শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ১৪:১২

'করোনাভাইরাস ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর নির্দেশনার প্রয়োজন হয়নি'

শওগাত আলী সাগর

'করোনাভাইরাস ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী ট্রুডোর নির্দেশনার প্রয়োজন হয়নি'
শওগাত আলী সাগর

করোনাভাইরাস নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কোনো ‘নির্দেশনা’ দেননি। তেমন কিছু বলেছেন বলে চোখে পড়েনি। তিনি জানেন, এটা তার কাজ না। এটা দেখভাল করার জন্য সরকারের বিভাগ আছে, লোকজন আছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তি চিহ্নিত হ্ওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্যটি সাংবাদিক সম্মেলন করে জনগনকে জানিয়েছেন অন্টারিওর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। কানাডিয়ানদের জন্য ঝুঁকিটা যে নিচের দিকে সেটিও তিনি জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বা নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা না করেই স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নিচ্ছে। মিডিয়াকে যতটুকু তথ্য দেয়ার সেটা দিচ্ছেন প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

মিডিয়া একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে। তারা সরকারকে, চিকিৎসকদের, স্বাস্থ্য বিভাগকে ২০০৩ সালের অভিজ্ঞতাটা মনে করিয়ে দিয়েছে। ২০০৩ সালে প্রথম যখন ‘SARS’ ভাইরাসে আক্রান্ত একজন চিহ্নিত হয়, তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তার পরিবারের অপর সদস্যকেও। মোটামুটি ‘SARS’ ভাইরাসের ধাক্কাটা সামলে ফেলে কানাডা। কিন্তু আক্রান্ত ব্যক্তি যে অন্য কারো সাথে মিশতে পারে, অন্য কেউ সংক্রামিত হতে পারে- সেটা গুরুত্ব দিয়ে তখন খোঁজ করা হয়নি। ফলে পরের ধাক্কায় বেশ কজন নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে ‘SARS’ ভাইরাসে। ২০০৩ সালের ঘটনা শুরুতেই সবার নজরে নিয়ে আসে মিডিয়া।

স্বাস্থ্যবিভাগ সেই ঘটনা থেকে এবার শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তার স্ত্রীকে নিয়ে আসা হয়। স্ত্রীও আক্রান্ত- সেটা প্রমাণিত হযেছে। চীন থেকে টরন্টোয় আসার পর এরা কোথায় কোথায় গেছেন, কাদের সাথে মিশছেন সবাইকে খুঁজছে টরন্টোর স্বাস্থ্য বিভাগ। যে ফ্লাইটে তিনি টরন্টো এসেছেন- সেই ফ্লাইটে তার আশপাশ দিয়ে আসা যা্ওয়া করা যাত্রী, পাশে বসা যাত্রী এমন কি তার সংশ্পর্শে আসা সবাইকেই খুঁজছে টরন্টোর স্বাস্থ্য বিভাগ। করোনাভাইরাসটা যেনো ছড়িয়ে না পড়ে- সে জন্য প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। না, এর জন্য প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নির্দেশ বা নির্দেশনার প্রয়োজন হয়নি। নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতালগুলো, চিকিৎসকরা।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: প্রকাশক ও সম্পাদক, নতুন দেশ ডটকম

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য