শিরোনাম
প্রকাশ : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২২:১০
প্রিন্ট করুন printer

ঠাকুরগাঁওয়ে পাউবো’র পরিত্যক্ত ভবন অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ে পাউবো’র পরিত্যক্ত ভবন অপরাধীদের ‘স্বর্গরাজ্য’
পাউবোর পরিত্যক্ত ভবন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ভবনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর আবাসিক ভবনগুলো যে যার মতো করে দখল নিয়ে বসবাস করছেন। ভবনগুলো ভরে গেছে লতাপাতা ও জঙ্গলে। সন্ধ্যা হলেই রাত থেকে ভোর পর্যন্ত অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয় এটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাউবোর ভবনগুলো অযত্নে-অবহেলায় পড়ে আছে। ভবনের চারপাশে পচা-দুর্গন্ধ ময়লা-আবর্জনা, ফেনসিডিলের বোতল, ইঞ্জেকশনের সিরিজসহ ব্যবহৃত অনেক কিছুই পড়ে আছে। ভবনের চারপাশে ঝাড়-জঙ্গল ও সংস্কারের অভাবে ভবনের দেয়ালও নষ্ট হয়ে গেছে। হাত দিলেই যেন পলেস্তারা খসে পড়ার মতো অবস্থা। আর আবাসিক ভবনগুলো যে যার মতো দখল নিয়ে বসবাস করছেন। পাউবোর এই চিত্র দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে এটি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ এই ভবনগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কোনো সরকারি অফিসার এখানে ঢু মারতেও আসেন না। প্রতি রাতেই এখানে বসে মাদক ও জুয়ার আসর। রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাত মানুষদের ধরে নিয়ে এসে মালামাল লুট করে নেয় অনেকেই। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে নিয়ে আসা হয় পতিতা। আবাসিক ভবনগুলো সব দখল করে যে যার মতো করে বসবাস করছেন। বিদ্যুৎ ও লাইটিং ব্যবস্থা না থাকায় গভীর রাত পর্যন্ত চলে অসামাজিক কার্যকালাপ।

নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন বলেন, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই একটি প্রভাবশালী মহল এখানে মাদক, ছিনতাই, জুয়া, অসামাজিক কার্যকালাপের মতো জঘন্যতম কাজ করে। আমরা এলাকাবাসী ভয়ে দিনযাপন করছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি যাতে এই ভবনগুলোতে একটু অভিযান চালায়। সেই সাথে সরকারের কাছে দাবি জানান, রুহিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিসগুলো সংস্কার ও আবাসিক ভবনগুলো দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করে যেন পুনরায় চালু করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনিরুল হক বাবু বলেন, রুহিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভবনগুলো বসবাসের অনুপযোগী। সেখানে খারাপ কাজ করা হয় সেটা এলাকাবাসী আমাদের অভিযোগ দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার বলা হয়েছে ভবনগুলো মেরামত করার জন্য।

এ প্রসঙ্গে রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চিত্ররঞ্জন কুমার রায় বলেন, আমি ৩-৪ দিন আগে গিয়ে দেখেছি সব কিছু নরমাল আছে।

ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, জনবলের অভাবে এই ভবনগুলো পড়ে আছে। আর দেখভালের জন্য দু’একটি ভবন স্বল্প মূল্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর