শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:১৩

রিকুইজিশনের নামে হয়রানি বন্ধ করেছে ডিএমপি

মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার), পিপিএম

রিকুইজিশনের নামে হয়রানি বন্ধ করেছে ডিএমপি

পুলিশের মবিলিটি ও ফোর্সদের যথাযথভাবে দায়িত্বে নিয়োজিতকরণ নিশ্চিতের মাধ্যমে অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণের কৌশল হিসেবে বিদ্যমান যানবাহন সমস্যা নিরসনকল্পে যানবাহন সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন ধরনের গাড়ি ও বিভিন্ন ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির আওতায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সংগ্রহ করেছি। একটি প্রাসঙ্গিক গ্রহণযোগ্য রেকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালার মাধ্যমে বেসরকারি মালিকানাধীন রেকার পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারপূর্বক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিজস্ব রেকার পর্যায়ক্রমে ঢাকা মহানগরীতে নিয়োজিত করেছি।

রিকুইজিশন প্রথা বন্ধকরণ : ঢাকা মহানগরীতে সম্মানিত নাগরিকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন সেজন্য রিকুইজিশন প্রথা বন্ধের যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার ব্যবস্থা : একটি আধুনিক ও পেশাদার পুলিশবাহিনী গঠন, জনগণের কাক্সিক্ষত প্রত্যাশা পূরণ এবং ফলপ্রসূ পুলিশিংব্যবস্থা কার্যকরের লক্ষ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতির কোনো বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতি বিধি মোতাবেক যথাযথ প্রক্রিয়ায় কেনার ব্যবস্থা করেছি।

কেন্দ্রীয় ফোর্স ম্যানেজমেন্ট : কেন্দ্রীয় ফোর্স ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে প্রচলিত ফোর্স ব্যবস্থাপনার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দুই শিফটের পরিবর্তে তিন শিফটভিত্তিক ফোর্স মোতায়েনের প্রচলন করেছি; যা পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে গৃহীত অনন্য ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আইনশৃঙ্খলাসহ অন্যান্য ডিউটিতে ফোর্সের প্রকৃত চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে ফোর্স মোতায়েনে অপচয় রোধপূর্বক ফোর্সের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি ডিউটির গুণগত মান বৃদ্ধি করেছি।

মানবসম্পদ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা : ঢাকা মহানগর পুলিশে কর্মরত সর্বস্তরের সদস্যকে একজন আধুনিক, দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রম শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। প্ল্যানিং, রিসার্চ অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের মাধ্যমে অফিসার/সদস্যদের দক্ষ, কৌশলী, জনবান্ধব ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার নিমিত্ত তথ্যপ্রযুক্তি/সাইবার ক্রাইম, মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাস/জঙ্গি দমন, মানব পাচার ইত্যাদি বিষয়ে বিভিন্ন কোর্স ও কর্মশালার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিএমপির নিজস্ব ল্যাবে প্রতি মাসে কনস্টেবল থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্কিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।

উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন : ঢাকা মহানগরী এলাকায় বসবাসকারী সম্মানিত নারী নাগরিকদের সার্বিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করেছি। নারী কর্মকর্তা ও সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন সুবিধাবঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আবাসন, আইনি সহায়তা, কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করে। সমাজের এই নিগৃহীত অসহায় মানুষগুলোর একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার।

ঐবষঢ় উবংশ : ঢাকাকে একটি নিরপরাধ ও সহনীয় অপরাধমুক্ত মহানগরীতে পরিণত করা এবং জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঐবষঢ় উবংশ স্থাপন করেছি। অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি, টেলিফোনে চাঁদা দাবি, টেলিফোনে হয়রানি ও প্রতারণা, টেলিফোনে হুমকি প্রদান, ইন্টারনেটে হয়রানি ও প্রতারণা, নিখোঁজ ব্যক্তির অনুসন্ধান ও প্রবাসীকল্যাণ বিষয়ে আইনগত সহায়তা প্রদান অব্যাহত রয়েছে। ফলে নাগরিকরা ঐবষঢ় উবংশ-এর মাধ্যমে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছেন; যা সব মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

মিডিয়া সেল : আমার দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশের সফলতা, উদ্ধার, জনসম্পৃক্ততামূলক, সাংগঠনিক, কল্যাণমূলক গৃহীত পদক্ষেপ নিয়মিত তুলে ধরার পাশাপাশি জননিরাপত্তাবিধানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্র্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে। অত্যাধুনিক মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকরা ইন্টারনেটযুক্ত কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যমে খুব সহজেই সংবাদ আদান-প্রদান করতে সক্ষম। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সব সংবাদ, আপডেট, সেবার খাত ও গ্রহণের উপায়, পুলিশের বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনার জন্য ডিএমপি ওয়েবসাইট িি.িফসঢ়.মড়া.নফ যুগান্তকারী অবদান রাখছে।

পুলিশ সম্পর্কে নানা নেতিবাচক ধারণা, বিভ্রান্তি ও গুজবের অবসান ঘটিয়ে জনমনে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টি ও জনমত গঠনে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে িি.িফসঢ়হবংি.ড়ৎম নিউজ পোর্টালটি। সব ধরনের সংবাদ যেমন- জাতীয়, পুলিশ, অপরাধ, অর্থনীতি, বিনোদন, খেলাধুলা, আন্তর্জাতিক, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রেসবক্স, যোগাযোগ প্রচারের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ডিএমপি নিউজের পাঠকসংখ্যা প্রায় ২৮ কোটি। বিভিন্ন বিষয়ে হালনাগাদ সংবাদ প্রচারে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখছে ডিএমপি নিউজ পোর্টাল। ডিএমপি নিউজ (ফসঢ়হবংি.ড়ৎম) নামক অনলাইন নিউজ পোর্টালটি ডিএমপির দৈনন্দিন কার্যক্রমের দর্পণ হয়ে উঠেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ইতিমধ্যে ভেরিফাইড হয়েছে। ডিএমপির ফেসবুক পেজে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রমের সচিত্র প্রতিবেদন, উদ্ধারজনিত সাফল্য, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তি, হারানো বিজ্ঞপ্তি, প্রাপ্তিসংবাদ প্রচার করা হয়। এ পেজে ব্যবহারকারীরা তাদের  মতামত, পরামর্শ ও সমস্যার কথা ফেসবুকে জানান। পুলিশের কার্যক্রমে জনমতের প্রতিফলন ও পুলিশি সেবার বিস্তৃতি ঘটাতে ঊৎৎড়ৎ! ঐুঢ়বৎষরহশ ৎবভবৎবহপব হড়ঃ াধষরফ. ফেসবুক পেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডিএমপি ফেসবুক (উযধশধ গবঃৎড়ঢ়ড়ষরঃধহ চড়ষরপব-উগচ) পেজ নাগরিকদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ, নাগরিকদের নিরাপত্তা টিপস প্রদান, ডিএমপির সফলতা সম্পর্কে অবহিত করা এবং নাগরিকদের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে অবগত হওয়ার একটি জনপ্রিয় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ডিএমপি ফেসবুক পেজের লাইক সংখ্যা ৪ লাখ ২৯ হাজার ৪৩৮ এবং ফলোয়ার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৫ জন। ‘জননিরাপত্তাবিধানে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক ভধপবনড়ড়শ ষরাব-এর মাধ্যমে আমরা নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছি। ডিএমপির মিডিয়া সেলের এসব যুগান্তকারী পদক্ষেপ আমাদের ঐকান্তিক আগ্রহের কারণে সহজেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

মিডিয়া কর্মশালা আয়োজন : ২০১৬ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘জননিরাপত্তাবিধানে পুলিশ ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এ কর্মশালা ছিল আমার সুদূরপ্রসারী কর্মচিন্তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ওই কর্মশালায় জননিরাপত্তাবিধানে গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের কার্যকর মেলবন্ধন রচনার প্রেক্ষাপট নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করার জন্য বিষয়ভিত্তিক এজেন্ডা প্রণীত হয়। পুলিশের যে কোনো ধরনের আইনসিদ্ধ কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের ইতিবাচক মানসিকতা তৈরিতে এ কর্মশালা একটি অনন্য ভূমিকা পালন করে।

লেখক : পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য