শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:২৪

এক স্প্যান বসলেই স্বপ্নের সেতু

পদ্মায় ৬ কিলোমিটার দৃশ্যমান

লাবলু মোল্লা, মুন্সীগঞ্জ

এক স্প্যান বসলেই স্বপ্নের সেতু
মাওয়া প্রান্তের মাঝ পদ্মায় গতকাল ৪০তম স্প্যান বসানো হয় -বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৃশ্যমান হলো ৬ কিলোমিটার। একটি স্প্যান বসলেই সম্পন্ন হবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। শতভাগ অবকাঠামো নির্মাণে বাকি ১৫০ মিটার। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসেই দৃশ্যমান হবে ৬ হাজার ১৫০ মিটার বা ৬.১৫ কিলোমিটার সেতু।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, দৃঢ়চেতা মনোবল, সাহসী নেতৃত্ব এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সব প্রতিকূলতা মাড়িয়ে শেষ প্রান্তে পদ্মা সেতু। ৪১ স্প্যানের মধ্যে ৪০টি পিলারে বসে দৃশ্যমান হয়েছে ছয় কিলোমিটার। একটি স্প্যান বসলেই দৃশ্যমান হবে পুরো সেতু। গত ২৭ নভেম্বর ৩৯তম স্প্যান বসানোর ছয় দিনের মাথায় গতকাল বেলা ১১টার দিকে মাওয়া প্রান্তের মাঝ পদ্মায় ১১ ও ১২ নম্বর পিলারে ৪০তম (‘২-ই’) স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়। এর মাধ্যমে সেতুর ৬ হাজার মিটার বা ৬ কিলোমিটার অবকাঠামো সম্পন্ন হলো। এখন একটি স্প্যানে ১৫০ মিটার সেতুর অবকাঠামো নির্মাণ বাকি।

সেতুমন্ত্রীর সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাসের জানান, গত অক্টোবরে ৪টি ও নভেম্বরেও ৪টি স্প্যান বসানো হয়। বিজয়ের এ মাসেই সবশেষ ৪১তম স্প্যানটি (স্প্যান ২-এফ) ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারে বসানো হবে। তখন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আগামী ১০ অথবা সম্ভাব্য ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসেই দৃশ্যমান হবে পদ্মা সেতুর শতভাগ অবকাঠামো ৬ হাজার ১৫০ মিটার বা ৬.১৫ কিলোমিটার সেতু। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূল সেতুর কাজের অগ্রগতি ৯২ শতাংশের বেশি। পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮৪ শতাংশ। মূল সেতুর কাজ শেষ করার জন্য সংশোধিত তারিখ ২০২১ সালের ৩০ জুন। অন্যদিকে সেতুতে বসানো স্প্যানগুলোতে স্ল্যাব বসানোর কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সেতুর উপরের তলায় রোডওয়ে  স্ল্যাব বসবে ২ হাজার ৯১৭টি। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০০টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নিচতলায় রেলওয়ে স্ল্যাব বসবে ২ হাজার ৯৫৯টি। প্রায় ২ হাজার বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পদ্মা সেতু প্রকল্পের সড়ক অংশের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পদ্মা সেতু পৃথিবীর অন্যতম সেতু হিসেবেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে স্থাপন করতে যাচ্ছে সড়ক ও রেল যোগাযোগ। কংক্রিট আর স্টিলের নিখুঁত গাঁথুনিতে তৈরি হয়েছে বিশ্বের অতুলনীয় এই দোতলা সেতু। দেশি-বিদেশি ২২ হাজার শ্রমিক আর প্রকৌশলীর অক্লান্ত পরিশ্রমে ধাপে ধাপে পুরোটাই শেষ হতে যাচ্ছে পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণকাজ। মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি)। চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন করছে নদীশাসনের কাজ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯৯ ব্রিগেড কমান্ড।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর