শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩৪

আর্সেনিক

ভূগর্ভস্থ পানি আর্সেনিক দূষণ ও মানবদেহে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়াজনিত ব্যাধি একটি অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বাংলাদেশের পানিতে আর্সেনিক দূষণের সমস্যা ভয়াবহ। ভূগর্ভস্থ পানির এ দূষণের কারণ ভূতাত্ত্বিক। এ দূষণ সাধারণত ভূগর্ভের দ্বিতীয় স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ লিটারপ্রতি ১০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত থাকলে তাকে বিপদমুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে। তবে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর কিছু উন্নয়নশীল দেশে এ মাত্রা লিটারপ্রতি ৫০ মাইক্রোগ্রাম ধার্য হয়েছে। অনেক দিন ধরে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে যে অসুস্থতা দেখা যায় তার নাম আর্সেনিকোসিস। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে এ ধরনের আর্সেনিক বিষক্রিয়া সারা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তা ছাড়া আর্সেনিক দূষণজনিত শারীরিক অসুস্থতার প্রকাশও অনেক জটিল ও অসহ্য। এর আগে আর্সেনিক দূষিত পানি পান করে যেসব দেশের মানুষের অসুস্থতা দেখা দিয়েছিল সে দেশগুলো হলো পূর্ব এশিয়ার তাইওয়ান, চীন, দক্ষিণ আমেরিকার চিলি, আর্জেন্টিনা, ইউরোপের হাঙ্গেরি, জার্মানি, উত্তর আমেরিকা ইত্যাদি। ওইসব অঞ্চলে অসুস্থতার লক্ষণ ছিল শরীরের চামড়ার ওপর ছোট ছোট কালো দাগ এবং হাত ও পায়ের চামড়া শক্ত হয়ে যাওয়া। কিছু দিন এভাবে থাকার পর কোনো কোনো রোগীর চামড়া ও প্রস্রাবের থলিতে ক্যান্সার পরিলক্ষিত হতো। এ ছাড়া কারও কারও লিভার ও ফুসফুসের ব্যাধিও দেখা দিত। ফুসফুসের অসুখে কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের ফলে অনেকে ভালোভাবে কাজকর্ম করতে পারে না। শরীরে দুর্বলতাও দেখা দেয়।

আর্সেনিক দূষণের জন্য সচরাচর চামড়ায় যে ক্যান্সার বা ঘা হয় তা অল্প অবস্থায় ধরা পড়ে গেলে অপারেশনের মাধ্যমে সেরে যায়। তবে সুষম ও সুপাচ্য খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। ভালো পরিমাণে ভাত ও মুড়ি ছাড়াও অন্তত একবেলা রুটি খাওয়া উচিত। তা ছাড়া প্রতিদিন সম্ভব না হলে সপ্তাহে অন্তত দু-তিন দিন মাছ, ডিম বা দুধ খাওয়া প্রয়োজন। কারণ দেখা গেছে, আমিষঘটিত প্রোটিনের অভাবে আর্সেনিকোসিস রোগ বেশি প্রকাশ পায়। অঙ্কুরত ছোলা বাদাম, সয়াবিন, বিভিন্ন প্রকার ডাল, গাজর, শাকসবজি স্বল্প ব্যয়ে প্রচুর ভিটামিন ও প্রোটিনের জোগান দেয়। আর্সেনিকোসিস রোগ সম্পর্কে বহু মানুষের মনে অনেক অবৈজ্ঞানিক, ভিত্তিহীন ভুল ধারণা আছে। আর্সেনিক দূষণের প্রতিক্রিয়ায় যে চর্মরোগ দেখা দেয় সে সম্পর্কে এমন বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে, আর্সেনিকোসিস হচ্ছে ছোঁয়াচে অথবা কুষ্ঠের মতোই একটা রোগ। এ ধারণার মারাত্মক সামাজিক প্রভাব আছে; বিশেষ করে শিশু ও মহিলাদের ওপর এর প্রভাব পড়ে সবচেয়ে বেশি। আর্সেনিকে আক্রান্ত হলে কোনো কোনো মানুষের হাত ও পা ঝিঁঝিঁ করতে থাকে। শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়। পেটের বিভিন্ন অসুস্থতা যেমন পেটে ব্যথা, বমি, পাতলা পায়খানা ইত্যাদিতেও কোনো কোনো মানুষ কষ্ট পায়। কারও কারও চোখ লাল হয়ে যায়, মাথায় যন্ত্রণা করে। আবার কারও কারও হাত-পা ফুলতে থাকে।

                আফতাব চৌধুরী


আপনার মন্তব্য