শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৬

আবারও ইউএস-বাংলা থেকে ৭ কেজি সোনা উদ্ধার, আটক ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে ৭ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে কাস্টসম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ক্যাটারিং সার্ভিসের আট কর্মীকে আটক করা হয়। গতকাল সকাল ৭টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা বিএস৩৪২ ফ্লাইট বিমানবন্দরের ৪ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজে অবতরণ করে। ওই বিমানের উচ্ছিষ্ট খাবারের বক্স ক্যাটারিং সার্ভিসের গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় গাড়ি তল্লাশি করে সোনাগুলো পাওয়া যায়। আটক ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ক্যাটারিং সার্ভিসের আট কর্মী হলেন ক্যাটারিং সহকারী মো. আলী রেজা, সাদ্দাম হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, আবদুর রাজ্জাক, আবু সালেহ, হানিফ দেওয়ান, জাহেদুর রহমান ও ক্যাটারিং হেলপার আশরাফুল আলম। এদের মধ্যে সাতজন ক্যাটারিং সহকারী, একজন ক্যাটারিং হেলপার। হাই লিফট কাভার্ড ভ্যানের ফুড স্টোরেজ গাড়িতে বিশেষভাবে সোনাগুলো লুকানো ছিল। আটকরা সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছে কাস্টমস গোয়েন্দা।

কাস্টমস গোয়েন্দারা বলছেন, দুবাই থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে আসে। পরে ওই বিমান থেকে যাত্রীদের উচ্ছিষ্ট খাবারের বক্স ক্যাটারিং সার্ভিসের গাড়িতে তোলার পর তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে ওই বক্সে ৭ কেজি ওজনের ৬০ পিস সোনার বার পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ক্যাটারিং সার্ভিসের আট কর্মীকে আটক করা হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. ইফতেখার আলম ভুঁইয়া জানান, এ ঘটনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের আট কর্মীকে আটকের পাশাপাশি সেই গাড়িটি জব্দ করে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এর আগে ২২ জানুয়ারি মাসকাট থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে আসা সারোয়ার উদ্দিন নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে ৭ কেজি ২৯০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউস। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টম হাউস ঢাকার প্রিভেনটিভ টিম বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে নজরদারি করে। পরে মাসকাট থেকে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে আসা ওই যাত্রীর কাছে থাকা কালো রঙের ছোট একটি ব্যাগে ৭ কেজি ২৯০ গ্রাম ওজনের ৬২টি সোনার বার ও ৯৮ গ্রাম সোনার অলঙ্কার পাওয়া যায়। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।

কাস্টমস সূত্র জানান, ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার ৪ কেজি ৬৪০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউস। সোনার বারগুলো কালো স্কচটেপ মোড়ানো ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালান প্রতিরোধে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর বিএস৩১৬-এর যাত্রী অবতরণের সিঁড়ির নিচে ৪০টি সোনার বার পাওয়া যায়। একই বছরের ৩১ জুলাই একই বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার যাত্রী বহনকারী গাড়ির চালকের কাছ থেকে ৩ কেজি ৭১২ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে কাস্টমস, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর শাহজালালে তিনটি সোনার বারসহ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কাস্টমার সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ওমর ফারুককে আটক করে ঢাকা কাস্টম হাউস। বিদেশ থেকে সোনার বারগুলো নিয়ে আসা মামুন মিয়া নামে এক যাত্রীকেও আটক করা হয়। তিনটি সোনার বারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে ট্রানজিট ও বোর্ডিং এলাকায় নজরদারি এবং তল্লাশি করে। আটক যাত্রী ও ইউএস-বাংলার কর্মীকে পুলিশে দেওয়া হয়। একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১০ কেজি সোনার বারসহ গ্রেফতার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমী। পুলিশ দুই দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে তাকে। এ সময় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক তোফাজ্জল হোসেন।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সকালে এপিবিএন সদস্যরা মৌসুমীকে প্রায় ১০ কেজি সোনাসহ আটক করেন। এ ঘটনায় এপিবিএনের এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে মৌসুমীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সোনা চোরাচালান আইনে মামলা করেন। মামলায় ইউএস-বাংলা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যোগ দেওয়া কেবিন ক্রু নেছার উদ্দিন, তার স্ত্রী, যাত্রী সুহেল খাঁ, লাকী ও বাপ্পীকে আসামি করা হয়। ২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট থেকে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা। ওই দিন বিকালে ব্যাংকক থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আসা ফ্লাইটের টয়লেটে ওই সোনা পাওয়ার কথা জানায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। তারা জানান, প্রতিটি ১০ তোলা ওজনের মোট ১২০টি সোনার বার উদ্ধার হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা দল গোপন সংবাদ পায়, ব্যাংকক থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের (বিএস ২১৪) ফ্লাইটের মাধ্যমে সোনা চোরাচালান হবে। উড়োজাহাজটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে বিমানের টয়লেটে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই বারগুলো পাওয়া যায়। ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৪ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউস। এয়ারলাইনসের (ফ্লাইট নম্বর বিএস৩২২) ১১ এ ও ১১ বি সিটের ভিতর থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তখন জানায় ঢাকা কাস্টম হাউস। একই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট থেকে ৪ কেজি ৬৬৫ গ্রাম সমান সোনার বার উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা। এয়ারলাইনসের (ফ্লাইট নম্বর বিএস২০২) থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। এর বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর