শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৫:৫২
প্রিন্ট করুন printer

ঘাস চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক

দিনাজপুর প্রতিনিধি

ঘাস চাষ করে স্বাবলম্বী কৃষক

নেপিয়ার বা পাকচং ঘাস গরু, ছাগল, মহিষসহ গবাদি পশুর উপকারী ও উৎকৃষ্ট খাদ্য। গরু, ছাগলের বেশি দুধের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রোটিন সমৃদ্ধ এই ঘাস পশুর খাদ্য চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ফলে খামারীদের কাছে এই ঘাসের চাহিদা রয়েছে। চাহিদা থাকায় গরু খামারীদের অনেকে নিজের প্রয়োজনে চাষ করেন, আবার অনেকে ব্যবসায়ের জন্যে এই নেপিয়ার বা পাকচং ঘাস চাষ করে লাভবান হয়েছেন। শুধুমাত্র এই ঘাস চাষ করেই দিনাজপুর সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ এলাকার কৃষক মিলন, মশিউরসহ অনেকেই আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন। 

নেপিয়ার বা পাকচং ঘাসের প্রচুর চাহিদা থাকায় ভ্যানে করেও এ ঘাস বিক্রয় করতে দেখা যায়। একবার চারা রোপন করলে ৫ বছর ধরে ক্রমানুসারে চারা গাছ হতে থাকে। অর্থাৎ ঘাস বড় হলে কাটার পর আবার ঘাসের মুরা থেকে চারা উঠতে থাকে। তাই অনেক কৃষক পাকচং ঘাস চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

দিনাজপুর সদরের গোপালগঞ্জ এলাকার কৃষক মিলন বলেন, প্রায় ১১ বিঘা জমি লিজ নিয়ে নেপিয়ার বা পাকচং ঘাস চাষ করেছি। জমিতে ইউরিয়া, পটাশ, ড্যাব ও সালফার সার ব্যবহার করতে হয়। জমিতে প্রচুর পরিমানে পানি লাগে। ফলন ভাল। জমিতে চারা লাগানের পর প্রায় ৫০ দিন থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ঘাস কাটার উপযোগী হয়। পূর্নাঙ্গ ঘাসটি ৫ ফুট থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। বছরে ৫ থেকে ৬ বার ঘাস কাটা যায়। প্রতিবারে বিঘা প্রতি ঘাস উৎপাদনে ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয় এবং বিক্রয় করলে ১৫-১৮ হাজার টাকা আয় হয়। প্রতি আটি ঘাস বিক্রয় হয় ৭-৮ টাকা দরে। কিন্তু শীত মৌসুমে ঘাসের দাম বেশী থাকে। আর প্রতি বছর এক বিঘা জমি লিজ নিতে ১৫ হাজার হতে ১৬ হাজার টাকা জমির মালিককে দিতে হয়। এরপরেও এটা লাভজনক। 

আরেক কৃষক চিরিরবন্দর উপজেলায় হাটখোলা গ্রামের মশিউর রহমান জানান, ১৫ বছর যাবত খালাতো ও চাচাতো ভাই সবাই এই চাষ করেন। শেখপুরা ইউপির গোপালপুর গ্রামের তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে ঘাস চাষ করেছি। ৫৪ হাজার টাকা প্রতি বছরে জমির মালিককে দিতে হয়। ৬-৭টি ঘাস দিয়ে আটি তৈরী করে বিক্রয়ের উপযোগী হয়। ঘাসের চারাও বিক্রয় হয় প্রতি বস্তা ৬০০ টাকা দরে। সেটি ঘাসের মুরাগুলো। তিনি আরও জানান, সদর উপজেলায় নয়, চিরিরবন্দর নিজ এলাকায় আরও ৪ বিঘা জমি লিজ নিয়ে পাকচং ঘাস চাষ করছেন। চিরিরবন্দর উপজেলাতে এই নেপিয়ার ঘাসের চাষ বেশী হয়। 

এ ব্যাপারে দিনাজপুর সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, অনেক কৃষক পাকচং ঘাস চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এই ঘাসে রয়েছে প্রায় ১৪% প্রোটিন। স্বাস্থ্য সম্মত উৎকৃষ্ট মানের এ ঘাস পশুর খাদ্যের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। 

তিনি আরও জানান, সদর উপজেলাতেই প্রায় ৩০ একর জমিতে পাকচং ঘাস চাষ হচ্ছে। উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে পাকচং ঘাস চাষে কৃষকদের বিনামূল্যে চারা সরবরাহ করা হয় এবং ঘাস চাষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

 

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ