সোমবার, ২ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
ভেষজ

পুদিনাপাতা

পুদিনাপাতা

‘পুদিনাপাতা’-এ নামটা আমাদের অঞ্চলে প্রায় প্রত্যেকেরই জানা। এ পাতার গুণাগুণ প্রচুর। তবে হয়তো অনেকের জানা নেই পুদিনাপাতা সুন্দর ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ নিয়ে আজকের এ লেখা।

লবঙ্গ গুঁড়া ১০ চিমটে, পুদিনাপাতা বাটা ২ চামচ, চালের গুঁড়া দেড় চামচ, টমেটোর রস পরিমাণ মতো, বেসন ১ চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। আর এ মিশ্রণটিকে এক দিন পর থেকে প্রতিদিন মুখে লাগাতে হবে পুরো এক সপ্তাহ। মিশ্রণটিকে যদি ত্বকে লাগানো হয় তাহলে ত্বকের কালো দাগ দূর হয়। অনেক সময় দু-তিন ঘণ্টা একই সঙ্গে রোদে থাকলে মুখটা কালো হয়ে যায় এর জন্য পুদিনা পাতা খুবই উপকারী। পুদিনা পাতা বাটা, নিমপাতা বাটা, তুলসীপাতা বাটা এগুলোর একটি মিশ্রণ তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিতে হবে। রোদ থেকে বাড়িতে ফিরে তখন মুখ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর ফ্রিজে রাখা এ মিশ্রণটিকে মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর শুকিয়ে গেলে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। যদি এভাবে এক সপ্তাহ লাগানো হয় তাহলে রোদ থেকে বাড়ি ফিরলে আপনার মুখটি কালো হবে না। এ মিশ্রণটি সানপ্রোটেকশনের কাজ করে। ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত বের করতে পুদিনা পাতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে পুদিনার পরিমাণ বেশি থাকবে। পানি ৪ চামচ, পুদিনাপাতা, তুলসীপাতা বাটা ১ চামচ, মুলতানি মাটি ২ চামচ এ সামগ্রীগুলো একটি জায়গায় মিশ্রণ করে নিতে হবে। এ মিশ্রণটি মুখে লাগালে মুখের অতিরিক্ত তৈলাক্ত বের হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে পুদিনাপাতা বেটে একটি প্যাক তৈরি করতে হবে। রাতে শোবার আগে শরীরে পুরো প্যাক ভালো করে লাগিয়ে দেড় ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে শরীরের তৈলাক্ত ভাব কমে যায় এবং বাইরের ধূলিকণা থেকে ত্বককে রক্ষা করে। এছাড়াও পুদিনাপাতা চুলেরও উপকার করে। ডগা ফাটা চুলের ট্রিটমেন্টের জন্য তুলসী পাতা ২ চামচ, ২ চামচ সিকাকাই, ২ চামচ পুদিনা, ৩ চামচ আমলকী বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। তারপর এ মিশ্রণটিকে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিতে হবে। এভাবে কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করলে চুলের ডগা ফাটা বন্ধ হয়ে যাবে। চুল দ্রুত বৃদ্ধির জন্য কেশুতপাতা বাটা, জবা ফুলের কুঁড়ি বাটা, আর পুুদিনাপাতা বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। এ মিশ্রণটি পাঁচ দিন পরপর চুলে লাগালে উপকার পাবেন। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালে পুদিনাপাতার রস খেলে পেট ও শরীর ঠান্ডা থাকে।            

               

►আফতাব চৌধুরী।

এই রকম আরও টপিক