Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর, ২০১৫ ১৩:৪০

পঞ্চগড়ে মিলেছে গাঙটিটির দেখা

সরকার হায়দার, পঞ্চগড়:

পঞ্চগড়ে মিলেছে গাঙটিটির দেখা

মহাবিপন্ন পাখি গাঙ টিটির দেখা মিলছে পঞ্চগড়ের নদীগুলোতে। ২ বছর আগেও খুব বেশি চোখে পড়েনি এই পাখি। অবশ্য এক দশক আগে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াতো নদী টিটি। যেন হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া। জেলার মহানন্দা, করোতোয়া, ডাহুক, চাওয়াই সহ বেশ কিছু নদীতেই এখন এদের দেখা মিলছে। তবে খুবই কম। ভাল নাম নদী টিটি। নদীতেই এই পাখির বিচরণ বলে নাম হয়েছে নদী টিটি।  নদীর আরেক নাম গাঙ। গাঙ টিটি নামেই এই পাখিটিকে এ অঞ্চলের সবাই চেনে।

পঞ্চগড়ের পাখি পর্যবেক্ষক ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবা বলছেন, 'গাঙটিটি আবার পঞ্চগড়ের নদীগুলোতে ফিরে আসছে। দেশের অন্য নদীগুলোর চরগুলোতে বসবাস এবং নগরায়ন শুরু হওয়ায় এই অঞ্চলের নদীগুলোকে তারা নিরাপদ ভাবছে।'

গাঙটিটি নদী ও খাঁড়ির বালুতট এবং নুড়িসমৃদ্ধ এলাকায় বাস করে। পঞ্চগড়ের নদীগুলোতে হিমালয় থেকে বালির সাথে ভেসে আসে নুড়ি পাথর।  গাঙটিটি নুড়ি পাথর, বালি দিয়ে বাসা বেঁধে ডিম পাড়ে। নুড়ি পাথর আর গঙটিটির জলপাই রংয়ের ডিম মিলে মিশে ছদ্মবেশের আবহ তৈরী করে। শত্রুর হাত থেকে এভাবেই তারা ডিম রক্ষা করে। শত্রুকে ফাঁকি দেয়ার জন্য আরেকটি মজার কান্ড করে এই পাখি। নিজেদের বাসার আশে পাশে মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর উপস্থিতি টের পেলে তারা বাসা ছেড়ে অন্য স্থানে গিয়ে জোরে জোরে ডাকাডাকি করে, যাতে ওই প্রাণীটি বুঝতে পারে তার বাসাটি ওখানে।

স্ত্রী গাঙটিটি তিন-চারটি জলপাই রঙের ডিম পাড়ে । ২২-২৪ দিনে বাচ্চা ফোটে। পা ও ঠোঁট ছাড়া সদ্য ফোটা বাচ্চাগুলো দেখতে একদম ডিমের রঙের মতোই মনে হয়। ডিম থেকে বের হয়ে ২৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই বাচ্চারা মা-বাবার সঙ্গে বাসা ছেড়ে হাঁটা দেয়। খাবারের অন্বেষণ শুরু করে।  গায়ের রংয়ের জন্যই এরা সহজেই পরিবেশের সঙ্গে মিলেমিশে ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে। বিপদের গন্ধ পেলে বা মা-বাবার সংকেত পেলে মুহূর্তের মধ্যে বাচ্চারা মাটির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

এরা একাকী, জোড়ায় জোড়ায় অথবা পাঁচ ছয়টি মিলে ছোট ছোট ঝাঁকে বিচরণ করে। চমৎকার ভঙ্গিতে হেঁটে হেঁটে ঠোট দিয়ে খাবার খায়। এদের বালির মধ্যে মুখ ডুবিয়ে খাবার খোঁজার দৃশ্যটি দারুন উপভোগ করার মতো। কীটপতঙ্গ, ছোট ব্যাঙ ও ব্যাঙাচি, কাঁকড়া জাতীয় প্রাণী এদের প্রধান খাবার। ভোরবেলা ও সন্ধ্যার আগে এবং চাঁদনি রাতে বেশ সক্রিয় থাকে এরা। এ অঞ্চলের মানুষ মনে করে এ পাখি হা টি টি টি - হা টি টি টি বলে ডাকে। নদী টিটি পায়রা আকারের পাখি। লম্বায় ২৯-৩২ সেন্টিমিটার। ওজন ১৬০-১৬৫  গ্রাম। পিঠের রং বেলে-বাদামি। মাথার খোঁপা, মাথা, ঘাড়, মুখমন্ডল ঠোঁট ও বুকের ওপরের অংশ কালো। বুক ধূসর-বাদামি। পেট সাদা ও পেটের মাঝখানটা কালো। লেজের শেষ প্রান্ত, পা, আঙুল ও নখ কালো। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম হলেও আকারে পুরুষগুলো খানিকটা বড় হয়। বাচ্চাদের মাথায় সাদা ফোঁটা এবং পিঠে হলুদ ও গাঢ় দাগ থাকে।। মার্চ থেকে জুন এদের প্রজনন মৌসুম। একযুগ আগেও সারাদেশের নদীগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে দেখা মিলত নদী টিটির। বর্তমানে তাদের দেখা পাওয়া বিরল ঘটনা। সারা বিশ্বে পাখিটিকে মহাবিপন্ন হিসেবে ধরা হয়। নদীর চরে বসবাস, চাষাবাদ ও অপরিকল্পিত নগর গড়ে ওঠায় প্রতিবছর এদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। কয়েকবছর আগে পদ্মা-যমুনায় টিটির উপর এক বিশেষ শুমারি হয়েছে। তাতে ব্যপক হারে নদী টিটির কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গাঙ টিটির ইংরেজী নাম River Lapwing বা Spur-winged Lapwing।

বিডি-প্রতিদিন/১৬ নভেম্বর ২০১৫/ এস আহমেদ


আপনার মন্তব্য