শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মার্চ, ২০২১ ২৩:৩৭

কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নিন

বিশেষজ্ঞদের অভিমত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার বায়ু ও শব্দদূষণ রোধে সরকারের সদিচ্ছা থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন নগর বিশ্লেষক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, পরিবেশদূষণের আইন যুগোপযোগী করে তার যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। দূষণের কারণগুলো শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে ফোনালাপে তারা এসব মন্তব্য করেন। নগর বিশ্লেষক ও স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে ঢাকা শহরের বাতাসকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। বর্ষাকালের তুলনায় শীতকালে ৮০ ভাগ বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। শীতকালে বৃষ্টিহীন ঢাকায় ব্যাপক ধুলাবালি লক্ষ্য করা যায়। ঢাকা শহরের অক্সিজেন আসে গাছপালা থেকে। আমরা যে কার্বন-ডাই অক্সাইড ছাড়ি সেটা শুষে নেয় এসব গাছপালা। কিন্তু দেখা যায়, গাছের পাতাগুলোতে তৈলাক্ত ধোঁয়া ও ধুলাবালির স্তর পড়ে আছে। মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ফায়ার ব্রিগেড ও পুলিশের জলকামানগুলো বসে থাকে। কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়। এই গাড়িগুলো দিয়ে রাত ৩টার দিকে রাজধানীতে কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের সৃষ্টি করা যায়। বিশেষ করে গাছগুলোতে কৃত্রিমভাবে পানি ছিটাতে হবে। এতে ধুলাবালি যেমন কমবে, পাশাপাশি গাছগুলো বেশি বেশি অক্সিজেন ছাড়বে ও কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, আমাদের হাতে যন্ত্র আছে, লোকবল আছে। কিন্তু সদিচ্ছা নেই। সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে প্রতিদিনই রাজধানীর গাছপালাগুলোয় বৃষ্টির মতো পানি দিতে হবে। তাহলে ৬০ ভাগ বায়ুদূষণ কমে যাবে। বর্ষাকালে এ জন্যই দূষণ কম হয়। যেসব যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া বের হবে  সেগুলোকে জরিমানা করতে হবে। যেসব গাড়ি কালো ধোঁয়া ছাড়ে তার ৯৯ ভাগই সরকারের গাড়ি। সরকারি বিআরটিসির যানবাহনে কালো ধোঁয়া বেশি হয়। যে গাড়িতে ধোঁয়া বের হবে, সঙ্গে সঙ্গেই জরিমানা করতে হবে।

নগর বিশ্লেষক মোবাশ্বের আরও বলেন, শব্দদূষণের মূল কারণ হলো রাতের ঢাকাসহ সারা দেশের চলাচল বা মালামাল পরিবহনের গাড়িগুলোর বিকট শব্দে হর্ন বাজানো। যে গাড়িগুলো উচ্চশব্দের বা নিষিদ্ধ হর্ন বাজাবে সেগুলো জব্দ করতে হবে। এটা করা গেলে হর্ন বাজানো বন্ধ হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিজের গাড়িতে বিকট শব্দের হর্ন বাজান। এগুলো বন্ধ করতে হবে। পৃথিবীতে কোনো দেশেই এমনটা নেই। এমনটা হলে সাত দিনেই শব্দদূষণ বন্ধ করা সম্ভব।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম নাজেম বলেন, দূষণের কারণ সবারই জানা। গাড়ির কালো ধোঁয়া, রাজধানীতে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম, ধুলাবালি এবং আশপাশের অবৈধ ইটভাটার কারণে বায়ুদূষণ বাড়ছেই। এগুলো তদারকি করা যাদের দায়িত্ব তারা তা করছে না। ফলে দূষণে দিন দিন ডুবছে ঢাকা। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও শিক্ষা সচেতনতা ঢাকাবাসীকে নানা দূষণ থেকে রক্ষা করতে পারে। বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীদের দূষণ সচেতনতা বাড়াতে হবে।

পরিবেশবাদী আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাজধানীতে বায়ুদূষণ বা শব্দদূষণ দিন দিন বাড়ছেই। বায়ুদূষণের দায় পুরোটায় সরকারের। এটা তাদেরই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কিন্তু শব্দদূষণে ব্যক্তি বিশেষও দায়ী। শব্দদূষণ আমাদের অনেকেরই ব্যক্তিগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আইন আছে, কিন্তু নেই নিয়ন্ত্রণ বা শাস্তি। আইনের প্রয়োগ থাকতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগে ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, বায়ুদূষণে যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে হবে। সরকারকে কতগুলো সুনির্দিষ্ট খাত ধরে সময়ভিত্তিক এগোতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যাতে বায়ুদূষণ না হয়। পুরনো গাড়ি রাস্তা থেকে সরাতেই হবে। এ নিয়ে জিদ করলে হবে না। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরনো গাড়ি থেকেই ৫০ ভাগ বায়ুদূষণ হচ্ছে। এটা কমবেশিও হতে পারে। তা সময়কাল ভেদে নির্ভর করে। পুরনো গাড়ির কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বিআরটিএর। এটা তারা কখনই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। পরিবহন নেতারা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পুরনো যানবাহন রং করে রাস্তায় নামিয়ে দেন। এটা সরকারকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ব্যক্তি সচেতনতাও বাড়াতে হবে। স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ঢাকার বায়ু, শব্দ ও পরিবেশদূষণ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিকরণের মাধ্যমে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। মনির চৌধুরী (পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক কর্মকর্তা) কিংবা আনিসুল হক (প্রয়াত মেয়র) যদি পারেন তাহলে বর্তমানে যারা পরিবেশ অধিদফতর, সিটি করপোরেশন বা অন্যান্য সংস্থার দায়িত্বে আছেন, তারা কেন পারবেন না? এখন বিআরটিএ বলছে, তাদের নাকি দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিমাপক যন্ত্রই নেই! এসব হাস্যকর কথা। ঢাকাকে দূষণমুক্ত করতে সবার আগে দরকার সরকারের সদিচ্ছা, এটাই জরুরি।

 

 

এই বিভাগের আরও খবর