বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২ ০০:০০ টা

গৃহহীনদের গৃহদান

জনগণের মৌলিক অধিকার পূরণ

ঈদ মানে খুশি। তবে বাস্তবে এ খুশি হররোজ যাদের রোজা তাদের জীবনে বোধগম্য কারণেই মূর্তমান হয় না। জন্ম থেকেই যারা বেড়ে উঠেছে ঠাঁইহীন অবস্থায় তাদের দুর্ভোগ তো আরও বেশি। এবার ঈদে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ঘর পাচ্ছে ৩৩ হাজার পরিবার। শুধু সুদৃশ্য ঘর নয়, সংশ্লিষ্ট জমিরও মালিকানা পাচ্ছেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় ধাপে গতকাল ৩২ হাজার ৯০৪টি ঘর পেয়েছেন গৃহহীন ও ভূমিহীনরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে দেশের চার উপজেলায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উপহারের ঘর হস্তান্তর করেন। ঘরগুলো স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে দেওয়া হয়েছে। স্বামী না থাকলে শুধু স্ত্রীর নামে দেওয়া হয়। এ ৩৩ হাজার নতুন ঘরে প্রায় দেড় লাখ মানুষ স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছেন। উপকারভোগীরা ২ শতাংশ করে জমি পাচ্ছেন। একটি অর্ধপাকা দুই কক্ষের ঘর পাচ্ছেন। থাকছে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রতিটি পরিবারের জন্য রয়েছে গোসলখানা, টয়লেট ও রান্নাঘর। প্রকল্প এলাকায় প্রচুর গাছ লাগানো হচ্ছে। সুপেয় পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপিত হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পে একটি পুকুরও রয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্য থাকছে খেলার মাঠ। সব মিলিয়ে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আধুনিক গ্রামের নাগরিক সুবিধাই রয়েছে এ আশ্রয়ণ প্রকল্পে। বরগুনার ছয় উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রথম পর্যায়ে ২৩২, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৭৯৩ ও তৃতীয় পর্যায়ে ৭২৫টি ঘরের মধ্যে ৪১১টির নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। যেগুলো গতকাল ভূমিহীন ও গৃহহীনদের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে। বরগুনার বাইরে ফরিদপুরের নগরকান্দা, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ী ও চট্টগ্রামের আনোয়ারার বারখাইন ইউনিয়নের হাজিগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরও হস্তান্তর করা হয়। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়া বর্তমান সরকারের একটি প্রশংসনীয় কর্মসূচি। এর মাধ্যমে দেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের অঙ্গীকার সব মানুষের বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পালিত হচ্ছে।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর