শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:৩৬

ইতিহাস

সিকান্দার লোদী

বাহলুল লোদীর মৃত্যুর পর তার দ্বিতীয় পুত্র নিজাম খান ‘সিকান্দার লোদী’ নাম গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি একজন যোগ্য শাসক হিসেবে দিল্লির সালতানাতের হৃতগৌরব কিছু পরিমাণে ফিরিয়ে এনেছিলেন। তার জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বরবক শাহ কেন্দ্রীয় শাসন ক্ষমতাকে উপেক্ষা করতে চাইলে তিনি তাকে আনুগত্য স্বীকার করতে বাধ্য করেন। পরে বরবক শাহ পদচ্যুত ও বন্দী হন। সিকান্দার লোদী বিহার ও গোয়ালিয়র অধিকার করেন। মধ্যভারতের সর্দারদের দমন করার জন্য তিনি রাজধানী দিল্লি হতে আগ্রায় স্থানান্তরিত করেছিলেন। ২৮ বছর কৃতকার্যতার সঙ্গে রাজত্ব করার পর সিকান্দর লোদী ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুমুখে পতিত হন। লোদী বংশের শাসকদের মধ্যে সিকান্দার লোদী ছিলেন সর্বাপেক্ষা সক্ষম ও শ্রেষ্ঠ সুলতান। তিনি তার পিতার সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি সাধন করেন। উদ্ধত আফগান অভিজাতবর্গের ক্ষমতা তিনি খর্ব করেছিলেন। বলবন ও আলাউদ্দীন খলজির ন্যায় তিনি রাজপদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছিলেন। পূর্ব প্রদেশের সর্দার ও জমিদারদের কর্তৃত্ব তিনি সংযত করেছিলেন। শাসক হিসেবেও তিনি সুদক্ষ ছিলেন। সুষ্ঠু ভিত্তির ওপর এক সুন্দর শাসনব্যবস্থা তিনি কায়েম করেন। তিনি উত্পন্ন শস্যের ওপর হতে কর উঠিয়ে দিয়ে ব্যবসায়-বাণিজ্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। একজন পরম ধার্মিক লোক হিসেবে তিনি ইসলামের অনুশাসন অনুযায়ী জীবনযাপন করতে চেষ্টা করতেন। তিনি অভাবগ্রস্তদের প্রতি দয়া ও উদারতা প্রদর্শন করতেন। প্রজার কল্যাণ কামনা ছিল তার মুখ্য উদ্দেশ্য। তিনি একজন খ্যাতনামা কবি ছিলেন। ‘গুলরুখ’ বা ‘লালফুল’— এ ছদ্মনামে তিনি ফরাসি ভাষায় কবিতা লিখতেন। তিনি বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। তিনি সংস্কৃত ভেষজশাস্ত্রকে ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করার আদেশ দেন।

সিকান্দার লোদীর মৃত্যুর পর তার পুত্র ইবরাহীম লোদী সিংহাসনে আরোহণ করেন ১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে। সুলতান ইবরাহীম লোদীর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি পিতার অসমাপ্ত কার্য গোয়ালিয়র বিজয়। গোয়ালিয়রের রাজা দিল্লির সুলতানের বশ্যতা স্বীকার করেন। কিন্তু একটি অভিজাত দল রাজ্যের মধ্যে ভাঙন ধরাবার চেষ্টা করতে থাকে। তারা ইবরাহীম লোদীর কনিষ্ঠ ভ্রাতা জালাল খানকে সিংহাসনে বসাতে সচেষ্ট হন। সুলতান ইবরাহীম লোদী জালাল খানের বিরুদ্ধে অগ্রসর হন এবং তাকে যুদ্ধে পরাজিত ও হত্যা করে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। জালাল খানের পতনের পর সুলতান উদ্ধত আফগান অভিজাতদের দমন করার নীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাদের সঙ্গে অত্যন্ত রূঢ় ব্যবহার আরম্ভ করলেন, এমনকি তিনি তাদের সঙ্গে নিম্নপদস্থ কর্মচারীর অনুরূপ ব্যবহার করতে লাগলেন।  তিনি আদেশ দিলেন যে, প্রত্যেক আমির রাজদরবারে বিপরীতভাবে বক্ষোপরি হস্তনিবদ্ধ করে দণ্ডায়মান থাকবেন।


আপনার মন্তব্য