শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:১৯

দুই বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত

প্রতিদিন ডেস্ক

দুই বন্দুকযুদ্ধে চারজন নিহত

দুই স্থানের কথিত বন্দুকযুদ্ধে গতকাল ভোরে মোট চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে টেকনাফে এক রোহিঙ্গাসহ দুইজন এবং ময়মনসিংহে দুইজন রয়েছেন। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- কক্সবাজার : টেকনাফে বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক রোহিঙ্গাসহ দুই ইয়াবা পাচারকারী নিহত হয়েছেন। গতকাল রাতে নাফ নদের খারাংখালী দুই নম্বর স্লুইস গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উখিয়ার কুতুপালং ২নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত হায়দার শরীফের ছেলে নুরুল ইসলাম (২৭) ও টেকনাফের হোয়াইক্যং নয়াবাজার এলাকার মৃত জলিল আহমদের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩০)। ঘটনাস্থল থেকে ২০ হাজার ইয়াবা, ২টি আগ্নেয়াস্ত্র, দুইটি কিরিচ ও চার রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। বিজিবি টেকনাফস্থ ২নং ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়সল হাসান খান জানান, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার বড় চালান নাফ নদ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে- এমন খবর পায় বিজিবি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাফ নদে বিজিবির বিশেষ টহল দল অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৪-৫ জন লোক এপারে এসে বিজিবির উপস্থিতি দেখে গুলি ছুঁড়তে থাকে। বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। কিছু সময় গোলাগুলির পর ইয়াবা পাচারকারিরা পিছু হটে। পরে বিজিবি ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ দুইজনসহ ২০ হাজার ইয়াবা, দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, দুইটি কিরিচ ও চার রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে। গুলিবিদ্ধ দুইজনকে প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহ দুইটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরপুলিয়ামারি ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কালাদহে গতকাল ভোররাতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুইজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত জনি মিয়া (২৬) মাদক কারবারি ও জহিরুল ইসলাম (২০) গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ডিবি পুলিশের ওসি শাহ কামাল হোসেন আকন্দ জানান, সদরের চরপুলিয়ামারি এলাকায় মাদক কেনাবেচার জন্য কিছু মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি দল। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে জনি মিয়া নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জনির বিরুদ্ধে মাদক, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১১টি মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন ও ১টি স্টিলের চাকু উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক এসআইসহ দুই পুলিশ সদস্য। এদিকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় এক তরুণীকে গণধর্ষণ মামলার অন্যতম প্রধান আসামি জহিরুল ইসলাম পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার কৈয়ারচালা গ্রামে। ফুলবাড়ীয়া থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার জানান, গত ৩ আগস্ট ফুলবাড়িয়া উপজেলার পলাশতলী গ্রামের এক তরুণীকে বাড়ির পাশে নিয়ে তিন বখাটে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। রবিবার তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে ওই তরুণী। পরে গতকাল রাত ২টার দিকে উপজেলার কালাদহ ঈদগাহ এলাকায় ধর্ষণকারীরা অবস্থান করছে- এমন সংবাদে যৌথ অভিযানে যায় ডিবি ও থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুড়ি ছোড়ে আসামিরা। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়লে আহত হয় জহিরুল ইসলাম। পরে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে আসা হলে কর্তব্য চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


আপনার মন্তব্য