শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ জুলাই, ২০২০ ১৩:১৬

সুশান্তের মৃত্যুতে কলঙ্ক রটলেও কেন করনের সঙ্গ ছাড়বেন না এই তারকারা?

অনলাইন ডেস্ক

সুশান্তের মৃত্যুতে কলঙ্ক রটলেও কেন করনের সঙ্গ ছাড়বেন না এই তারকারা?

সুশান্ত সিংহ রাজপুতের অকালমৃত্যুর পর বলিডডের বহু রথী-মহীরথীর গায়েই স্বজনপোষণের দাগ লেগেছে। সে তালিকায় রয়েছেন প্রযোজক-পরিচালক করন জোহরের নামও। তা সত্ত্বেও বলিউডের বহু তারকাই করনকে নিজের মেন্টর বলে মনে করেন। 

করনের ঘনিষ্ঠ মহলের বলে পরিচিত এই তারকাদের অনেকেই তার জন্য বলিউডে জায়গা করে নিয়েছেন বলেও শোনা যায়। কেন করনের কাছের মানুষ আলিয়া-বরুণেরা? সুশান্তের মৃত্যু নিয়ে অনেকেই তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও কেন করনের সঙ্গ ছাড়তে নারাজ এই তারকারা?

করনের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে অন্যতম হলেন শাহরুখ খান। ইন্ডাস্ট্রির বেতাজ বাদশার সঙ্গে বড় পর্দায় করনের জুটি বাঁধার শুরুটা হয়েছিল ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ফিল্ম দিয়ে। ১৯৯৮ সালে করনের ওই ফিল্ম মুক্তি পাওয়ার আগেই অবশ্য তাদের বন্ধুত্বের যাত্রা শুরু।

আদিত্য চোপড়ার ফিল্ম ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ সময় থেকেই নাকি করন জোহর আর শাহরুখ খানের বন্ধুত্ব জোরদার হয়। ওই ফিল্মে করন ছিলেন আদিত্যর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর। সে সময় করন নাকি শাহরুখকে কথা দিয়েছিলেন, নিজের প্রথম ফিল্মে তাকেই হিরো করবেন। সে কথা রেখেও ছিলেন করন। তার প্রথম ফিল্ম ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-তে হিরোর ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল শাহরুখকে। আবার অনেকে বলেন, করনের ডিরেক্টর হওয়ার পিছনেও নাকি শাহরুখের হাত রয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিকে বহু সুপারহিট ফিল্ম উপহার দিয়েছেন এই জুটি।

শাহরুখের পর করনের কাছের মানুষদের মধ্যে নাম আসতে পারে কারিনা কাপুর খানের। কারিনা আর করনের বন্ধুত্ব হবে না-ই বা কেন? দু’জনেই নাকি বেজায় গসিপ করতে ভালবাসেন। হ্যাঁ! কারিনার কাছে নাকি বলিউডের সমস্ত গসিপ আগে পৌঁছায়। আর করনের সঙ্গে তার জমজমাট দোস্তির কথাটাও তো অজানা নয় কারও।

কারিনা যে করনের কাছের মানুষ, তা বেশ বোঝা গিয়েছিল একবার। ২০০১ সালে তার মাল্টিস্টারার ফিল্ম ‘কাভি খুশি কাভি গাম’-এ লিড রোলে ছিলেন কারিনা। অথচ সে সময় কারিনার ফিল্মি বাজার ততটা ভাল ছিল না। তা সত্ত্বেও অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খানের মতো সুপারস্টারদের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল তাকে। অনেকে বলেন, ওই ফিল্মের পরই নাকি কারিনার ক্যারিয়ারে চমক লাগে।

করনের কাছের মানুষদের মধ্যে শাহরুখ-কারিনাদের পাশে অনায়াসে আরও একজনের নাম জুড়তে পারে। তিনি হলেন বরুণ ধাওয়ন। ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’ দিয়ে ফিল্মি ক্যারিয়ার শুরু করা বরুণ আসলে ডিরেক্টর হতে চেয়েছিলেন। হবেন না-ই বা কেন? বাবা ডেভিড ধাওয়ন এবং ভাই রোহিত— দু’জনেই পরিচালক। তাছাড়া, করনের ফিল্ম ‘মাই নেম ইজ খান’-এ তার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরও ছিলেন বরুণ। তবে করনই নাকি বরুণকে অভিনয়ের পরামর্শ দেন। তাকে নিজের ফিল্ম ‘স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার’-এ একেবারে হিরোর রোলে নিয়ে আসেন করন। এরপর ‘বদ্রীনাথ কি দুলহানিয়া’ হোক বা ‘কলঙ্ক’— করনের ফিল্মে বারবার দেখা গিয়েছে বরুণকে।

অনেকে বলেন, করনকে আসলে নিজের গুরু মনে করেন বরুণ। গুরুপূর্ণিমার দিন করনের পায়ে হাত দিয়ে বরুণের প্রণাম করার ছবি তো একবার ভাইরালও হয়েছিল। এও শোনা যায়, করনের কথামতোই নাকি নিজের পারিশ্রমিক বাড়িয়ে দিয়েছেন বরুণ।

বরুণরা ছাড়াও মনীশ মালহোত্রের মতো ফ্যাশন ডিজাইনারও করনের ক্লোজ সার্কলের মধ্যে রয়েছেন। নামজাদা ফ্যাশন ডিজাইনার নন, বরং অভিনয় ও মডেলিংয়ের জন্য বলিউডে পা রেখেছিলেন মনীশ। তবে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’র সময় শাহরুখের পাশাপাশি তার সঙ্গেও বন্ডিং তৈরি হয়েছিল করনের।

করন জোহরের বন্ধু হওয়ার লাভও পেয়েছেন মনীশ মালহোত্রা। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-তে তাকেই ফিল্মের কস্টিউম ডিজাইন করার দায়িত্ব দেন করন। এরপর থেকে নিজের বহু ফিল্মে ওই রোলে বারবারই দেখা গিয়েছে মনীশকে। এমনকি করনের পার্টি হোক বা কোনও ইভেন্ট— সব কিছুতেই নজরে পড়ে মনীশ মালহোত্রর উপস্থিতি।

ইন্ডাস্ট্রির উঠতি তারকাদের বেশ ঘনিষ্ঠ করন। ভিকি কৌশলকে দেখুন! ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’-এর অ্যাসিন্ট্যান্ট ডিরেক্টর ভিকিকে ‘লবসব তে চিকেন খুরানা’ বা ‘বম্বে ভেলভেট’-এ দেখা গিয়েছে ছোটখাটো রোলে। সেখান থেকে এই মুহূর্তে বলিউডের নজরকাড়া অভিনেতাদের মধ্যে থাকা ভিকিকে নাকি কাছে টেনে নেন করনই।

২০১৫-তে ‘মশান’ করার পর থেকেই ভিকি কৌশলের বাজারদর চড়া হতে শুরু করে। সে সময়ই নাকি করনের নজরে পড়েন ভিকি। এর পর করনের পার্টিতে নিয়মিত যাতায়াত শুরু হয় তার। এখন তো করনের ঘনিষ্ঠদের মধ্যে একজন হলেন ভিকি। না হলে করনের কথায় ‘ভূত’-এর মতো ফিল্ম করতে রাজি হয়ে যান তিনি! প্রশ্ন অনেকের। তিনি এর প্রতিদানও পেয়েছেন বলে শোনা যায়। ‘তখ্ত’-এর মতো ফিল্মে নাকি ভিকির রোলও বাড়িয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ করা হচ্ছে। লাকি ভিকি!

বলিউডে আরও একজনকেও লাকি বলে ডাকা যেতে পারে। তিনি হলেন সিদ্ধার্থ মালহোত্র। সাকুল্যে ১২টা ফিল্ম রিলিজ করেছে তার। বক্স অফিসে সেগুলো যে সুপারডুপার হিট, তা বলা যাবে না। তা সত্ত্বেও বড় ব্যানারে দেখা যায় তাকে। নেপথ্যে যে করন জোহর, সে কথা বলেন নিন্দুকেরা।

নিন্দুকেরা আড়ালে যা-ই বলুন না কেন, সিদ্ধার্থ প্রকাশ্যেই করনের গুনগান করেন। তাকে বডিউডে আনার পিছনে যে করনের হাত রয়েছে, সে কথাও সরাসরি বলেন সিদ্ধার্থ।

করনের কথা নাকি অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন আলিয়া ভাটট। কোনও প্রজেক্টে হাত দেওয়ার আগে তার সঙ্গে পরামর্শ করেন। আর একবার তো আলিয়া প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, করন তার কাছে বাবার মতো।

করনের কথা শুনেই নাকি সুশান্ত সিংহ রাজপুতের সঙ্গে ‘রাবতা’-য় কাজ করতে রাজি হননি আলিয়া। সে সময় ‘শুদ্ধি’ বলে করনের একটি ফিল্মে কাজ করার কথা ছিল তার। তবে সে ফিল্মটি দিনের আলো দেখেনি। তা সত্ত্বেও করনের বহু ফিল্মেই বারবার দেখা গিয়েছে আলিয়াকে। সুশান্তের মৃত্যুর পর অনেকেরই প্রশ্ন, করনের কাছের মানুষ হয়ে উঠতে পারলে কি এই পরিণতি হত তার? উত্তরটা কোনও দিনই মিলবে না!

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর