শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ মার্চ, ২০১৭ ২৩:২৮

পরিকল্পনা ছিল বড় নাশকতার

চট্টগ্রামে জঙ্গি আস্তানা থেকে বিপুল অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিকল্পনা ছিল বড় নাশকতার
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে গতকাল জঙ্গি আস্তানায় অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার অভিযানে বিশেষ পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সদস্য —বাংলাদেশ প্রতিদিন

এবার চট্টগ্রামে বড় ধরনের জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ওই আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক হাতবোমা, চাপাতি ও বিস্ফোরক। উদ্ধার হয়েছে কালো পাঞ্জাবি, পতাকা। এ অভিযানের ফলে জঙ্গিদের আরও একটি বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। কুমিল্লায় পুলিশের ওপর বোমা হামলাকারী দুই যুবকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে ছোট-বড় ২৯টি গ্রেনেড, সাতটি কালো পাঞ্জাবি, আরবি অক্ষরে লেখা কালো রঙের একটি ব্যানার, ছোট-বড় নয়টি চাপাতি, ২৮০ প্যাকেট বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ৪০ প্যাকেট জেল, চাপাতি ও বিস্ফোরক। রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান হামলার পর ঠিক এ ধরনের কালো পাঞ্জাবি পরিহিত ছবি জঙ্গিরা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ নামের ওয়েবসাইটে আপলোড করেছিল। পরবর্তী সময়ে রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ার জঙ্গি আস্তানায়ও পাওয়া যায় একই ধরনের কালো পাঞ্জাবি ও পতাকা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়িটিতে নব্য জেএমবির সদস্যরা বিস্ফোরক তৈরি করত বলে প্রাথমিক তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। উদ্ধার গ্রেনেড এবং অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালানো সম্ভব। তবে বড় ধরনের কোনো ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে এটা আমরা বলতে পারি।

আমাদের একাধিক টিম এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।’ তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গ্রেফতার মাহমুদ হাসানকে নিয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ, সিটিটিসি ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যৌথভাবে বুধবার ভোররাতে মিরসরাইয়ের ‘রিদওয়ান ভবন’ নামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। এই বাড়িতেই থাকতেন গ্রেফতার মাহমুদ হাসান ও জসীম। বাড়িটি নব্য জেএমবির আঞ্চলিক অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে ধারণা গোয়েন্দাদের। এই আস্তানায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল এমন ১০ জন জঙ্গির নাম ইতিমধ্যে উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ। সূত্র আরও বলছে, গ্রেফতার জসীমের কাছ থেকে জহিরুল ইসলাম নামের জাতীয় পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ওই পরিচয়পত্রে বাবার নাম আবদুল মজিদ। মা জাহানারা বেগম। ঠিকানা টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাইপাস, তিন রাস্তার মোড় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই মধ্যে উদ্ধার জাতীয় পরিচয়পত্রটি যে ভুয়া তা নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তবে একাধিক সূত্র থেকে পুলিশ অনেকটাই নিশ্চিত, জসীম ওরফে জহিরুলের প্রকৃত নাম ইমতিয়াজ আহমেদ। তার বাবার নাম কবীর আহমেদ। গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ। রাজধানীর সানবীম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে এ লেভেল পাস করেন জসীম। এক বছর ধরেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার শাহ্ আবিদ হোসেন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মাহমুদ হাসানের কাছ থেকে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও জসীমের কাছ থেকে এখনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদায় করা সম্ভব হয়নি। আহত হওয়ার কারণে তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে চান্দিনা, পরে মিরসরাইয়ে অভিযানের পর মিরসরাই থানায় আরেকটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল অভিযানের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মীনা জানান, জঙ্গি আস্তানা গড়ে তুলতে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়। ভাড়া নেওয়ার সময় জঙ্গিরা নিজেদের কাপড় ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দেন। নিজেদের নাম কামাল ও মাহমুদ বলে জানান তারা। এ নামেই ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেন বাড়ির মালিকের কাছে। অভিযানে বাড়িটি থেকে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। মাহমুদুল কুমিল্লায় গ্রেফতার হওয়ার পর অন্যরা এ বাসা ছেড়ে পালায় বলে জানান চট্টগ্রামের জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা। বাড়ির মালিক রিদওয়ান উদ্দিন জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে তার দোতলা ভবনের নিচতলার একটি ইউনিট ভাড়া দেন। শিশুসহ এক নারী ও দুজন পুরুষ বাসাটি ভাড়া নেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি শিশুসহ ওই নারী বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে চলে যান। সোমবার পুরুষ দুজনও বাসা থেকে বের হন। পরে জানা গেল তারা জঙ্গি এবং কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল মান্নান বলেন, নব্য জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা মুসা এ বাসায় যাতায়াত করত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের ঘটনায় কুমিল্লার চান্দিনা থানায় এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই থানায় দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেফতার দুজন ছাড়াও আরও এক নারীকে পুলিশ আটক করেছে। তবে এ বিষয়টি তারা স্বীকার করেনি। গ্রেফতার দুজন ছাড়াও অন্তত ১০ জন ওই বাড়িটিতে পৃথক সময়ে অবস্থান করতেন বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার খাদগড় এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস থামায় পুলিশ। জসীমউদ্দিন ও হাসান ওই বাসে তল্লাশি চলাকালে পুলিশের ওপর বোমা হামলা চালান। পরে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।


আপনার মন্তব্য