২৬ মে, ২০২২ ১৯:৪১

হত্যা মামলার আসামিকে গলাকেটে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

হত্যা মামলার
আসামিকে গলাকেটে হত্যা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় হত্যা মামলার আসামি এনামুল হককে (৩০) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া মহাবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পেছন থেকে নিহতের লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে। নিহত এনামুল হক হাপুনিয়া কলোনী গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে।

শেরপুর থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৩ সালে হাপুনিয়া গ্রামের সালমা খাতুন নামের এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে এনামুল হক। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু বেরিয়ে আসার পর থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন এনামুল। ফলে ভবঘুরে হিসেবে এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় বধুবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে স্কুল মাঠ সংলগ্ন শহীদ মিনারের পেছনে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের খালা জাহানারা বেগম জানান, জেল থেকে বের হয়ে আসার পর থেকেই এনামুল হক তার বাড়িতেই থাকতো। তার জন্য একটি বসতবাড়ির একপাশে কুঁড়েঘর বানিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় ভাগ্নে এনামুল রাতের বেলায় স্থানীয় হাপুনিয়া বাজারসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়াত। আর দিনের বেলায় ঘুমিয়ে থাকতো। প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। পরদিন সকালের দিকে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন খবর দেন। 

শেরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাই। সেইসঙ্গে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ায় হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। নিহতের গলায় ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহৃ রয়েছে। সম্ভবত গলাকেটে ও শ্বাসরোধ করেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে ঘটনাটি সম্পর্কে আরও সঠিক তথ্য জানা ও বলা সম্ভব হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

বিডি প্রতিদিন/এএ

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর