শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জানুয়ারি, ২০২১ ২১:৪৪

আলোচনায় চলচ্চিত্র ও নাটকের যত নির্মাতা

আলোচনায় চলচ্চিত্র ও নাটকের যত নির্মাতা

শোবিজে চলছে সংকটময় সময়। তারপরও প্রতিনিয়ত নির্মিত হচ্ছে নতুন চলচ্চিত্র, টিভি নাটক ও ওয়েব কনটেন্ট। পুরনো-নতুন মুখ নিয়ে ভিজ্যুয়াল নির্মাতারা বানাচ্ছেন প্রচুর কনটেন্ট। কোনো কোনো নির্মাতা কাজের মুনশিয়ানার জন্য পাচ্ছেন অফুরন্ত প্রশংসা। বেশ সময় ধরে থাকছেন আলোচনায়। ফলে দর্শকদের উপহার দিয়ে চলেছেন ভালো ভালো কাজ। ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় আলোচনায় থাকা সেই নির্মাতাদের নিয়ে লিখেছেন- পান্থ আফজাল 

করোনার প্রভাবে ২০২০ সাল ছিল শোবিজ মিডিয়ার জন্য অভিশপ্ত সময়। ওই সময় তুলনামূলক কম কাজ হয়েছে। করোনার কারণে প্রায় ছয় মাস সবকিছুর শুটিং বন্ধ রাখা হয়েছিল। অনেক নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলী হয়ে পড়েছিলেন বেকার। আবার অনেক তারকা নির্মাতা-অভিনয়শিল্পী নিজের সুরক্ষার জন্য কাজই করেননি বা কম কাজ করেছেন। তবে আস্তে আস্তে পরিস্থিতি অনুকূলে এনে শোবিজে কাজ শুরু হয়। এফডিসিনির্ভর চলচ্চিত্র অঙ্গন তেমন করে সচল না হলেও বাইরের নির্মাতারা একের পর এক চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ বছর চমক ছিল,  দেশের শোবিজ মিডিয়ার ডিজিটাল প্ল্যাটফরম প্রীতি। চলচ্চিত্র ও নাটক হয়ে পড়ে অ্যাপ ও ইউটিউবনির্ভর। অসংখ্য নাটক অবমুক্ত হতে থাকে ইউটিউব ও বিভন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে। চলচ্চিত্র ও নাটকের নির্মাতারা একের পর এক ওয়েব ফিল্ম ও সিরিজ নির্মাণ করা শুরু করেন। পাশাপাশি চলে চলচ্চিত্রের নির্মাতাদের হলে মুক্তির প্রস্তুতি। নতুন বছর ২০২১। এ বছর আগের নির্মিত অনেক চলচ্চিত্র, নাটক ও ওয়েব কনটেন্ট জমা পড়ে। তবে আশানুরূপ সিনেমা হলে মুক্তি না পেলেও অসংখ্য ওয়েব কনটেন্ট মুক্তি পায়। অবমুক্তের অপেক্ষায় রয়েছে অনেক চলচ্চিত্র, ওয়েব কনটেন্ট, টিভি নাটক। বিগত কয়েক বছর ইউটিউবনিভর্র ছিল টিভি নাটক। এবারও তার ব্যতিক্রম নেই। চলছে ভিউয়ের খেলা। বর্তমানে ভিউ দিয়েই বিচার করা হয় নাটকের নির্মাতা কে হিট আর কে ফ্লপ। সিনেমা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের জন্য নির্মিত হচ্ছে। তাই এখানেও সেই একই সমীকরণের খেলা চলবে নির্মাতা ও নির্মিত ছবির ক্ষেত্রে। ভিউয়ের জন্য ভালো আয় হচ্ছে বলে অনেকেই অর্থ রোজগারের উপায় হিসেবে উৎসাহী হচ্ছে ডিজিটাল প্ল্যাটফরমের জন্য নির্মাণের দিকে। তবে আশার কথা হলো, নতুন বছরে ভালো গল্পের চলচ্চিত্র, ওয়েব ফিল্ম, সিরিজ ও নাটক নির্মাণ করছেন নির্মাতারা। আলোচনায় রয়েছেন অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন  সৈকত নাসির, শিহাব শাহীন, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, তৌকির আহমেদ, মেজবাউর রহমান সুমন, নূর ইমরান মিঠু, রায়হান রাফি, গিয়াস উদ্দিন সেলিম, নুরুল আলম আতিক, গোলাম সোহরাব দোদুল, মাহমুদ দিদার, তানিম রহমান অংশু, ইফতেখার আহমেদ, চিত্রনায়িকা রোজিনা, চিত্রনায়িকা কবরী, শাহরিয়ার নাজিম জয়, মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, অমিতাভ রেজা, অনন্য মামুন, মাসুদ পথিক, চয়নিকা চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, সানী সানোয়ার-ফয়সাল আহমেদ, গাজী রাকায়েত, শাহিন সুমন, ইস্পাহানি আরিফ জাহান, আবু রায়হান জুয়েল, রাশিদ পলাশ, বন্ধন বিশ্বাস, শামিম আহমেদ রনি, ইফতেখার শুভ, সাইদুল ইসলাম রানা, বদিউল আলম খোকন, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, সাইফ চন্দন, অরুণ চৌধুরী, প্রসূন রহমান, মীর সাব্বির, হৃদি হক, রিয়াজুল রিজু, রাজু আলীম, হোসনে  মোবারক রুমি, সৌরভ কু-ু, অঞ্জন আইচ, মানিক মানবিক, নাদের চৌধুরী, শোয়েবুর রহমান রাসেল, রহিমসহ অনেকেই। অন্যদিকে ওয়েব সিরিজ, ধারাবাহিক ও টিভি নাট্য নির্মাতাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন সৈয়দ শাওকী, আশফাক নিপুণ, সঞ্জয় সমদ্দার, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ, কাজল আরেফিন অমি, মাবরুর রশীদ বান্নাহ, শিহাব শাহীন, আদনান আল রাজিব, মুহিদুল মুহিম, রুবেল হাসান, তুহিন হোসেন, রাফাত মজুমদার রিংকু, জনাব তানভীর আহমেদ, সাগর জাহান, ভিকি জাহেদ, মাহমুদুর রহমান হিমি, তপু খান, অনিমেষ আইচ, আবু হায়াত মাহমুদ, আবু শাহেদ ইমন, মিজানুর রহমান আরিয়ান, দীপু হাজরা, ইফতেখার আহমেদ ফাহমি, ইমরাউল রাফাত, সহিদ উন নবী, ফরিদুল হাসান, গোলাম সোহরাব দোদুলসহ অনেকেই। নতুন বছরে সবচেয়ে বেশি চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন নির্মাতা সৈকত নাসির। তার হাতে রয়েছে ক্যাসিনো, বর্ডার, ক্যাশ, ঢাকা এক্সপ্রেস, আকবর ও মাসুদ রানাসহ বেশকিছু চলচ্চিত্র। অন্যদিকে আলোচনায় রয়েছে অমিতাভ রেজার ‘নাইমার রঙ’, রহিমের ‘শান’, সানী সানোয়ার ও ফয়সালের অপারেশন সুন্দরবন, আবু রায়হান জুয়েলের ‘অ্যাডভেঞ্জার অব সুন্দরবন’, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘পাপ-পুণ্য’, রাফির ‘স্বপ্নবাজি’, পরাণ, জানোয়ার ও ‘দামাল’, নাদের চৌধুরীর ‘জিন’, ইস্পাহানী আরিফ জাহানের ‘হৃদিতা’, মাহমুদ দিদারের ‘বিউটি সার্কাস’, চিত্রনায়িকা কবরীর ‘এই তুমি সেই তুমি’, দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর ‘তুমি আছ তুমি নেই’, সাইদুল ইসলাম রানার ‘বীরত্ব’, মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’, গোলাম সোহরাব দোদুলের ওয়েব ফিল্ম ‘ছক-দ্য মেজ’,  অনন্য মামুনের ‘বন্ধন’, ‘মেকআপ’ ও সাইকো’, নুরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’, তৌকির আহমেদের ‘স্ফুলিঙ্গ’, বন্ধন বিশ্বাসের ‘ছায়াবৃক্ষ’, হোসনে  মোবারক রুমির ‘অ্যান্ত্যেষ্টিক্রিয়া’, মানিক মানবিকের ‘অদ্ভুত ছেলেটি’, মীর সাব্বিরের ‘রাত জাগা ফুল’, হৃদি হকের ‘১৯৭১ সেই সব দিন, নূর ইমরান মিঠুর ‘পাতালঘর’, সাইফ চন্দনের ‘ওস্তাদ’, শোয়েবুর রহমান রাসেলের ‘নন্দিনী’, বদিউল আলম খোকনের ‘আগুন’, ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী ও জসীম আহমেদের ‘মায়ার জঞ্জাল’, প্রসূন রহমানের ‘ঢাকা ড্রিম’,  সৌরভ কুন্ডুর ‘গিরগিটি’, তানিম রহমান অংশুর ‘আদি’, অঞ্জন আইচের ‘আগামীকাল’, মিজানুর রহমান মিজানের ‘তোলপাড়’, শাহিন সুমনের ‘মাফিয়া’, সাফি উদ্দিন সাফির ‘সিক্রেট এজেন্ট’, মিজানুর রহমান লাবুর ‘যমজ ভূতের গল্প’, ইয়াসির আরাফাত জুয়েলের ‘চিৎকার’, সিবি জামানের ‘প্লানার’, ইফতেখার আহমেদের ‘মুক্তি’ প্রভৃতি। অন্যদিকে ওয়েব সিরিজ ও নাট্য নির্মাতাদের কাজের মধ্যে আলোচিত হয়েছে সৈয়দ শাওকীর ‘তাকদীর’, তুহিন হোসেনের ‘তৃতীয়জন’, আশফাক নিপুণের ‘ভিকটিম’, ‘ইতি মা’, মাহমুদুর রহমান হিমির ‘কেন?’ অনিমেষ আইচের ‘মুখ আসমান’, আবু শাহেদ ইমনের ‘আড়াই মণ স্বপ্ন’, গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘যাত্রী’, শিহাব শাহীনের ‘১৪ আগস্ট’, ভিকি জাহেদের ‘জন্মদাগ’ ও ‘ইরিনা’, মুহাম্মদ মুস্তাফা কামাল রাজের ধারাবাহিক ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’, কাজল আরেফিন অমির ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’, সঞ্জয় সমদ্দারের ‘শিফট’, ‘যে শহরে টাকা ওড়ে’, ‘পলিটিক্স’, ‘শিকল’, রাফাত রিংকুর ‘বোধ’, সুব্রত সঞ্জিবের ‘ঘুণ মিয়ার মেঘ’, মাবরুর রশীদ বান্নাহর ‘বদমাইশ পোলাপাইন’, প্রবীর রয় চৌধুরীর ‘বেস্ট ফ্রেন্ড ৩’, দিপু হাজরার ‘জয়েন ফ্যামিলি’, মহিদুল মহিমের ‘শিল্পী’, তানভীর আহমেদের ‘এক্সট্রা আর্টিস্ট’ প্রভৃতি। নির্মাতারা অনলাইনের জন্য কনটেন্ট নির্মাণে আগ্রহী হয়েছে। ভালো কিছু কনটেন্ট নির্মিত হলেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে চ্যানেলগুলো। টিভি নাটকের জন্য সুখকর নয় এ সময়। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফরম আশার আলো দেখাচ্ছে, যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়।


আপনার মন্তব্য