শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ জুলাই, ২০২০ ০০:১৯

করোনা মোকাবিলায় বাজেট কম, অভাব দক্ষ জনবলেরও

মাহমুদ আজহার

করোনা মোকাবিলায় বাজেট কম, অভাব দক্ষ জনবলেরও
চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বলেছেন, বাংলাদেশে করোনার পরীক্ষা আরও বেশি করা উচিত। তবে সামগ্রিকভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে পরিমাণ বাজেট দরকার ছিল, সেটা সরকারের নেই। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনবল ও বাজেট কম। সুতরাং করোনার পর্যাপ্ত পরীক্ষা বা মানসম্মত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরীক্ষা হচ্ছে, তবে যত দরকার তত পরীক্ষা হচ্ছে না। এখানেও দক্ষ লোকবল নেই। তাই সরকারের পাশাপাশি প্রাইভেট হাসপাতালগুলোকে সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসা জরুরি।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে ফোনে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন তিনি। চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, পুরো পৃথিবী আজ একটি অদৃশ্য শত্রুর (করোনা) বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমেরিকা, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ বড় বড় দেশগুলোও প্রথমদিকে করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়। এখন তারা করোনা মোকাবিলার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। তবুও পুরোপুরি সফল এটা বলা যাবে না। যেসব দেশ সচেতন ও সেই দেশের মানুষও সচেতন। সেখানে করোনা এখন তেমন কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না। আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের মানুষও অসচেতন। সরকারও পারছে না। তাই করোনা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদাহরণ টেনে সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই করোনা কবে যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রকৃতি আমাদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে। আমরা প্রকৃতিতে যেভাবে ধ্বংস করেছি, তাই প্রকৃতিও এই প্রতিশোধ নিচ্ছে। এখন মানুষ এই প্রতিশোধ মোকাবিলা করতে পারছে না। বাংলাদেশও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পেরে উঠছে না।

করোনা মোকাবিলায় চলমান লকডাউন প্রসঙ্গে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, সত্যিকারার্থে মানুষকে কতদিন লকডাউনে রাখা যাবে। সবারই তো জীবন-জীবিকার বিষয় আছে। ত্রাণ কত পরিমাণ দেওয়া যায়, দুই চার-পাঁচ দিন। করোনা একটি ভয়ঙ্কর রোগ। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী চলে আসা করোনায় মানুষের কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। আবার বেশি সুযোগও দেওয়া যাবে না। এতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাবে। লকডাউন বেশি করলেও সমস্যা, কম করলেও সমস্যা। কারণ, এই করোনায় অনেকেরই আয় রোজগারের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নিয়েই আমাদের পথ চলতে হবে।

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে তাদের কতটুকু খাদ্য সহযোগিতা দেওয়া যায়। সরকারও ত্রাণ দিচ্ছে। তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ত্রাণ সহায়তা দিয়ে মানুষকে দুই চার দিন চালানো যায়, স্থায়ীভাবে সম্ভব নয়। কোটি কোটি মানুষকে সরকারই বা কত ত্রাণ দেবে? ত্রাণ দিয়ে একটি দেশকে বাঁচিয়ে রাখা যায় না। এটা সাময়িক একটা ব্যবস্থা। এটাকে স্থায়ী করা যাবে না। তবে এটাও ঠিক, যা দেওয়া হচ্ছে, তা সঠিকভাবে সবাই পাচ্ছে না। তিনি বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশে সবাই সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। এটা সত্য। এটা আগেও পারেনি, এখনো পারছে না। তবে স্বাস্থ্য খাতে যে দুর্নীতি বা অব্যবস্থাপনা হচ্ছে তা সরকারকে গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। দুর্নীতি সব সময়ই কমবেশি ছিল। তবে এখনকার মতো দুর্নীতি অতীতে ছিল না। তবে সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ আরও বলেন, বাংলাদেশে করোনা মোকাবিলায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তবে এটা পর্যাপ্ত নয়, আরও বেশি পরিমাণে করতে হবে। মানুষেরও সচেতন হতে হবে। সবাই যে যার মতো ঘুরে বেড়ানো ঠিক হবে না। এখানে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি সচেতনতাও জরুরি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর