শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২১ মে, ২০১৬ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মে, ২০১৬ ০০:০৬

বদলে যাচ্ছেন শাকিব খান

আলাউদ্দীন মাজিদ

বদলে যাচ্ছেন শাকিব খান

অতি অল্প সময়ে ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক হয়ে ওঠার গল্প কি কেউ বলতে পেরেছেন? কেউ কী পেয়েছেন এত সহজে আকাশছোঁয়া খ্যাতি। এমন অনেক কঠিন প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর একটিই, আর তা হলো— ‘না’। পেরেছেন শুধু একজনই। তিনি ঢালিউডের নায়ক শাকিব খান। আর এমন একজন সফল নায়ক যখন বলেন, অভিনয় ছাড়ছেন তখন তার ভক্ত আর চলচ্চিত্রকারদের মনের বিষণ্নতা সহজেই মাপা যায়। তাদের হাহাকার অনেক দূর থেকে শোনা যায়।

শাকিব খান সত্যিই অভিনয় ছাড়ছেন। এমন সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল তার কাছ থেকে। কোন অভিমানে অভিনয় ছাড়বেন তিনি। নাকি ক্লান্তির কাছে হার মানা তার। এমন প্রশ্নে দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় জেগে ওঠে তার কণ্ঠে। মুচকি হেসে বলেন, চলচ্চিত্র মানেই আমার মনের ঠিকানা। প্রাণের আঙিনা। নিজের নিঃশ্বাসকে বন্ধ করব কীভাবে। অভিনয় ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না। সাময়িক বিরতিতে যেতে চাই।

কিন্তু কেন তার এই বিরতির চিন্তা? বিষয়টি মুক্ত করলেন নিজেই। বললেন, ফেলে আসা দিন আর কেটে যাওয়া সময়ের কথা মনে পড়লেই মনটা যেন কেমন অস্থির হয়ে ওঠে। হিসাবের যোগ-বিয়োগ করা কঠিন হয়ে ওঠে। চোখের সামনে একটি চিত্র বার বার ভেসে ওঠে। মনে হয় আরও অনেক কিছু করার দরকার ছিল। না পারার প্রশ্ন নিজেকেই করি। নিজেই উত্তর পাই। বড় বেহিসাবি অঙ্ক কষেছিলাম। তাই ফলাফলটা ভুল হয়েছে। সব ক্ষেত্রে কম্প্রোমাইজ করতে গিয়েই এই নাকাল অবস্থা আমার। প্রতিটি সোনালি সময় আর চকচকে বসন্ত মনের মতো করে সাজাতে পারিনি। তাই বলে কী সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, মোটেও না। দেরি হলেও ফুরিয়ে যায়নি সময়। এবার নিজেকে বদলে দেব। অন্য এক শাকিব খানের জন্ম হবে। দর্শক এতদিন যাকে খুঁজে বেড়িয়েছে এবার সেই শাকিব খানকে দেখতে পাবে তারা। এমনই আত্মপ্রত্যয়ী সুর এবার শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের কণ্ঠে। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানালেন নিজের বদলে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা।

১৯৯৬ থেকে ২০১৬ সাল। টানা ২০ বছর। অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে শীর্ষ নায়ক শাকিব খানের দীর্ঘ পথচলা। ঢালিউডকে কম পূর্ণতা দেননি তিনি। চরম নায়ক সংকটে একাই ঢালিউডের ঘানি টেনেছেন। চলচ্চিত্রের মানুষ আর প্রেক্ষাগৃহ সচল রেখেছেন। বাংলা ছবিতে আবদ্ধ রেখেছেন দর্শক। নিজের বিশ্রামের সময়টুকু বরাদ্দ ছিল না তার শিডিউলে। ঈদের দিনেও ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ঢাকার সিনেমা বন্ধ হয়ে যাক তা চাননি বলেই তার এই উদার ত্যাগ। এতকিছুর পরও বিনয়ী শাকিব বলছেন চলচ্চিত্রের জন্য কিছুই করতে পারেননি তিনি। এবার নিজেকে বদলে দিয়ে ভালো কিছু করার চেষ্টা করবেন। এ জন্য একটা সীমারেখাও এঁকে দিয়েছেন তিনি। নতুন শাকিবের জন্মের জন্য ২০১৭ সালকে নির্দিষ্ট করেছেন। শাকিবের কথায় কমপক্ষে ছয়মাস অভিনয থেকে দূরে থাকব। মানে বিরতিতে যাচ্ছি আমি। এ সময়টা নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য খুবই যথেষ্ট। হাতে থাকা কাজগুলো আগস্টের মধ্যে শেষ করব। এরপর যে কাজ হাতে নেব তা শুধুই ছবি করার জন্য নয়, অর্থ বা সম্পর্কের জন্যও নয়। সত্যিকারের ছবি উপহার দেওয়া আর অভিনেতা শাকিব খানের জন্যই এখন থেকে কাজ শুরু হবে আমার। এতদিনের ভুলভাল কাজ থেকে নিজেকে বের করে আনতেই হবে। কাজের ক্ষেত্রে ইমোশনকে আর প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে বছরে একটি ছবি করব। যা থেকে ১০টি ছবির ফিডব্যাক উঠে আসবে। ছবি মুক্তি পাবে আর দর্শক তা দেখবে না। মুক্তির পর পরই তা সিনেমা হল থেকে নেমে যাবে এমন ছবি করে লাভ কী? দর্শকের মনও ভরবে না চলচ্চিত্র জগতেরও কল্যাণও হবে না।

শাকিব খান বলেন ২০১৭ সাল হবে অভিনয়ে নবজন্ম আর নির্মাণে নিয়মিত হওয়ার বছর আমার। অভিনয় আর নির্মাণ, দুই ক্ষেত্রেই যে নিজেকে শুধু বাণিজ্যিক ঘরানায় আবদ্ধ রাখব তা কিন্তু নয়। আমি কিন্তু বাণিজ্যিক বা মৌলিক বলে কোনো ছবিকে চিহ্নিত করতে চাই না। মানে আমি কোনো ধারায় বিশ্বাসী নই। আমার মতে ছবি হয় দুই ধরনের। একটি ভালো অন্যটি মন্দ। সব ছবিতেই বিনোদন থাকে। ‘হিরো-দ্য সুপারস্টারে যেমন বিনোদন খুঁজে পেয়েছে দর্শক তেমনি ‘বেলাশেষে’তেও বিনোদন আছে বলে তা তারা দেখেছে। আমি আমার নতুন অভিনয় আর নির্মাণ জীবন, মানে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসে পুরনো সব ট্র্যাক ভেঙে দিয়ে টোটাল চেইঞ্জ আনব। নিজের সঙ্গে আর কোনো কম্প্রোমাইজ নয়। নিজেই নতুন শাকিব খানের জন্ম দেব।

সিদ্ধান্ত নিতে একটু দেরি হয়ে গেল না? এমন প্রশ্নে আবারও আত্মপ্রত্যয়ী জবাব তার, না সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি। ভালো কিছু করার জন্য সময় কোনো ফ্যাক্টর নয়। ভালোর জন্ম যে কোনো মুহূর্তে হতে পারে। তাহলে এতদিনের শাকিব খানকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? এমন প্রশ্নে তড়িৎ জবাব, এতদিন ছিলাম এক অস্থির শাকিব। এবার স্থির হচ্ছি। চঞ্চলতা দিয়ে ভরা জোয়ার ডাকা যায় না। সব কিছু সুন্দর করে সাজাব। নিজের চারপাশটাকে সাত রঙে ভরিয়ে তুলব। শুধু চলচ্চিত্র জীবন নয়, ব্যক্তি জীবনেও শাকিব সাজবে নতুন সাজে। একবারেই বর্ণিল হবে সে সাজ। নতুন সাজ মানে একের সঙ্গে আরেকটি এক, মানে একে একে দুই হতে যাচ্ছেন নিশ্চয়ই?  হা...হা...হা.. এমন প্রশ্নে উচ্ছ্বসিত হাসি ফুটে ওঠে শাকিবের চোখে-মুখে। গোলাপি আভায় রাঙা হয়ে ওঠে তার টুকটুকে গাল। ঠিকই ধরেছেন ২০১৮ সালেই একাকিত্ব ভাঙতে চাই। জীবনের নতুন দুয়ারে পা রাখতে চাই। পরিপাটি করে বাসর সাজাতে চাই। আর কত দিন? জীবন তো আমার জন্য আর বসে থাকবে না। এমনিতেই বড্ড দেরি হয়ে গেছে। আর দেরি সয়না আমার। তাহলে পাত্রী পছন্দ করাই আছে? উত্তর ‘না’। এই দায়িত্বটি বাবা- মা পালন করবেন। তারা সব ঠিকঠাক করলে লক্ষী ছেলের মত চুপ করে ছাদনা তলায় বসে পড়ব। হা... হা...হা..। আর কি কি স্বপ্ন পূরণ করার বাকি আছে? ও হ্যাঁ, সুন্দর একটা বাড়ি বানাবো। ডুপলেক্স বাড়ির প্রতি মনের টানটা বেশি। ঢাকা শহরের কোনো এক অভিজাত এলাকার ছিমছাম পরিবেশে সেই বাড়িতে থাকব আমরা দুই টোনা-টুনি। মানে টোনা টুনির সংসার পাতব হো... হো... হো...।


আপনার মন্তব্য