শিরোনাম
২১ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:৪৩

কৃষি থেকে শিল্পায়নে এগিয়ে যাচ্ছে নীলফামারী

আবদুল বারী, নীলফামারী

কৃষি থেকে শিল্পায়নে এগিয়ে যাচ্ছে নীলফামারী

নীলফামারী জেলার মানুষ এক সময় কৃষির উপরেই নির্ভরশীল ছিল। তবে বর্তমানে শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও রয়েছে এর অপার সম্ভাবনা। উত্তরা ইপিজেড চালু হওয়ার পর থেকেই গড়ে উঠেছে অনেক ছোটবড় শিল্প কল-কারখানা। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে লাখো মানুষের। 

বর্তমানে উত্তরা ইপিজেডে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ জেলায় গ্যাসের সুবিধা না থাকায় অনেকে শিল্প কলকারখানা স্থাপন করতে পারেনি। তবে ইতিমধ্যে গ্যাস লাইনের কাজ ইপিজেড পর্যন্ত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এতে যেমন কৃষি স্বনির্ভর হবে তেমনি শিল্পায়নের ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে যাবে জেলার মানুষ। বিদ্যুৎ গ্যাসের সুবিধা পেলে এগুলোকে কেন্দ্র করে অনেক শিল্পকারখানা ও মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

আগের চেয়ে বর্তমানে অনেক দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে। এই দক্ষ মানব সম্পদকে কাজে লাগিয়ে আগামীতে এই জেলা একটি শিল্পবান্ধব স্বনির্ভর এলাকা হিসেবে গড়ে উঠবে। চিলাহাটি স্থলবন্দর বাস্তবায়ন ইমিগ্রেশন চালু করা। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে যদি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করা হয়। এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সম্প্রসারণ ও নতুন বগি তৈরি করাসহ হাইটেক পার্ক, ইকোনমিক জোন স্থাপন করা হলে পাল্টে যাবে এ জেলার চিত্র।

চিলাহাটি স্থল বন্দর পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু হলে আমদানি-রফতানির বাড়বে। দেশের পণ্য সহজেই ভুটান-নেপাল, ভারতসহ অন্যান্য দেশে রফতানি করা যাবে। এবং অন্যান্য দেশের পণ্য সহজেই দেশে আমদানি করা যাবে। এছাড়া বেসরকারি ভাবে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানায় প্রায় ১ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। 

নীলফামারী জেলায় প্রায় ১৮ লাখ মানুষ বাস করেন। এক সময় ব্যবসা বাণিজ্য বলতে শুধুমাত্র ক্ষেতের ফসল ছাড়া আর অন্য কিছুই ছিল না এখানে। ক্ষেত-খামারে কাজ থাকে বছরে ৯ মাস। বাকী ৩ মাস মাঠে কোন কাজ থাকায় জেলার তিন লক্ষাধিক মানুষ বেকার জীবন যাপন করতো। এই সময়টায় মানুষের ঘরে ঘরে অভাব দানবের মতো চেপে বসতো। বেঁচে থাকার তাগিদে তারা পরিবার পরিজন ফেলে পাড়ি জমাতো দেশের বিভিন্ন জেলায়। বর্তমানে পাল্টে গেছে এর চিত্র। পরির্বতন হয়েছে মানুষের জীবনযাত্রার মান। সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় কর্মসংস্থান হয়েছে হাজারো মানুষের।
বড় কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বলতে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, নীলফামারী সদরে সিরামিক কারখানা, দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস ও  উত্তরা ইপিজেড, ঝুট কাপড়ের ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠাণ, উত্তরা আবাসনে শাড়ি-ব্লাউজে জড়ির কাজ, পোল্ট্রি শিল্প, টাইলস কারখানা, অটো রাইস মিল মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে ঝুট কাপড় দিয়ে তৈরি পোষাক দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। 

নীলফামারী পরিণত হয়েছে কর্মযজ্ঞ ও রফতানি পণ্যের জেলায়। কৃষিনির্ভর এ জেলায় যেভাবে ব্যক্তি উদ্যোগে ছোট বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে তাতে আগামীতে শিল্পের জেলায় পরিণত হবে নীলফামারী। সরকারি সহযোগিতা পেলে নীলফামারীতে আরও শিল্প প্রতিষ্ঠাণ গড়ে উঠার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।  নীলফামারীর সৈয়দপুরে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং তথা হালকা প্রকৌশল শিল্পে নিয়োজিত ছোট বড় মিলিয়ে অন্তত ৫০০ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সনাতন পদ্ধতির যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে এসব প্রতিষ্ঠানে তৈরি করা হচ্ছে কৃষিতে ব্যবহৃত উপকরণ এবং বিভিন্ন শিল্পকলকারখানায় ব্যবহৃত মেশিনের যন্ত্রাংশ। চীন থেকে আমদানি করা যন্ত্র মোরামত কিংবা নতুন করে তৈরিও করছে এসব কারখানা।

নীলফামারী পেট্রোল পাম্প মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আকতার হোসেন স্বপন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এ অঞ্চলে গ্যাসের সুবিধা না থাকায় অনেকে শিল্প-কারখানা স্থাপন করতে পারেনি। এখন পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি একেবারে দাঁড় প্রান্তে চলে এসেছে। তাই আমরা গ্যাস ভিত্তিক নতুন নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের স্বপ্ন দেখছি। এছাড়া গড়ে উঠবে শিল্পকারখানা, ইপিজেড গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কৃষি পণ্য সংরক্ষণের জন্য সমৃদ্ধ হবে এ জেলার মানুষের জীবনমান।

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি প্রকৌশলী এস এম সফিকুল আলম ডাবলু বলেন, নীলফামারী কৃষি নির্ভরশীল জেলা হলেও শিল্পায়নের ক্ষেত্রে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে অনেক ছোটবড় শিল্প কল-কারখানা। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে লাখো মানুষের। স্থানীয় শিল্প উদ্দোক্তাসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে শিল্পায়নে অনেকটাই পিছিয়ে পড়া নীলফামারী আগামী এক দশকে শিল্প নগরীতে পরিণত হবে। 

তিনি আরও বলেন, উত্তরা ইপিজেডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ, ইউপিজেড থেকে মাত্র ৩৮ কিলোমিটার অদূরে চিলাহাটি স্থলবন্দর চালু করে সরাসরি ভারতের সাথে রেল যোগাযোগ স্থাপন ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকমানের করা হলে উৎপাদিত পণ্য ভারত-নেপাল-ভুটান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে রফতানি করা সম্ভব হবে। সোনা ফলানো নীলফামারীর মাটিতে উৎপাদিত আলু, আদা, টমেটো, রসুন দিয়ে খুব সহজেই কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব। এখানকার জমি ও সস্তা শ্রম শিল্পায়নকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। 

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর