শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৩

পিছু হটল নির্বাচন কমিশন

৩০ জানুয়ারির পরিবর্তে ঢাকার দুই সিটিতে ভোট ১ ফেব্রুয়ারি কমিশনারদের টেলিফোনে জরুরি বৈঠকে ডেকে সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

পিছু হটল নির্বাচন কমিশন

পূজার দিনে ভোট না করার জোরালো দাবির মুখে পিছু হটল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ ৩০ জানুয়ারির পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। সিটি ভোট পেছানোয় এসএসসি পরীক্ষাও পিছিয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে এখন ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে এই পাবলিক পরীক্ষা।

গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের জরুরি সভায় নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সিইসি বলেন, কমিশনাররা সিটি নির্বাচন ৩০ তারিখ থেকে পিছিয়ে ১ তারিখ করতে সম্মত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একটি জটিল পরিস্থিতি ছিল। তাই প্রস্তুত করার জন্য কিছুটা সময় লেগেছে। আমরা বিষয়টা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। নির্বাচন পেছানোর ব্যাপারে পরীক্ষা পেছানো সম্ভব কি না। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৯ তারিখ পূজার ঐচ্ছিক ছুটি ছিল। সে প্রেক্ষাপটে আমরা ভোটের দিন ৩০ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছিলাম। সেটা মাথায় রেখে, যাতে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না আসে। সেটি নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও সম্মত হয়েছেন। তার দফতরের কাজ শেষ করে তারা ১ তারিখের পরীক্ষা পিছিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন। সে কারণে কমিশনারদের সঙ্গে মিটিং করেছি। তারা সবাই নির্বাচন ৩০  তারিখ থেকে পিছিয়ে ১ তারিখ করতে সম্মত হয়েছেন।’ আগেও আন্দোলন হয়েছে, তখন তারিখ পরিবর্তন হলো না এখন হলো, কমিশনের কোনো গ্রাউন্ড আছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো গ্রাউন্ড নেই।’ ৩০ জানুয়ারি ভোটের দিন রেখে ২২ ডিসেম্বর ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি। ওই দিন সরস্বতী পূজা বলে তফসিল ঘোষণার পরপরই এর বিরোধিতা করেছিল পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদও (ডাকসু) ভোটের দিন পরিবর্তনের দাবি জানায়। কিন্তু তা আমলে নেয়নি ইসি। এর মধ্যে ভোটের তারিখ পরিবর্তনে হাই কোর্টে রিট আবেদন হলে তা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর ইসি ৩০ জানুয়ারি ভোট করার বিষয়ে আরও শক্ত অবস্থান নেয়। ইসির পক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছিল, ৩০ জানুয়ারিই ভোট গ্রহণের জন্য ‘উপযুক্ত’ দিন। কারণ এর পরের দিন ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার বলে সেদিন ভোট গ্রহণের নজির নেই। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে বলে প্রায় এক মাস আর ভোট করা যাবে না। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী অনশন শুরু করলে এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কর্মসূচি ঘোষণা করলে ভোটের দিন বদলের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো জানায়, ভোটের তারিখ পরিবর্তনে তাদের আপত্তি নেই। প্রধান প্রার্থীরাও ভোটের তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে ইসিকে আহ্বান জানান। শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অযৌক্তিক বললেও তাদের পক্ষে জনমত জোরালো হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে গতকাল হঠাৎ জরুরি বৈঠকে বসে ইসি। বৈঠকে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনারদের টেলিফোনে ডেকে নেওয়া হয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের দুই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বৈঠকে উপস্থিত হতে প্রথমে বলা হলেও পরে তাদের না ডেকে শুধু মতামত নেওয়া হয়।

খুশি বিএনপির দুই প্রার্থী : একদিন পেছানোয় খুশি বিএনপি দলীয় দুই মেয়র প্রার্থী। গতকাল রাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন ও উত্তর সিটি করপোরেশনের তাবিথ আউয়াল এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। গোপীবাগে নিজের বাসায় সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় ইশরাক বলেন, আমি খুশি যে নির্বাচন কমিশন একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যখন তফসিল ঘোষণা করা হয় তখনই বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত ছিল। তাবিথ বলেন, জনগণের দাবিতে নির্বাচন কমিশন একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেটা উচিত ছিল আরও আগে নেওয়া।

আগে নেওয়া হয়নি বলেই কিন্তু আবারও নির্বাচন কমিশন তার ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে, তাদের অযোগ্যতার প্রমাণও আবার দিয়েছে। তবে এতে আমরা খুশি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর