শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৩১

গুহায় আটকে পড়া কিশোররা

সফল হোক উদ্ধারকারী দল

গুহায় আটকে পড়া কিশোররা

থাইল্যান্ডের ১২ সদস্যের কিশোর ফুটবল দল এবং তাদের কোচ এখন সারা বিশ্বের মনোযোগের কেন্দ্রস্থলে। খেলার জন্য নয়, পাহাড়ের গুহায় ভ্রমণ করতে গিয়ে ১৮ দিন ধরে আটকা পড়ে আছে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোরদের এ দলটি। ২৩ জুন স্থানীয় ‘ওয়াইল্ড বোরস’ ফুটবল টিমের সহকারী কোচসহ ১৩ কিশোর সদস্য থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের চিয়াং রাইয়ের ‘থাম লুয়াং ন্যাং নন’ গুহায় ঘুরতে গিয়ে আকস্মিক ভারি বর্ষণে সেখানে আটকা পড়ে। বহুজাতিক বিশেষজ্ঞদের যৌথ চেষ্টায় ঘটনার নয় দিন পর ২ জুলাই গুহার ভিতরে এক সংকীর্ণ স্থানে তাদের জীবিত থাকার সন্ধান পান দুই ব্রিটিশ ডুবুরি। তবে জায়গাটি বন্যাপ্লাবিত, সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আটকে পড়া কিশোরদের নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে আসা আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। উদ্ধারে সম্ভাব্য কয়েকটি উপায় সাফল্যের মুখ না দেখায় শেষ পর্যন্ত তাদের ভূগর্ভস্থ সংকীর্ণ টানেল দিয়েই বাইরে বের করে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সামগ্রিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ যে সরু টানেল দিয়ে আটকে পড়াদের বের করে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে সেখানে পানির স্তর কিছুটা নিচে নেমে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ রবিবারই উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকারী দলে ১৩ জন বহুজাতিক বিশেষজ্ঞ ডুবুরি ও থাই রয়্যাল নেভি সিলের পাঁচজন সদস্য রয়েছেন। তারা ওইদিনই চার কিশোরকে উদ্ধার করে আনেন গুহা থেকে। এ উদ্ধারের পর অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে সাময়িকভাবে আরও প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। গুহায় যে স্থানে কিশোর ফুটবল দলটি আটকে পড়ে সেখানে দিনের আলো পৌঁছায় না। দিনের পর দিন তাদের হয়তো অর্ধাহারে অনাহারে থাকতে হয়েছে। শিশুদের উদ্ধারে থাইল্যান্ড সরকার শুধু নয়, সারা বিশ্ব একাত্ম হয়েছে তাদের সঙ্গে। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকর্মীরা হাত বাড়িয়েছেন মানবতার ডাকে। উদ্ধারকারীদের বিশ্বাস, চরম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা বাকি সদস্যদের উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন। ভয়ের দিকটি হলো, ভারি বৃষ্টিতে উদ্ধার কাজই শুধু নয়, কিশোরদের ভিতরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। অক্সিজেনের অভাবে ঘটতে পারে বিপর্যয়। সারা বিশ্বের মতো আমাদেরও প্রার্থনা— কিশোর ফুটবল দলটিকে উদ্ধারে সফল হোন উদ্ধারকারীরা। মানুষ মানুষের জন্য— এ চিরন্তন সত্যটি আবারও স্পষ্ট হোক বিশ্ববাসীর সামনে।


আপনার মন্তব্য