শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪০

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি এমপিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা বলেছেন, করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ক্লাস হলেও তা যথেষ্ট নয়। তাই শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকারকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান এমপিরা।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের দুজন ও একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এ দাবি জানান। এর আগে আলোচনায় অংশ নেন বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, সরকারি দলের সদস্য মো. মোতাহের হোসেন, সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার, আনোয়ার আবেদীন খান, ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, মো. আবদুল আজিজ, এম এম শাহাজাদা ও খালেদা খানম এবং স্বতন্ত্র রেজাউল করিম বাবলু।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহের বলেন, শিক্ষার উন্নয়নে এ সরকার অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশ ডিজিটাল হওয়ার কারণে অনলাইনে ক্লাস চলছে। ভার্চুয়াল ক্লাস হলেও গ্রামের শিক্ষার্থীরা খুব বেশি উপকৃত হতে পারছে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক। তিনি আরও বলেন, তিস্তা নদী তার এলাকার দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীতে পানি নেই। হেঁটেই নদী পার হওয়া যায়। ভারত থেকে যে পানি আসে তা খুব সামান্য। এতে আবাদের কাজ হয় না। তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়ন হলো না। যত দ্রুত সম্ভব এ চুক্তি করা গেলে ওই অঞ্চলের মানুষ যথেষ্ট উপকৃত হবে।

সরকারি দলের অন্য সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি। করোনা টিকা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে সাবেক হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার বলেন, এখনো টিকা আসেনি। ইতিমধ্যে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করা হচ্ছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, যারা দেশ চায়নি তারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিরুদ্ধে সমালোচনা ও ষড়যন্ত্র করবে এটাই স্বাভাবিক। জনগণকেই এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বগুড়ায় বিমানবন্দর স্থাপনের দাবি জানান। তিনি বলেন, সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সরকার চাইলেই উত্তরবঙ্গের জনগণের এ দাবি পূরণ করা সম্ভব। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইমামদের ভাতা বাড়ানো ও মসজিদের বিদ্যুৎ বিল মওকুফের দাবি জানান। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিমান ও পর্যটন খাত। শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই। তবে করোনার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বিভিন্ন নির্দেশনা ও কর্মসূচির কারণে আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো আছি। আমরা বিমানকে সচল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। এখনো অনেক দেশে বিমান বন্ধ আছে। কিন্তু আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিমান চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে আরও দুটি নতুন অত্যাধুনিক বিমান আসছে। এদুটি করোনাভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার ক্ষমতাসম্পন্ন বিমান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে উন্নীত করা। সে অনুযায়ী আমরা কাজ শুরু করেছি। কক্সবাজার বিমানবন্দরে একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল তৈরি করা হবে। সরকারি দলের সামিল উদ্দিন শিমুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশের বড় রাজনৈতিক দল স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তিকে সহযোগিতা করে দেশকে অস্থির করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ অপচেষ্টা প্রতিহত করে সারা দেশের মানুষের কাছে শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও ভালোবাসা পৌঁছে দিতে হবে। সরকারি দলের আনোয়ারুল আবেদিন খান বলেন, ২০১৯ সালে সংসদে পরিবেশবান্ধব ইট ব্যবহার নিয়ে একটি আইন পাস হয়েছিল। কিন্তু তা যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে এটি করার অর্থ কী? সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। খালেদা খানম বলেন, দেশের ইতিহাসে সব থেকে বড় প্রকল্পগুলো এ সরকার গ্রহণ করেছে। পদ্মা সেতু তৈরির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ সরকারের নেওয়া ২৪টি মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষ হলে দেশের অর্থনীতি বদলে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


আপনার মন্তব্য