শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মার্চ, ২০২০ ২৩:৪৮

কেটেছে কিট পিপিই সংকট

বিতরণ ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭০টি ১০ লাখ মজুদের লক্ষ্যমাত্রা

জিন্নাতুন নূর

কেটেছে কিট পিপিই সংকট

করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট এবং এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ব্যবহৃত বিশেষ পোশাক  পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্টের (পিপিই) সংকট কেটে গেছে। শুরুতে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় এই দুটি পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ না থাকলেও বিভিন্ন দেশ এবং বাংলাদেশের পোশাক মালিকদের সংগঠন, ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসহ বড় বড় সরকারি-বেসরকারি কোম্পানির উদ্যোগে করোনা পরীক্ষার কিট ও পিপিইর মজুদ এখন পর্যাপ্ত। স্বাস্থ্য বিভাগের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে, দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এরই মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭০টি পিপিই বিতরণ করা হয়েছে। এর বাইরে আরও ৪১ হাজার ৯৩০টি পিপিই মজুদ আছে। এ ছাড়া শিগগিরই আরও ১০ লাখ পিপিই মজুদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশে করোনা পরীক্ষার কিট ও পিপিইর কোনো অভাব নেই।

সরকারের  রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনাভাইরাস পরীক্ষায় দেশে আরও ১৭টি নতুন ল্যাব স্থাপন করা হবে। বর্তমানে ১১টি ল্যাব প্রস্তুত রয়েছে। সারা দেশে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে এখন করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। ময়মনসিংহ ও রংপুর মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে আজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে  দুই-এক দিনের মধ্যে এবং খুলনা ও বরিশাল মেডিকেল কলেজে এক সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা শুরু করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে পিপিই দিয়েছি। আরও পিপিই দেওয়ার ব্যবস্থা চলছে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। যারা পিপিই ব্যবহার করছেন, যথাযথভাব যেন এর ব্যবহার হয় এবং এটি যেন নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা ইতিমধ্যে ৯২ হাজার টেস্ট কিট সংগ্রহ করতে পেরেছি। এর মধ্যে বিভিন্ন পিসিআর সেন্টারে ২০ হাজার পিস বিতরণ করা হয়েছে। এখন আমাদের হাতে আরও আছে ৭২ হাজার টেস্ট কিট।’

এ ছাড়া করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চীন থেকে এসে পৌঁছেছে প্রয়োজনীয় মেডিকেল সরঞ্জাম। এতে ১০ হাজার টেস্ট কিট, প্রথম সারির চিকিৎসকদের ব্যবহারের জন্য ১০ হাজার পিপিই এবং এক হাজার থারমোমিটার রয়েছে। ২৬ মার্চ কুনমিং থেকে আসা চীনের একটি কার্গো উড়োজাহাজ এই সরঞ্জামাদি বাংলাদেশে নিয়ে আসে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোাগ শাখা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চীন সরকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে চিকিৎসা-সামগ্রী সহায়তা দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এসব টেস্ট কিট ও পিপিই দেওয়া হয়। আবার দেশের সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করেনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দূর না হওয়া পর্যন্ত বিনামূল্যে পিপিই সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চীন থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী তৈরি পিপিই নিয়ে আসা হবে ইউএস-বাংলার নিজস্ব বিমানে। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকরা হটলাইন নম্বরে ফোন দিয়ে চাহিদা জানালে সংস্থাটি পিপিই সরবরাহ করবে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্মীসহ বিভিন্ন স্বাাস্থ্যসেবা কর্মীদের পিপিই দেবে। বিজিএমইএ প্রাথমিক পর্যায়ে ২০ হাজার পিপিই পোশাক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো প্রথম স্তরের পিপিইর (লেভেল-১) পরিপূরক হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ জন্য বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ পিপিইর ফ্যাব্রিক ও আনুষঙ্গিক বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবার মহাপরিচালকের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েছে। যদিও বাংলাদেশে এর আগে পিপিই তৈরির অভিজ্ঞতা ছিল না কিন্তু এবার দেশীয় চিকিৎসকদের সুরক্ষা পোশাক তৈরির কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতেও এই বিশেষ পোশাকটি তৈরির চিন্তা মাথায় এসেছে স্থানীয় কারখানা মালিকদের। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছয় মাসের মধ্যে লেভেল ৩-৪ বা চিকিৎসকদের ভাইরাস-প্রতিরোধী পিপিই তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া বেক্সিমকো গ্রুপ করোনাভাইরাসের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান জানান, বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র এবং করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সরকার-নির্ধারিত হাসপাতালের প্রতিনিধিদের কাছে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের পিপিই, ওষুধ ও টেস্ট কিট পৌঁছে দেওয়া হবে। এর বাইরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ৫০ হাজার পিপিই তৈরির ঘোষণা দিয়েছে ¯েœাটেক্স গ্রুপ। আর বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন এবং কনফিডেন্স গ্রুপ যৌথভাবে চিকিৎসক ও পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট ও পিপিই বিতরণ করেছে। গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম চীন থেকে ২০ হাজার কিট ও ৬ হাজার বিশেষ গাউন নিয়ে এসেছেন। এদিকে সবকিছু ঠিক থাকলে করোনাভাইরাস শনাক্তে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনা পরীক্ষার কিট ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বাজারে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর