শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২৯

লকডাউনের নামে ক্র্যাকডাউনে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

লকডাউনের নামে ক্র্যাকডাউনে সরকার

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, করোনার লকডাউনের সুযোগে সরকার ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে। হেফাজতে ইসলাম বা তার কোনো কর্মসূচির সঙ্গে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। তা সত্ত্বেও হেফাজত-সংশ্লিষ্ট মামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম জড়িয়ে তাদের গ্রেফতার-হয়রানি করা হচ্ছে। গতকাল এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, করোনা মহামারীর দ্বিতীয় আক্রমণে দেশের মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে মানুষের দুয়ারে হাজির হচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে করোনাকে যদি এখনই কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে তা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। মির্জা ফখরুল বলেন, করোনার এই মহাদুর্যোগের মধ্যে বাগাড়ম্বর বক্তব্য ছাড়া   সরকার জনকল্যাণে কোনো কাজ করছে না। তারা করোনা মোকাবিলায় সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার বিএনপি, তার সহযোগী সংগঠনসহ বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর বেপরোয়া গতিতে জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। নিজেদের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই সরকার এ কাজ করছে। লকডাউনের এ সুযোগে সরকার বিরোধী দলের ওপর ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে।  বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশকে বিএনপি-শূন্য করাই শাসকগোষ্ঠীর এখন প্রধান লক্ষ্য। ভয়াবহ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কেউ যাতে টুঁ শব্দ উচ্চারণ করতে না পারে, সে জন্যই নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালানোকে লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছে সরকার। সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। মির্জা ফখরুল বলেন, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যার ঘটনায় একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করতে গিয়ে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সরকারের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। গত ২৬ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের ১৮১ জন  নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। পাবনায় একজন গ্রেফতার হওয়ার পরে তার মৃত্যু হয়েছে। ছাত্রদলের ৮১ জন, যুবদলের ৩০ জন, স্বেচ্ছাসেবক দলের গ্রেফতার হয়েছেন ১১ জন। আগে গ্রেফতার হওয়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু গতকাল জামিনে মুক্ত হলেও জেলগেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ নতুন করে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর