শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ আগস্ট, ২০২০ ২১:৫৪

তথ্যবিকৃতি থেকে জাতিকে মুক্তি দেয়ার দায়িত্ব ইতিহাস সংশ্লিষ্ট সকলের

আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম

তথ্যবিকৃতি থেকে জাতিকে মুক্তি দেয়ার দায়িত্ব ইতিহাস সংশ্লিষ্ট সকলের
আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক (ফাইল ছবি)

শুভ জন্মদিন রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক ভাই। কাল রাত থেকে আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে কেউ কেউ ‘বঙ্গবন্ধু’ শব্দটির স্রষ্টা বা প্রথম বঙ্গবন্ধু উপাধিদাতা হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। 

আপনি স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সাথে না থেকে সিরাজুল আলম খান আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে জাসদে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন সে দল করেছেন। জাসদের তৎকালীন কর্মকাণ্ড এবং পরিণতি সবার জানা। সেদিকে আমি যাচ্ছি না। বেশ কয়েক বছর আপনি মুলধারায় লেখালেখি করছেন। আপনার সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই মধুর। আজকাল মুক্তিযুদ্ধ এবং পূর্বাপর সময় সম্পর্কে তথ্য বিকৃতির মচ্ছব চলছে। সদ্যপ্রকাশিত সিরাজুল আলম খানের তথ্যবিকৃতি ভরা পুস্তকসহ কোন কোন মন্ত্রীর পুস্তকও সমালোচনার শীর্ষে। এ যেন স্বরচিত রবীন্দ্র সংগীত! এ সময়ে বঙ্গবন্ধু উপাধি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসকে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াসে এসব করা হচ্ছে কিনা তাও আমাকে ভাবাচ্ছে। আসলে প্রত্যেকটি শব্দই পুরাতন। যথাসময়ে যথাস্থানে প্রয়োগের মাধ্যমে তা মহিমান্বিত হয়। বঙ্গবন্ধু শব্দটির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে বলেই আমার বিশ্বাস। আগরতলা ষরযন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির পর ১৯৬৯ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত সম্বর্ধনা সভায় সারা বাংলার ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে তৎকালীন DUCSU VP তোফায়েল আহমেদ বাংলার অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধি প্রদান করেন। এটাই সত্য এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। হতে পারে তোফায়েল আহমেদ সাহেব একা সিদ্ধান্ত নেননি, নিয়েছিল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। কেউ না কেউ হয়ত প্রস্তাব করেছিলেন বা প্রথম আলোচনায় এনেছিলেন। সে বিষয়টি মনে হয় প্রাসঙ্গিক না। প্রাসঙ্গিক হচ্ছে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে তোফায়েল আহমদের ঘোষণা। তাই তথ্যবিকৃতির এ মিছিলের যুগে নতুন কোন বিকৃতি থেকে জাতিকে মুক্তি দেয়ার দায়িত্ব ইতিহাস সংশ্লিষ্ট সকলের। আমি বিশ্বাস করি ইতিহাস যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথস্থানে মূল্যায়ন করবে।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর