শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুন, ২০২১ ২৩:১৯

নারী পাচার চক্র

অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কাম্য

Google News

ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক বাংলাদেশি তরুণীর ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে র‌্যাব সুসংবদ্ধ এক আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী দলের সন্ধান পেয়েছে। এ দলের মূল হোতা চার পাচারকারীকেও আটক করেছেন ওই এলিট ফোর্সের সদস্যরা। আটককৃতরা ভারতে নারী পাচার করে তাদের যৌন ব্যবসায় নিয়োগ করতেন। কেউ আপত্তি করলেই তার ওপর নেমে আসত নির্যাতন। গত সোমবার রাতে যশোরের অভয়নগর ও বেনাপোলে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব নারী পাচার চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করে। চক্রটির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তারা ভারতে ৫ শতাধিক নারী পাচার করেছে। প্রতিজনের জন্য তারা পেয়েছে ৩০ হাজার টাকা। বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশি তরুণীর ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে নির্যাতনকারী টিকটক হৃদয়সহ অন্যরাও এ চক্রের সদস্য। ভিকটিমদের বৈধ বা অবৈধ উভয় পথেই সীমান্ত অতিক্রম করানো হতো। প্রথমত, টার্গেট নারীদের তারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সীমান্তবর্তী জেলা যশোর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহে নিয়ে আসত। এরপর ভিকটিমকে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন সেফ হাউসে নিয়ে রাখা হতো। সেখান থেকে সুবিধাজনক সময়ে সীমান্ত অতিক্রম করানো হতো। পাশের দেশের এজেন্টরা তাদের কলকাতা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বেঙ্গালুরু পাঠাত। বেঙ্গালুরু পৌঁছানোর পর পাচারকারী চক্রের বস রাফি তাদের বিভিন্ন সেফ হাউসে রাখতেন। এরপর মাদকাসক্তে অভ্যস্ত ও অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে যৌন ব্যবসায় বাধ্য করা হতো। সোমবার পাচারকারী দলের মূল হোতা যে চারজনকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে তার মধ্যে আশরাফুল ইসলাম রাফি ওরফে বস রাফি ছাড়াও রয়েছেন তার সহযোগী ম্যাডাম সাহিদা, ইসমাইল সরদার, আবদুর রহমান শেখ ওরফে আরমান শেখ। সাহিদার দুই মেয়ে সোনিয়া ও তানিয়াও পাচারকারী দলের সদস্য। নারী ও শিশু পাচার একটি মারাত্মক অপরাধ। ধর্মীয় ও সামাজিক দিক থেকেও এটি গর্হিত কর্মকান্ড হিসেবে বিবেচিত। আমরা আশা করব নারী পাচারের অভিশাপ থেকে সমাজ ও দেশকে মুক্ত করতে আইন অনুযায়ী এ চক্রের সদস্যদের বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা হবে। নারী পাচার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি।