Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৯

ট্রাম্পে অতিষ্ঠ আমেরিকানরা রাজপথে, ৪৬ শহরে বিক্ষোভ

প্রতিদিন ডেস্ক

ট্রাম্পে অতিষ্ঠ আমেরিকানরা রাজপথে, ৪৬ শহরে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের চেতনা আর মূল্যবোধ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এই অভিযোগে রাজপথে বিক্ষোভ করেছে লাখো আমেরিকান। সোমবার ছিল ‘প্রেসিডেন্ট ডে’, এই দিনটি উপলক্ষেও লাখো আমেরিকান রাজপথে নামেন ‘নট মাই প্রেসিডেন্ট’স ডে’ ব্যানারে। নিউইয়র্কসহ ৪৬ শহরে একযোগে এ বিক্ষোভ হয়। নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে প্রধান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অনেকের হাতেই ছিল ট্রাম্পকে অভিশংসনের পোস্টার। অর্থাত্ দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক এক মাসের মাথায়ই এই প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে বিতশ্রদ্ধ হয়ে উঠেছেন আমেরিকানরা। এর আগের দিন অর্থাত্ রবিবার নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কোয়ারে ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিনব আরেকটি কর্মসূচি পালিত হয় ‘টু-ডে আই এ্যাম মুসলিম টু’ (আজ আমিও মুসলমান) ব্যানারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষিত গত এ কর্মসূচিতে সব ধর্ম-বর্ণ আর জাতিগোষ্ঠীর আমেরিকানরা জড়ো হয়ে মুসলমানদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো আয়োজকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের কথা বলার অধিকার রয়েছে, মতপার্থক্য প্রদর্শনের অধিকারও রয়েছে এবং নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম করার অবাধ সুযোগ রয়েছে। এসবই হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির গৌরবগাথা। এটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সুমহান ঐতিহ্য। সব বর্ণ আর ধর্মের মানুষের দ্বিমত পোষণের অধিকারও সুরক্ষিত হয়েছে আমেরিকার সংবিধানে।’

মুসলিম-আমেরিকানদের দায়িত্ব-নিষ্ঠার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘এই শহরের পুলিশ বিভাগে ৯০০ মুসলিম অফিসার রয়েছেন, তারা সবাই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন সব অধিবাসীর নিরাপত্তায়। অর্থাত্ আমাদের সবার নিরাপত্তায় তারা কাজ করছেন সততা আর আন্তরিকতার সঙ্গে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘এই দেশটি গড়ে উঠেছে নিজ দেশে বহুবিধ দমন-পীড়নে অতিষ্ঠ লোকজনের মাধ্যমে, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে প্রাণনাশের আশঙ্কায় পালিয়ে আসা মানুষজনের আন্তরিক আগ্রহে। আমাদের এই দেশটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সব মানুষকে শ্রদ্ধা জানানোর অভিপ্রায়ে এবং সেই নীতি ও আদর্শকে সুরক্ষায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা প্রতিটি জেনারেশনেই গণতন্ত্র সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর ছিলাম, এখনো আছি। এক্ষণে একটি কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, যদি ধর্ম বা জাতীয়তা অথবা বর্ণের কারণে কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে ধরে নিতে হবে যে, আমরা সবাই আক্রান্ত হয়েছি এবং এই বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। রুখে দাঁড়াতে হবে নাগরিক অধিকার হরণকারীদের বিরুদ্ধে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ এবং জুডি গোল্ডের উপস্থাপনা ও পরিচালনায় সমাবেশ শুরু হয় জাতীয় সংগীতের পর ইসলাম, খ্রিস্টান ও জুইশদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে।  নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান রোবার্ট ক্যারল, সিটি কাউন্সিলম্যান বেন ক্যালোস, রোরি ল্যান্সমেন এবং ব্র্যাড ল্যান্ডার।

এনআরবি নিউজ।


আপনার মন্তব্য