Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুন, ২০১৯ ২২:৪৮

স্বপ্নের জান্নাত কেমন হবে

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন

স্বপ্নের জান্নাত কেমন হবে

মুসলমানমাত্রই আমরা জান্নাতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখি। বেহেশতে প্রবেশের আশা রাখি। তবে কেমন হবে স্বপ্নের জান্নাত? কী দিয়ে সাজানো বহু প্রতীক্ষিত প্রিয় বেহেশত? কেমন হবে জান্নাতি জীবন? এ বিষয়ে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন নিয়ামত তৈরি করে রেখেছি, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান যার কথা শোনেনি এবং কোনো মানুষের কল্পনায়ও যা আসেনি। তোমরা ইচ্ছা করলে (কোরআনের এ আয়াতটি) পাঠ করতে পারো। (যার অর্থ হচ্ছে) ‘কোনো মানুষই জানে না যে, তাদের জন্য কী নয়নপ্রীতিকর প্রতিদান লুকিয়ে রাখা হয়েছে’। বুখারি, মুসলিম। জান্নাতে অসুস্থতা ও বার্ধক্য নেই। এ বিষয়ে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (জান্নাতিদের উদ্দেশে) এক ঘোষণাকারী এই ঘোষণা দেবে যে, তোমরা এখানে সুস্থ থাকবে, কখনো অসুস্থ হবে না। তোমরা জীবিত থাকবে, কখনো মরবে না। তোমরা এখানে যৌবন নিয়ে থাকবে, কখনো বুড়ো হবে না। তোমরা সুখী জীবন যাপন করবে, কখনো কষ্টে পতিত হবে না। মুসলিম। অন্য হাদিসে এসেছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতিরা জান্নাতে পানাহার করবে, কিন্তু তারা থুথু ফেলবে না। প্রস্রাব-পায়খানা করবে না এবং নাকের ময়লাও ফেলতে হবে না। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, তাদের খাবারের কী হবে? (অর্থাৎ এটা কীভাবে হজম হবে?) তিনি উত্তর দিলেন, ঢেঁকুর আসবে এবং মেশকের মতো সুঘ্রাণ নিয়ে ঘাম বের হবে। এতেই খালি হয়ে যাবে। তোমরা যেভাবে শ্বাস-নিঃশ্বাস নাও, এভাবে তারা আল্লাহর তাসবিহ ও প্রশংসাবাদ করে যাবে। মুসলিম। জান্নাত কীসের তৈরি? এ বিষয়ে হাদিসের কিতাবগুলোয় অনেক বর্ণনা রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রসুলুল্লাহ! সৃষ্টজীবকে কীসের দ্বারা পয়দা করা হয়েছে? তিনি উত্তরে বললেন, পানি দিয়ে। আমরা এবার জিজ্ঞাসা করলাম, জান্নাত কীসের তৈরি? তিনি উত্তর দিলেন, ইটের তৈরি, যার একটি ইট সোনার, অন্যটি রুপার। এর মাল-মশলা হচ্ছে তীব্র সুগন্ধিযুক্ত মেশকে আম্বরের।  কঙ্কর হচ্ছে মোতি ও ইয়াকুতের।  আর মাটি হচ্ছে জাফরান দ্বারা তৈরি। যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে সে সুখে থাকবে, কোনো কষ্ট পাবে না। চিরকাল জীবিত থাকবে, তার মৃত্যু হবে না। তাদের কাপড় পুরনো হবে না এবং তাদের যৌবনও ফুরিয়ে যাবে না। মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি।  রসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে আরও বলেছেন, নিম্নস্তরের জান্নাতি হবে ওই ব্যক্তি যার ৮০ হাজার খাদেম ও ৭২ জন স্ত্রী থাকবে। তার জন্য মোতি, জমরুদ ও ইয়াকুতের তৈরি একটি প্রাসাদ থাকবে, যার পরিধি হবে (সিরিয়ার) জাবিয়া ও (ইয়ামেনের) সানা নামক স্থানদ্বয়ের মধ্যকার দূরত্বের সমান (তিরমিজি)। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, জান্নাতি মানুষের মধ্যে ছোট-বড় যারাই মারা যায়, জান্নাতে তাদের সবাইকে ৩০ বছরের যুবক বানিয়ে দেওয়া হবে। এর চেয়ে বেশি বয়সে তারা পৌঁছাবে না। জাহান্নামিদের অবস্থাও তাই হবে। কোনো কোনো বর্ণনায় ৩৩ বছরের উল্লেখ রয়েছে। (তিরমিজি)। অন্য হাদিসে এসেছে, জান্নাতিদের মাথায় এমন মুকুট থাকবে, এর একটি সামান্য মোতি পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সব জিনিসকে আলোকিত করে দেবে। তিরমিজি। আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে স্বপ্নের জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ দান করেন।

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য