Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ আগস্ট, ২০১৯ ২২:৩৫

ডিজিটাল বিনোদন প্ল্যাটফর্ম: সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

অনলাইন ডেস্ক

ডিজিটাল বিনোদন প্ল্যাটফর্ম: সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

'মিডিয়াম ইজ দ্য ম্যাসেজ'। চার শব্দের ক্ষুদ্র বাক্য। এর ভেতর লুকিয়ে আছে অনেক জটিল এবং অজানা রহস্য। ধারণাটির প্রবর্তক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মার্শাল ম্যাকলুহান। বাংলায় এর অর্থ করলে দাঁড়ায় 'মাধ্যমই বার্তা' অর্থাৎ বাহন দ্বারাই বার্তাকে চিনে নেয়া।

ট্র্যাডিশনাল মিডিয়ার বাইরে পৃথিবীব্যাপী দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। ডিজিটাল বিনোদন প্ল্যাটফর্মের কথা শোনা মাত্রই যারা এগুলো সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখেন তাদের মানসপটে ভেসে ওঠে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপস এবং ভিডিও স্ট্রিমিং ওয়েবসাইট। কেননা এগুলোর মাধ্যমে যে কেউ খুব সহজেই উপভোগ করতে পারেন বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ওয়েব সিরিজ এবং চলচ্চিত্র।
প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জন্য বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। তবে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, হুলু, এইচবিও নাও ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
'কনটেন্ট ইজ দ্য কিং'। কথাটি বহুল প্রচলিত। বর্তমান সময়ে দর্শক কন্টেন্টকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। আর এসব দর্শকদের আকৃষ্ট করতে স্ট্রিমিং সাইটগুলোও নির্মাণ করছে ভিন্ন আঙ্গিকের কন্টেন্ট। পৃথিবীর সবথেকে বড় অন-ডিমান্ড ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের কথা আমরা সবাই জানি। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে  নির্মাণ করেছে অসংখ্য জনপ্রিয় টিভি শো এবং চলচ্চিত্র। মানসম্পন্ন এসব কন্টেট দর্শকদের কাছে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। অন্যদিকে, বাকি স্ট্রিমিং সাইটগুলোও গুণগত কন্টেন্ট নির্মাণে সমানতালে এগিয়ে চলছে। 

বর্তমান সময়কে বলা হয়ে থাকে ‘বিশ্বায়নের সময়’। এ যুগ হলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলার ‘বিশ্বায়নের যুগ’। তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ও দ্রুত বিস্তারের ফলে সারা বিশ্ব এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। এর ফলে মানুষ খুব সহজেই দূরবর্তী স্থান থেকে খুব সহজেই তথ্যের মিথস্ক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরাও এই বিশ্ব গ্রামের বাসিন্দা, সেহেতু বাংলাদেশের পালেও লেগেছে এর হাওয়া। বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে বেশ কিছু স্ট্রিমিং সাইট। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বায়োস্কোপ, জিফাইভ, আইফ্লিক্স এবং হইচই।

বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য এ দেশে কার্যালয় খুলেছে কলকাতা ভিত্তিক ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হইচই। সারা বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের জন্য এই অ্যাপ। আর বাংলাদেশের মেধাবী নির্মাতাদের কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতেই এখানে অফিস নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কিছুদিন আগেই হইচইয়ে মুক্তি পেয়েছে অমিতাভ রেজা চৌধুরী পরিচালিত প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘ঢাকা মেট্রো’। যা দর্শকদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে। এছাড়া, সম্প্রতি শেষ হয়েছে হইচই-এর দ্বিতীয় অরিজিনাল সিরিজ ‘মানি হানি’-এর প্রথম সিজন। তানিম নূর ও কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ওয়েব সিরিজটি প্রথম সিজনেই করেছে বাজিমাত। মূলত, সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত এই ক্রাইম থ্রিলারটি পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। উল্লেখ্য যে, হইচইয়ের ঝুলিতেও রয়েছে নতুন পুরাতন মিলিয়ে অসংখ্য চলচ্চিত্র। এই প্ল্যাটফর্মটির আরও ইতিবাচক দিক হচ্ছে দর্শকেরা যৎসামান্য মাসিক এবং বাৎসরিক সাবস্ক্রিপশন ফি'র বিনিময়েই হইচইয়ের সকল কন্টেন্ট উপভোগ করতে পারেন। এই ফি প্রচলিত সকল মাধ্যম ব্যবহার করে পরিশোধ করা যায়। বাংলাদেশ থেকে দর্শকেরা ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড ও ডিজিটাল ওয়ালেট ছাড়াও অফলাইন সাবস্ক্রিপশন স্ক্র্যাচ কার্ডের মাধ্যমে ‘হইচই-এ সাবস্ক্রাইব করতে পারবেন যা পাওয়া যাচ্ছে ঢাকার সকল মীনাবাজার ও গ্যাজেট অ্যান্ড গিয়ার আউটলেটে।

তরুণ মেধাবী নির্মাতাদের জন্য ওয়েব সিরিজগুলো উন্মোচন করেছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। প্রত্যেক নির্মাতাই স্বাধীনভাবে নিজের গল্প বলতে চান। আর এসব ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে তাঁরা পাচ্ছেন গল্প বলার স্বাধীনতা। বেশ কিছু বিধি-নিষেধ মেনে বাংলাদেশে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হয়। ইচ্ছে করলেই সব গল্প দর্শকদের দেখানো যায় না। অন্যদিকে  ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো  তরুণ নির্মাতাদের দিচ্ছে বিষয়বস্তু নির্বাচনের স্বাধীনতা। এবং এর পাশাপাশি দর্শকেরাও তাদের পছন্দমতো কন্টেন্ট দেখতে পাচ্ছেন। নির্মাণ এবং পছন্দের স্বাধীনতা, এই দুটোর কম্বিনেশনে নির্মাতা এবং দর্শকদের কাছে এই ধরনের প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রয়োজনীয়তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।


অমিত সম্ভাবনাময় এসব ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো মেইনস্ট্রিম গণমাধ্যমের বাইরে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছ। এই জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর অনডিমান্ড সার্ভিস। কেননা খুব সহজেই মোবাইল অ্যাপস এবং এইসব ভিডিও স্ট্রিমিং ওয়েবসাইটগুলোর মাধ্যমে যে কেউ উপভোগ করতে পারেন বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট। সর্বোপরি, বৈচিত্র্য ও বিনোদনমূলক কনটেন্টে ভরপুর এসব প্ল্যাটফর্মগুলোর দেশে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে; যা নিশ্চিতভাবেই আমাদের গ্রাহকদের বিনোদনের চাহিদা পূরণ করবে।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য