শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ মে, ২০২১ ২৩:৩৫

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম সিরিজ জয়

আসিফ ইকবাল

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম সিরিজ জয়
লঙ্কান উইকেট পতনের পর টাইগার শিবিরে উল্লাস -রোহেত রাজীব
Google News

প্রাণঘাতী করোনায় জনজীবন পুরোপুরি স্থবির নয়। তবে থমকে আছে। চারিদিকে খুব ভালো খবর নেই। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলেও ভয়, শঙ্কা কাজ করছে নিত্য। এমন অবস্থা যখন দেশের, তখনই তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজরা সুখকর মুহুর্ত উপহার দিয়েছেন দেশবাসীকে। অনেকটাই  চৈত্র্যের খরতাপে এক পশলা বৃষ্টির মতো। মুশফিকের সেঞ্চুরি, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজদের অদম্য পারফরম্যান্সে বৃষ্টি আইনে ১০৩ রানের জয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম বারের মতো সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। দেশটির বিপক্ষে এর আগে ৮ সিরিজে মাত্র দুটি ড্র করেছিল এবং হার ছিল ৬টিতে। ১৯৮৬ সাল থেকে দেশটির বিপক্ষে নিয়মিত ওয়ানডে খেলছে টাইগাররা। ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম টানা দুই ম্যাচ জিতেছে দ্বীপরাষ্ট্রের বিপক্ষে। টানা জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে ওয়ার্ল্ড সিরিজ কাপে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে তামিম বাহিনী। ৮ ম্যাচে ৫ জয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৫০।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এখন পর্যন্ত দুটি সেঞ্চুরি করেছেন মুশফিকুর রহিম। দুই ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জিতেছে টাইগাররা। ২০১৮ সালে এশিয়া কাপে মুশফিকের ১৪৪ রানের ইনিংসের ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতেছিল ১৩৭ রানে। গতকাল ১২৫ রানের ইনিংসের ম্যাচটিও জিতেছে পাহাড়সম ব্যবধানে। সব মিলিয়ে দেশটির বিপক্ষে ৫০তম ম্যাচে এটা নবম জয়। বাংলাদেশ আড়াইশ রান করেছে, এমন ম্যাচ জেতার রেকর্ড নেই দ্বীপরাষ্ট্র্রের। এমন পরিসংখ্যানের বিচারে ২৪৬ রান, মন্দ স্কোর নয়। অনেকটাই অক্সিজেন মাস্ক ছাড়া হিমালয় ডিঙানোর মতো। কাল সেই পাহাড় ডিঙানোর ম্যাচটিতে দ্বীপরাষ্ট্র্রকে ধীরলয়ের উইকেটের সুবিধায় গুঁড়িয়ে দিয়েছেন তিন বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজ ও সাকিব। মিরাজের স্পিনের মায়াজাল এবং মুস্তাফিজের কাটার ও সুইংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৪১ রানে। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি তামিম বাহিনী জিতেছিল ৩৩ রানে। ওই ম্যাচে টস জিতেছিলেন তামিম। গতকালও টস জিতেন। বৃষ্টিভাবাপন্ন আবহাওয়ায় টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই বিপদে পড়ে তামিম ও সাকিবকে হারিয়ে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ৭৪ রানে হারিয়ে বসে ৪ উইকেট। সেখান থেকে দলকে টেনে নেন মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ পঞ্চম উইকেট জুটিতে ৮৭ রান যোগ করেন। মাহমুদুল্লাহ ৪১ রানে সাজঘরে ফিরলেও মুশফিক তুলে নেন ২২৬ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি। ১২৫ রানের ইনিংসটি ছিল নির্ভেজাল। ১২৭ বলের মুখোমুখিতে বাউন্ডারি মারেন ১০টি। তার সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৪৬ রান। মুশফিক সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে পেছনে ফেলেন সাকিবকে। উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক। ২২৬ ম্যাচে তার রান ৬৫৫৩। ২১৫ ম্যাচে ৭৫১৭ রান নিয়ে সবার উপরে তামিম। সাকিবের রান ২১১ ম্যাচে ৬৪৫১। মিরপুরেও রান সংগ্রহে মুশফিক এখন তামিমের পরে। ৮২ ম্যাচে তামিমের রান ২৭৭৮ এবং মুশফিকের রান ৯০ ম্যাচে ২৫৮৮। সাকিবের রান ২৫৪৯। কাল ম্যাচটি তিনবার বৃষ্টিবাধায় পড়ে। বাংলাদেশের ইনিংসে দুবার এবং সফরকারীদের ইনিংসে একবার। তামিমদের ইনিংস প্রথমবার বন্ধ হয়েছিল ৪১.১ ওভারে। বন্ধ ছিল ২৪ মিনিট। দ্বিতীয়বার বন্ধ হয় ৪৩.৩ ওভারে এবং বন্ধ ছিল ৩৭ মিনিট। তৃতীয়বার বন্ধ হয় শ্রীলঙ্কান ইনিংসে ৩৮ ওভারে। তিনবার বন্ধ হয়ে যাওয়া ম্যাচে মাথায় আঘাত পান টাইগার অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। তার পরিবর্তে ‘কনকাশন’ ক্রিকেটার হিসেবে খেলেন তাসকিন। অথচ তাসকিন শুরুর একাদশে ছিলেন না। তার জায়গায় ১৩৬ নম্বর ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয় শরীফুল ইসলামের। অভিষেক ম্যাচটিকে তিনি রাঙিয়েছেন এক উইকেট নিয়ে। প্রথম ম্যাচেও দারুণ বোলিং করেছিলেন মিরাজ ও মুস্তাফিজ। অফ স্পিনার মিরাজ ৪টি এবং মুস্তাফিজ ৩ উইকেট নিয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিনন্দন জানান।