শিরোনাম
প্রকাশ : ৫ মার্চ, ২০২০ ১৪:৩৩

কচু শাকে চলছে জীবন

সরকার হায়দার, পঞ্চগড়

কচু শাকে চলছে জীবন

পঞ্চগড়ে ২০ বছর ধরে কচু শাক বিক্রি করে জীবন অতিবাহিত করছেন এক নারী। জেলা শহরের সবজি বাজারের রাস্তায় বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন তার দেখা মেলে। রাস্তার উপরেই বসেন তিনি। সামনে চটের বস্তা বিছিয়ে কচুশাক, ঢেঁকিশাক, তিতারী শাকসহ বনজ নানা ধরনের শাক সাজিয়ে রাখেন। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় না। কয়েকঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যায় সব। বনজ এবং অর্গানিক বলে ক্রেতারাও খুশি হয়ে কেনেন এসব শাক। শহরের প্রায় অনেকেই তার সংগ্রহের কচু শাক খেয়েছেন। তৃপ্তিও পেয়েছেন। সারাদিন কচু শাক সংগ্রহ করে বিকেলে শহরে বিক্রি করেন তিনি। আবাদ করার জন্য জমি নেই তার। শাক বিক্রি করেই এক খণ্ড ভিটেবাড়ির মাটি কিনেছেন তিনি। একটি বাড়িও করেছেন। ভিটেবাড়ি ছাড়া কোন জমি নেই তার।

 

পঞ্চগড়সহ আশে পাশের জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কচু শাক সংগ্রহ করেন তিনি। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত খামারের আল, বন জঙ্গল থেকে কচু শাক, ঢেঁকিশাক, তিতারি সংগ্রহ করেন। শাক বিক্রি করেই নিজের চার ছেলে মেয়েকে লেখা-পড়া করাচ্ছেন। তার নাম আকতারা বানু (৪০)। সদর উপজেলার ধাক্কামাড়া ইউনিয়নের টেংগন মারি গ্রামের ভ্যানচালক আফাজুল ইসলামের স্ত্রী তিনি। আকতারা বানু জানান, তার মা এবং নানী এই ব্যবসা করতেন। তাদের কাছ থেকেই শেখা। বর্তমানে তার মা মমেনা খাতুন (৬৫) তার কাছেই থাকেন। খুব সকালে মা মমেনা খাতুনসহ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তারা। শহর থেকে দূরের প্রান্তে গিয়ে ধানক্ষেত, গম ক্ষেত বা অন্যান্য ক্ষেতের আলে গজিয়ে ওঠা কচু শাক সংগ্রহ করেন। বিভিন্ন ঝোঁপ ঝাড়, বন জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করেন নানা জাতের শাক। তারপর বিকেল বেলা চলে আসেন বাজারে। এসব শাক বিক্রি করে প্রতিদিন তারা আয় করেন ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা। তিনি জানান, শাক সংগ্রহ করতে শুধু পঞ্চগড়ে নয় আশে পাশের জেলাগুলোর বিভিন্ন গ্রামেও চলে যান তারা। আকতারা বানুর ৪ চার সন্তান। প্রত্যেকেই মেধাবী। তাই কষ্ট হলেও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আকতারা বানু জানান, তার কোন চাওয়া পাওয়া নেই। তার লক্ষ্য, একটাই ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করা। তিনি বলেন, আমি আর আমার মা এই ব্যবসা করি। ক্ষেত খামারের আল আর ঝোঁপ ঝাড়, ছোট জঙ্গলে এসব শাক পাওয়া যায়। আমরা জানি কোথায় কোথায় এসব শাক পাওয়া যায়। কোন এলাকায় কখন গেলে শাক পাওয়া যাবে তাও আমরা জানি। তবে কচু শাকই বেশি পাওয়া যায়।

প্রায়ই তার কাছে শাক কেনেন ডোকোরোপাড়া এলাকার নাসরিন আকতার (২০) । তিনি জানান, আকতারা বানুর শাকগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু। আমি অনেক ছোটকাল থেকেই তাকে শাক বিক্রি করতে দেখছি।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরস্পরের নির্বাহী পরিচালক এবং জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য আক্তারুন্নাহার সাকি জানান, আমি প্রায়ই আকতারা বানুর কাছ থেকে শাক কিনি। দীর্ঘদিন থেকে তিনি অনেক কষ্ট করে এই ক্ষুদ্র ব্যবসাটি চালিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। তাকে সরকারি-বেসরকারি অনুদান দেয়া প্রয়োজন। 

বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য