শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ মে, ২০২০ ২১:৪৭

শর্ত মেনে নাটকের শুটিং কতটা সম্ভব...

আলী আফতাব

শর্ত মেনে নাটকের শুটিং  কতটা সম্ভব...

করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে গত মার্চ মাস থেকে দেশের সব রকমের শুটিং বন্ধ রয়েছে। যদিও সম্প্রতি গোপনে শুটিং করতে গিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম, জাহিদ হাসান, পরিচালক আদিবাসী মিজানসহ অনেকেই। এদিকে আন্তঃসংগঠন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচন্ড হতাশা প্রকাশ করেছেন বেশির ভাগ শিল্পী-কুশলীরা। এর পরপরই করোনাকাল প্রতিরোধের লক্ষ্যে শুটিং বন্ধ রাখার পুরনো সিদ্ধান্তে শিথিলতা এনেছেন টিভি-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতারা। যার ফলে আজ থেকে যে কেউ চাইলে শুটিংয়ে অংশ নিতে পারবেন। তবে এর জন্য মানতে হবে ছয়টি শর্ত। শুক্রবার দিবাগত রাতে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয় শিল্পী সংঘসহ সংশ্লিষ্ট আরও সংগঠনের নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।  বৈঠক শেষে ১৫ মার্চ দিবাগত রাত ১২টার দিকে শুটিংয়ে শিথিলতা আনার কারণ জানায় ডিরেক্টরস গিল্ড।

এ সিন্ধান্তের ফলে মিডিয়া পাড়ায় দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেক নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীর মতে, শর্ত মেনে কাজ করতে কোনো অসুবিধা নেই। আবার অনেকের মতে, এ সময়ে এসে এসব শর্ত কতটা মানা যাবে এবং শর্ত মানলেও করোনা সংক্রমণ থেকে সবাই কতটা মুক্ত থাকতে পারবেন তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এফটিপি ও’র চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ বলেন, ‘কেউ যদি মনে করেন এ শর্ত মেনে কাজ করতে পারবেন তাহলে করবেন, অন্যথায় করবেন না। যেহেতু এ সময় সরকার কিছু কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, শপিং মল সীমিত আকারে খুলে দিয়েছে, তাই যাদের প্রয়োজন শুটিং করার তারা এ শর্ত মেনে করবেন। তবে আমি বলতে চাই, আমার কাছে জীবিকার থেকে জীবনের মূল্য বেশি। বেঁচে থাকলে অনেক কাজ করা যাবে। আমি নিজেও চাই সরকারের ছুটির সঙ্গে মিল রেখে ৩০ মে পর্যন্ত কোনো প্রকার শুটিং করব না। তবে কিছু কিছু মানুষের কথা চিন্তা করে আমাদের এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’ অন্যদিকের অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘এই নীতিমালা মেনে শুটিং করা সম্ভব। আমরা জানি করোনার এ সময়টা আমাদের অনেক দিন বহন করতে হবে। আর এ সময়টাতে আমরা যারা শুটিং করতে চাই তাদের জন্যই এ শর্ত। আমাদেরও প্ল্যান ছিল সরকারের ছুটির সঙ্গে মিল রেখে ৩০ মে পর্যন্ত সব শুটিং বন্ধ রাখব। তবে কিছু কিছু মানুষের কথা চিন্তা করে আমরা শর্তসাপেক্ষে এ শুটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি । অনেকে বলছেন তাদের শুটিং অর্ধেক হয়ে আছে, অনেকে বলছেন তাদের নাটকের কিছুটা প্যাচওয়ার্ক বাকি আছে। সব মিলিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গ নিয়ে গিল্ডের সভাপতি অভিনেতা-নির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু জানান, করোনা পরিস্থিতি বর্তমান সময়ে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে আন্তঃসংগঠনগুলো এ সময়ে শুটিং সংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও, সেটি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, সরকার সাময়িকভাবে লকডাউন শিথিল করেছে। ফলে কিছু সংখ্যক শিল্পী কলাকুশলী প্রযোজক নাটক নির্মাণ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট সংগঠনে অনুরোধ করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ মে থেকে সংশ্লিষ্ট শুটিং ইউনিট সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে সরকার এবং আন্তঃসংগঠনের নিয়মকানুন মেনে শুটিং শুরু করার ব্যাপারে সাময়িক শিথিলতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ আন্তঃসংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের যৌথ ভাষ্যে, ‘সবার কাজ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি আমরা। পাশাপাশি এ-ও মনে করি সবকিছুর ঊর্ধ্বে জীবন। এ মহামূল্যবান জীবনের কাছে সব কিছুই তুচ্ছ। আর তাই বর্তমান সময়ে যেখানে আমরা সঙ্গনিরোধ অবস্থায় আছি সেখানে অধিক লোকসমাগম স্থানে যাতায়াত কাক্সিক্ষত হতে পারে না। সে জন্য আমরা একের অধিক লোক সমাগম ঘটে এমন কাজকে আপাতত নিরুৎসাহিত করছি। নিরাপদ থাকুন। বাসায় থাকুন। জনসমাগম এড়িয়ে চলুন।’ এ তো গেল অন্তঃসংগঠন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথা।

ঈদের আগে এ সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে কথা বলেন অভিনয় শিল্পীরা। মোশাররফ করিম বলেন, ‘আমার বেশ কিছু অসম্পূর্ণ কাজ আছে। তবে আমি এখনই কোনো সিদ্ধান্তে আসতে চাই না।’ অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম বলেন, ‘আমি এখন শুটিংয়ে যাব না। তবে যারা এখনই শুটিং করতে খুব করে চাচ্ছেন তাদের জানাই ঈদ মোবারক।’

অন্যদিকে এ সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা অপূর্ব বলেন, ‘আমি আসলে আরও কিছু দিন দেখতে চাই। বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি অনেক খারাপের দিকে যাচ্ছে। এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। তবে এটাও কথা, এমন করে আর কত দিন ঘরে বসে থাকব আমরা। সময় যত যাচ্ছে আমাদের ঘরে থাকাটা অনেক কষ্টের হয়ে যাচ্ছে। যদি এমন হয় যে, সব ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুটিং করা সম্ভব। তবে ভেবে দেখব শুটিং করা যায় কি না। আমার কাছে পরিবার আগে।

এ প্রসঙ্গে কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঈদের অধিকাংশ কাজ টেলিভিশনগুলো লক করে দিয়েছে। এ অল্প সময়ের মধ্যে এ বিধিনিষেধ মেনে নতুন নাটক তৈরি করাটা কষ্টকর। তাই আপাতত শুটিং করছি না।’

নির্মাতা ও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কথার রেশ ধরে বলা যায়, কাদের স্বার্থের দিকে তাকিয়ে শুরু করা হয়েছে এ শুটিং।

 

ডিরেক্টরস গিল্ড সূত্রে জানা গেছে, কেউ শুটিংয়ে অংশ নিতে চাইলে ছয়টি শর্ত পালন করতে হবে। সেগুলো হচ্ছে-

১.            আন্তঃসংগঠনের পক্ষ থেকে করোনাকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের গাইডলাইন অনুসরণে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। শুটিংবিষয়ক স্বাস্থ্যবিধির তথ্যাবলি স্ব স্ব সংগঠন থেকে সংগ্রহ করে সেই নিয়মে শুটিং করতে হবে।

২.            লকডাউনের সময় সরকারি সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমতি সংগ্রহ করে শুটিং করতে হবে। শিল্পী, কলাকুশলীরা শুটিং সংশ্লিষ্ট যে কোনো ধরনের কাজ নিজ দায়িত্বে সম্পন্ন করবেন। এর সঙ্গে আন্তঃসংগঠন বা স্ব স্ব সংগঠন কোনোভাবেই সম্পৃক্ত থাকবে না।

৩.           শুটিং করতে গিয়ে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে, অথবা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে আন্তঃসংগঠন বা স্ব স্ব সংগঠন কোনো দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করবেন না। সম্পূর্ণ দায় বর্তাবে সংশ্লিষ্ট প্রযোজক, পরিচালক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রগ্রাহক, রূপসজ্জাশিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সবার।

৪.            বর্তমান করোনা পরিস্থিতি এবং আন্তঃসংগঠনের সিদ্ধান্ত ভালোভাবে অবগত হয়ে যারা শুটিং করতে আগ্রহী সেই শিল্পী, কলাকুশলী, প্রযোজক স্ব স্ব সংগঠনের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর এ মর্মে খুদে-বার্তা অথবা ই-মেইল পাঠাবেন। যেখানে লিখতে হবে, ‘আমি দুর্যোগকালীন সময়ে আন্তঃসংগঠনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত হয়ে নিজ দায়িত্বে স্বেচ্ছায় শুটিংয়ে অংশগ্রহণ করছি। আমি সংকটে নিপতিত হলে এর দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আমার।’

৫.            সরকার পরিস্থিতি বিবেচনায় যে ঘোষণা দেবেন সবাইকে সেটা মেনে নিয়ে কাজ করতে হবে। অথবা কাজ বন্ধ রাখার পরিস্থিতি উদ্ভব হলে তা বন্ধ করতে হবে।

৬.           আন্তঃসংগঠন এ শিথিল সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় যে কোনো সময় বাতিল করতে পারে।


আপনার মন্তব্য