শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৫৪

পিহুর জন্মদিনে ডাইনোসরের উপহার

নাইস নূর

পিহুর জন্মদিনে ডাইনোসরের উপহার
Google News

আজ পিহু খুব খুশি। কারণ তার জন্মদিন। এবারের জন্মদিনে পিহু প্রথম উপহার পেয়েছে তার প্রিয় বন্ধু পুলুর কাছে থেকে। পুলু হলো পিহুর পোষা প্রাণী। পুলুকে খুব ভালোবাসে পিহু। নিজের নামের সঙ্গে মিল রেখে তাই পুলুর নাম রেখেছে সে।

পিহুকে পুলু একটা বড় ওয়েডিং ডল গিফট করেছে। এজন্য পিহু খুব খুশি। বার বার পুতুলটাকে নিয়ে সে বলছে, ‘আমার বিয়ে যখন হবে তখন আমি এভাবে সাজব।’ 

পিহুর বাগানের গোলাপ ফুলও পিহুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। পিহু যখন বাগানে গিয়েছে ঠিক তখনই লাল গোলাপ ফুলগাছ থেকে নেমে এসে পিহুর কানে ফিস ফিস করে বলেছিল, ‘হ্যাপি বার্থডে পিহু।’

পিহুর পড়ার বইগুলোও তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে একদম ভুল করেনি। পিহুকে তারা বলেছে, ‘তুমি তো সব সময় পড়াশোনা কর। তোমার  রেজাল্টও খুব ভালো। আজ তোমার জন্মদিন। তুমি বন্ধুদের সঙ্গে মজা কর। তোমাকে পড়তে হবে না আজ। তোমার ছুটি।’

পিহু মনে মনে বলেছিল, ‘প্রতিদিন যদি এরকম ছুটি পেতাম!’। সকাল থেকে সবার কাছ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা পেয়ে পিহুর আনন্দের শেষ নেই।

এখন বিকেল তিনটা। চারটার সময় পিহুর বাসায় তার সব বন্ধুরা আসবে। তখনই জন্মদিনের কেক কাটবে সে।

এক ঘণ্টা পিহুর কাছে অনেক সময় মনে হচ্ছে। কিছুতেই সময় কাটছে না। হঠাৎ মোবাইলে একটা ফোন এলো। পিহু ফোন রিসিভ করল। তখন একজন খুব মিষ্টি সুরে বলল, ‘হ্যাপি বার্থডে ডিয়ার পিহু।’

উত্তরে পিহু বলল, ‘ধন্যবাদ। কিন্তু তুমি কে?’

‘আমি ডাইনোসর।’

‘তুমি তো লক্ষ লক্ষ বছর আগেই হারিয়ে গেছ। তুমি আমাকে চেনো কীভাবে?’

‘পৃথিবীতে তোমার মতো যারা শান্ত তাদের সবাইকে আমি চিনি। আর যারা নিয়মিত স্কুলে যায় তাদের জন্মদিনে আমি উপহার নিয়ে আসি।’

‘আমি তো সবসময় স্কুলে যাই। তুমি কি তাহলে আমাকে উপহার দেবে?’

‘অবশ্যই দেব।’

‘কিছুক্ষণ পর আমার বন্ধুরা বাসায়  আসবে। আমরা কেক কাটব। তখন তুমিও এসো ডাইনোসর। সবাইকে তোমাকে দেখে অবাক হবে।’

‘ঠিক আছে আমি আসব।’

পিহুর জন্মদিনের কেকটা খুব সুন্দর। কেকের মধ্যে একটা লাল রঙের গাড়ি। পিহুর এক বন্ধু কেক দেখে বলল, ‘আমি বড় হয়ে এরকম লাল রঙের একটা গাড়ি কিনব।’

‘পিহু বলল আমিও কিনব।’

এক এক করে পিহুর সব বন্ধু বাসায় এলো। সবাই বলল, ‘চলো, এখন কেক কাটি’।

সবাইকে পিহু বলল, ‘আমার নতুন এক বন্ধু আসবে। তারপর কেক কাটব।’

‘কে সে?’

‘ডাইনোসর’।

পিহুর সব বন্ধুর অবাক হয়ে বলল, ‘ডাইনোসর! আমরা ডাইনোসর দেখব। খুব মজা হবে।’

এরপর পিহুর বাসার কলিং বেল বাজল। দরজা খুলতেই ডাইনোসর একটা বড় বাক্স নিয়ে ঢুকল।

ডাইনোসরকে পেয়ে সবাই খুব খুশি। সবাই একসঙ্গে কেক কাটল। এরপর ডাইনোসরের দেওয়া উপহার খুলল তারা। পেল রঙ পেন্সিল আর চকলেট।

পিহু খুশি হয়ে বলল, ‘নানা রঙের পেন্সিল। সবাই আমরা অনেক ছবি আঁকতে পারব।’

ডাইনোসর বলল, ‘এভাবে সবাই একসঙ্গে থেক। কেউ মারামারি করবে না। কারও ক্ষতি করবে না। আমরা যখন পৃথিবীতে ছিলাম তখন সবাই দল বেঁধে ছিলাম। পাহাড়ে এবং সমুদ্রে থাকতাম।’

‘বাহ! তোমাদের তো তাহলে অনেক মজা হত।’

‘হুম। আমরা পাখা মেলে উড়েও বেড়াতাম।’

‘তোমাদের রাজ্যে আমাদের নিয়ে যাবে?’

‘পৃথিবী অনেক সুন্দর। তোমরা এখানেই থাক। আমি তোমাদের দেখতে মাঝে মাঝে আসব।’ এসব বলে ডাইনোসর সবার কাছ থেকে বিদায় নিল।

পিহু ও তার বন্ধুরা বলল, ‘আবার এসো ডাইনোসর।’