শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ এপ্রিল, ২০২০ ০১:৪৪

যুক্তরাষ্ট্রে আরও সাত বাংলাদেশির মৃত্যু, পাঁচ শতাধিক আইসিইউতে

লাবলু আনসার, নিউইয়র্ক

যুক্তরাষ্ট্রে আরও সাত বাংলাদেশির মৃত্যু, পাঁচ শতাধিক আইসিইউতে

করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কে দুই মহিলাসহ আরও সাত বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় ৬ এপ্রিল সোমবার তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৮৬ জনে। ব্রঙ্কস, কুইন্স, ব্রুকলিনের বিভিন্ন হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন ছিলেন। নিউজার্সির প্যাটারসনে রুবেল নামে ৩২ বছরের এক তরুণ, নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে মন্টিফিউর হাসপাতালে হাসিনা ইয়াসমিন (৪৪), জ্যামাইকা হাসপাতালে তানিয়া আকতার (৩৮), কুইন্স হাসপাতালে সাঈদ খালেদ (৬২), ব্রুকলিনের মায়মনিডেস হাসপাতালে আবদুর রাজ্জাক (৫৬) এবং মো. ইমাম খান তপন (৩২) মারা যান বলে তাদের স্বজনরা জানান। এ দিন ভোররাতে নিউইয়র্কের এলমহার্স্ট হাসপাতালে মারা গেছেন বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সেক্রেটারি ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক বাকির আজাদ (৫৭)।

নিউইয়র্কসহ আশপাশের হাসপাতালে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি রয়েছেন আইসিইউতে। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারপারসন এম আজিজ এবং ব্রঙ্কসের একটি মসজিদের প্রেসিডেন্ট গিয়াস আহমেদ। উল্লেখ্য, ১৯ মার্চ থেকেই নিউইয়র্ক অঞ্চলে ঘরে থাকার নির্দেশ জারি হয়েছে। এই নির্দেশ ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কের রাজ্য গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো স্থানীয় সময় সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘লোকজন যত বেশি ঘরে থাকবেন, ততই এ রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। ইতিমধ্যে এমন সুফল আমরা দেখেছি।’ এ জন্য স্কুল-কলেজসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। কেবল ওষুধ ও খাবার ক্রয়ের জন্যই লোকজনকে বাসার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ফার্মেসি এবং খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্টগুলোর অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গেছে। এক ধরনের স্থবিরতায় আক্রান্ত গোটা কমিউনিটিতে প্রতিদিনই শুধু মারা যাওয়ার তথ্য ঘুরপাক খাচ্ছে। এদিকে ৬ এপ্রিল বিকাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭২ হাজার ১৮১। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪ হাজার ৭৫৮ জন। রাজ্য গভর্নর জানান, নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের হাসপাতালে বেড এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট মোকাবিলায় সেনাবাহিনী ম্যানহাটনে জ্যাকভ জেভিট সেন্টারে ২৫০০ শয্যার একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল স্থাপন করেছে। এ ছাড়া নৌবাহিনীর একটি জাহাজ নোঙর করেছে। সেখানেও এক হাজার বেডের হাসপাতাল রয়েছে। এর ফলে চিকিৎসা নিয়ে যে মহাসংকট দেখা দিয়েছিল, কিছুটা হলেও লাঘব হচ্ছে বলে সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো এ দিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর