রস ভাগাভাগি করে নেন। কম হলেও তা ভেজালমুক্ত জানিয়ে তিনি বলেন, যতটুকু পাই তাতেই সন্তুষ্ট। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে তিনি প্রতি বছর রস সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানান।   


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর