Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৯

সিনেমা হলশূন্য ২৫ জেলা

দেশে থাকা প্রায় ১৩০০ সিনেমা হল মানসম্মত ও পর্যাপ্ত ছবির অভাবে ২০০০ সালের শুরু থেকে বন্ধ হতে হতে এখন ২৭৪টিতে এসে ঠেকেছে। যেগুলো চালু আছে সেগুলো চরম লোকসানের কবলে বন্ধের ধারাবাহিকতায় রয়েছে

আলাউদ্দীন মাজিদ

সিনেমা হলশূন্য ২৫ জেলা
কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট বাজারে ১৯৮০ সালে স্থাপিত ‘পালকি’ সিনেমা হলটিও গত সপ্তাহে বন্ধ হয়ে গেছে

দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ২৫টি জেলা এখন সিনেমা হলশূন্য। এসব জেলার মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হচ্ছে-নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঝালকাঠি, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, মৌলভীবাজার, মুন্সীগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার।

সম্প্রতি আবারও বন্ধের ধারায় ফিরেছে সিনেমা হল। সিনেমা হল মালিকদের কথায় এর কারণ হলো মানসম্মত ছবি নেই বলে দর্শকের অভাব। লোকসান গুনে কতদিন সিনেমা হল টিকিয়ে রাখা যায়? সম্প্রতি বন্ধের ধারায় যোগ হলো ফরিদপুরে ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী ‘অরোরা টকিজ’ সিনেমা হলটি। জেলার কানাইপুর, বোয়ালমারী, মধুখালী ও ভাটা উপজেলার সিনেমা হলগুলো এখন আর নেই। কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট বাজারে ১৯৮০ সালে স্থাপিত ‘পালকি’ সিনেমা হলটিও গত সপ্তাহে বন্ধ হয়ে গেছে। এই সিনেমা হলটির মালিক হলেন নওশের। তিনি ৮ মাস আগে চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী আলমগীরের কাছে সিনেমা হলটি ভাড়া দেন। আলমগীর বলেন, একদিকে ভালো ছবি নেই। অন্যদিকে মস্তান-সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে দর্শক সিনেমা হলটিতে আসতে পারে না। মহিলা দর্শকদের তুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। সিনেমা হলে চাঁদা দাবি করে। বাধা দিলে অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। এতে স্থানীয় থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। ফলে সিনেমা হলটি বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না।

লোকসানের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রাজবাড়ীর সব থেকে বড় সিনেমা হল ‘বসুন্ধরা’। এক হাজার আসনবিশিষ্ট শুধু বসুন্ধরাই নয়, একই কারণে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার আরও ১৬টি হল। অনিয়মিত প্রদর্শনী হচ্ছে দুটি হলে। দিনাজপুরের ১৯টি সিনেমা হলের ১৬টিই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। অবশিষ্টগুলোও বন্ধের পথে।  শেরপুরের ১৫টি সিনেমা হলের মধ্যে মাত্র ৬টি চালু রয়েছে কোনোভাবে। নেত্রকোনায় ১৫টি, গাইবান্ধায় ২৬টি, কুষ্টিয়ায় ৩০টি, ঝিনাইদহে ১৩টি, পিরোজপুরে ১২টি, লক্ষ্মীপুরে ১০টি, সাতক্ষীরায় ৮টি, নীলফামারীতে ২২টি, রাজবাড়ীতে ১৭টি, পাবনায় ১৯টি সিনেমা হলের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। কিশোরগঞ্জের রংমহল আর নরসিংদীর চালার চরের রুনা সিনেমা হল শিগগিরই বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

খোদ রাজধানী ঢাকায় ৪২টির মধ্যে এখন কোনোভাবে টিকে আছে ২৮টি সিনেমা হল। ঢাকার পরে চট্টগ্রামে থাকা ২০টি সিনেমা হলের মধ্যে এখন চালু আছে মাত্র তিনটি। প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দীন জানান, দেশে থাকা প্রায় ১৩০০ সিনেমা হল মানসম্মত ও পর্যাপ্ত ছবির অভাবে ২০০০ সালের শুরু থেকে বন্ধ হতে হতে এখন ২৭৪টিতে এসে ঠেকেছে। যেগুলো চালু আছে সেগুলো চরম লোকসানের কবলে বন্ধের ধারাবাহিকতায় রয়েছে। ঢাকার বাইরে মফস্বলের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। সিনেমা হলের দৈন্যদশার আরেকটি প্রধান কারণ হলো সরকার চলচ্চিত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করার পর কথা ছিল সিনেমা হলের বিদ্যুৎ বিল শিল্পের সুবিধায় নেওয়া হবে। শিল্প ঘোষণার প্রায় ৬ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবেই বিশাল অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল নেওয়া অব্যাহত রেখেছে সরকার। এতে এই লোকসানি সিনেমা হল আরও ক্ষতি ও হয়রানির মুখে পড়েছে। মিয়া আলাউদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিনেমা হল সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য গত ১০ বছর ধরে সরকারি উদ্যোগের কথা থাকলেও তা এখন পর্যন্ত মুখের কথায়ই সীমিত আছে। কখন আলোর মুখ দেখবে তা অজানা। সম্প্রতি সরকার আবারও সিনেমা হল সংস্কার ও এতে আধুনিক প্রজেক্টর স্থাপনের উদ্যোগ নিলেও তা নানা মত আর মিটিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। আদৌ তা বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তা ছাড়া জেলা শহর এই প্রকল্পের আওতায় পড়বে কিনা তা নিয়েও আশঙ্কা রয়েছে।


আপনার মন্তব্য