শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ মে, ২০২১ ১৬:২১
প্রিন্ট করুন printer

কোয়ারেন্টাইন শেষে ভারতফেরত যাত্রীদের ঘরে ফেরা শুরু

বেনাপোল প্রতিনিধি:

কোয়ারেন্টাইন শেষে ভারতফেরত যাত্রীদের ঘরে ফেরা শুরু
Google News

বেনাপোলে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভারতফেরত যাত্রীদের মধ্যে মুখে হাসি ফুটেছে। হোটেলগুলোতেও বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। স্বজনদের নিতে বেনাপোল এসে পৌঁছেছেন তাদের নিকট আত্মীয়রা। এক নাগাড়ে ১৪ দিনের হোটেলে অবস্থানের পর আজ ঘরে ফিরেছেন ১শ ৫ জন যাত্রী।

আজ মঙ্গলবার শেষ হলো তাদের ১৪ দিনের  প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন।  ১৪ দিন আগে ভারত ফেরত ১শ ২৪ জন যাত্রী বেনাপোলের ৬ টি হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকে। এদের মধ্য অসুস্থতাজনিত কারণে ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইউসুফ আলী জানান, আগামী ১৪ দিন বিভিন্ন হোটেল ও শেল্টার হোমে থাকা প্রায় ২ হাজার ৬ শত ৬৩ জন যাত্রী পালাক্রমে ঘরে ফিরবেন। আজ মঙ্গলবার সকালে ঘরে ফেরা যাত্রীদের ফুল দিয়ে বিদায় জানান শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ি ফেরা এসব যাত্রীদের ট্রান্সপোর্ট সুবিধা প্রদানে সহায়তা করা হচ্ছে।

হোটেল থেকে বাড়ি ফেরা যাত্রী ঢাকার মোখলেছুর রহমান বাড়িতে বাচ্চাদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে এই আনন্দে কোয়ারেন্টাইনে থাকার কষ্ট ভুলে যাবেন বলে উচ্ছাস প্রকাশ করেন।

এদিকে নতুন করে দেশে ফিরেছেন আরো ৩ জন যাত্রী। তবে আগামি ১৬ মে পর্যন্ত কলকাতা দূতাবাস থেকে কোন ছাড়পত্র দেয়া হবে না বলে দূতাবাসের গেটে নোটিশ টানিয়ো দেয়া হয়েছে।

ভারতে আটকে পড়া চেন্নাই ফেরত জোছনা আজাদ নামে একজন যাত্রী জানান, তার সন্তানকে চেন্নাইয়ে মাথায় টিউমারের কারণে দু'দফা অপারেশন করা হয়েছে। অসুস্থ বাচ্চা নিয়ে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন। সুযোগ বুঝে ভারতে হোটেল মালিকরা ভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছে। তার মত ৩/৪শ বাংলাদেশি দেশে ফেরার অপেক্ষায় কলকাতার বিভিন্ন হোটেলে কষ্ট দিন কাটাচ্ছে। যাদের অধিকাংশই বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত এবং অপারেশনের রোগী। 

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব মতে গত ১৪ দিনে বাংলাদেশে এসেছে ২ হাজার ৬ শত ৬৩ জন।

ভারত ফেরত এসব যাত্রীদের বেনাপোল এবং যশোরের ২৯টি আবাসিক হোটেল  ছাড়াও ঝিকরগাছার গাজীরদরগা মাদ্রাসা এবং নড়াইল জেলা যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। যাত্রীদের অতিরিক্ত  চাপ সামলাতে ৫ তারিখের পর থেকে খুলনার বিভিন্ন হোটেলে রাখা হয়।

হোটেল এবং বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য নেয়া হয়েছে ব্যবস্থা। যাত্রীরা এখান থেকে যাতে পালাতে না পারেন সেজন্য তাদের পাসপোর্ট  ইমিগ্রেশনে জমা রাখা হচ্ছে। মেয়াদ শেষে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের পাসপোর্ট ফেরত দেয়া হবে বলে ইমিগ্রশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান হাবিব জানান।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 

এই বিভাগের আরও খবর