শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুন, ২০২১ ২২:৪৯

জান্নাতের পথের নাম ইমান

আল্লামা মাহ্‌মূদুল হাসান

Google News

জান্নাতের পথের নাম হচ্ছে ইমান। আল্লাহর অস্তিত্ব ও একাত্মবাদের প্রতি গভীর বিশ্বাস এবং তাঁর প্রতি পুরোপুরি আনুগত্যই হচ্ছে ইমানের মূল বিষয়। ইমান অন্তরের বিষয়, অন্তরে ইমান প্রবিষ্ট হলে ও বিদ্যমান থাকলে আজ হোক, কাল হোক জান্নাতের পথ সুগম হবে। ইমান ছাড়া জান্নাতলাভের কোনো উপায় নেই, কেননা বেইমানি জাহান্নামেরই পথ। এজন্য ইমানের প্রচেষ্টা চালানো মানুষের জন্য সর্বাধিক প্রয়োজনীয় বিষয়। এ কারণেই আল কোরআন ও হাদিসে ইমানের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ইমানের পথে যারা চলবে তারা তাদের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে এবং জান্নাতলাভে ধন্য হবে।

ইজ্জত ও অপমান : ইমানের পথে চলার তরিকা দুটি। একটি হচ্ছে ইজ্জত-সম্মান, আরাম-আয়েশের সঙ্গে বিরতিহীনভাবে ত্বরিত গন্তব্যস্থলে পৌঁছা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে অপমান, লাঞ্ছনা-বঞ্চনা ও দুঃখ-কষ্টের সঙ্গে দেরিতে পৌঁছা। যদি রসুলের সুন্নতের সঠিক-সুন্দর অনুসরণ করা যায় তাহলে সম্মানের সঙ্গে অতি শান্তিতে ত্বরিত বিনা হিসেবে গন্তব্যস্থলে পৌঁছা যাবে, অন্যথায় দ্বিতীয় অবস্থার সম্মুখীন হতে হবে।

ইজ্জত ও আরামের সঙ্গে গন্তব্যস্থলে পৌঁছার পূর্বশর্ত ইমানের পথে এসে পুনরায় বিপথগামী না হওয়া, পদস্খলিত না হওয়া, সর্বাবস্থায় ইমানের পথে বিদ্যমান থাকা। এর জন্য প্রয়োজন দুটি পদক্ষেপের ক. আকিদা পরিশুদ্ধ করা।। ইবাদত, রিয়াজত ও অবিরাম মুজাহাদা অব্যাহত রেখে মুআমালাত- মুআশারাতের পবিত্রতা সাধন করতে হবে এবং ইখলাসের সঙ্গে সুন্নত মোতাবেক নেক আমল জারি রাখতে হবে। এর দ্বারা একদিকে ইমান শক্তিশালী হবে এবং আকিদা পরিশুদ্ধ হবে, অন্যদিকে আল্লাহর রহমত ও করুণার বৃষ্টি বর্ষিত হবে।

সব ধরনের গুনাহ থেকে সদাসর্বদা মুক্ত থাকতে হবে। অন্তরের গুনাহ যেমন অহংকার, হিংসা-প্রতিহিংসা, পরশ্রীকাতরতা, রিয়া, শিরক, নেফাক ইত্যাদি পরিহার করতে হবে। কেননা অন্তরের এ গুনাহ ইমানকে বিনষ্ট করে এবং গুনাহের বিষাক্ত ক্রিয়া মেধা ও শরীরকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়।

চিন্তার গুনাহ : অপরাধ তথা পাপাচারিতার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা। এও পরিহার করতে হবে। পাপের চিন্তাও করা যাবে না। আর মনে রাখতে হবে, চিন্তাপ্রসূত বিষয়বস্তুকে শরিয়তের বিধিবিধানের ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া মারাত্মক অপরাধ। এরূপ চিন্তাভাবনায় মনোনিবেশ করা মানে ধ্বংসাত্মক বিষয় দিয়ে মেধাকে পরিপূর্ণ করা। যা মানুষকে ধ্বংসের পথে ধাবিত করে।

দৈহিক গুনাহ : মিথ্যা কথা বলা, গিবত করা, তোহমত দেওয়া, কুৎসা রটনা; মানুষের দোষচর্চা, অশ্লীল গালাগাল, ঝগড়া-কলহে লিপ্ত হওয়া, কানে গিবত শোনা, গানবাদ্য শোনা, চোখে অপদৃষ্টি করা, বেগানা মহিলাদের দেখা, হাতে অনর্থক আঘাত করা, সুদ-ঘুষ বা অন্য কোনো হারাম বস্তু স্পর্শ করা, গলদ এবং বিভ্রান্তিকর বই-পুস্তক রচনা ও পাঠ, হারাম পথে চলা, সিনেমা হলে যাওয়া, হারাম খাদ্যদ্রব্য পানাহার করা, হারাম বস্তুর ঘ্রাণ নেওয়া, হারাম বস্তু আস্বাদন করা ইত্যাদি। এসব গুনাহের কারণে কেবল দেহই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না বরং এর দ্বারা একদিকে নিজের অন্তর ও মস্তিষ্ক বিকৃত হয়, অন্যদিকে এর বিষাক্ত ক্রিয়া পুরো সমাজকে অপরাধপ্রবণ করে তোলে; যার ফলে পুরো জাতি ইমানের পথ থেকে বিপথগামী হয়ে যায়।

লেখক : আমির, আল হাইআতুল উলয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ।