সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

সন্তানের সামনে বাবাকে হত্যায় আরেক আসামি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে প্রকাশ্যে সন্তানের সামনে বাবা শাহীন উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম মঞ্জুরুল হাসান বাবু ওরফে ইয়াবা বাবু ওরফে ব্লেড বাবু। গত শনিবার রাতে মিরপুর-১২ নম্বরের লালমাঠ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাবুসহ এ মামলায় মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির মিরপুর বিভাগের এডিসি মো. মোস্তফা কামাল।

গত ১৬ মে জমি নিয়ে বিরোধের মীমাংসার কথা বলে শাহীনকে পল্লবীর ডি-ব্লকের একটি গ্যারেজের ভিতর নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এ হত্যার ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা আকলিমা  বেগম ১৭ মে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। গতকাল বাবুকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখার হোসেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডল তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শাহীন উদ্দিনের মা আকলিমা বেগম মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ১৬ মে বিকাল ৪টার দিকে সুমন ও টিটু নামে দুই যুবক শাহীনকে জমির বিরোধ মেটানো হবে জানিয়ে ফোন করে ডেকে নেন। শাহীন মোটরসাইকেলে পল্লবীর ডি-ব্লকের ৩১ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাসার সামনে গেলে সুমন-টিটুসহ ১৪-১৫ জন মিলে তাকে টেনেহিঁচড়ে ওই বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে যান। এ সময় শাহীনের ছয় বছরের ছেলে মাশরাফি গেটের বাইরে ছিল। গ্যারেজে ঢুকিয়ে শাহীনকে চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তারা। এরপর তাকে ওই গ্যারেজ থেকে বের করে ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে আবার কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যান। ঘটনাস্থলেই শাহীনের মৃত্যু হয়।

আকলিমা বেগমের অভিযোগ, পল্লবীর সেকশন-১২ বুড়িরটেকের আলীনগর আবাসিক এলাকার হ্যাভেলি প্রপার্টিজ ডেভেলপার লিমিটেডের এমডি এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এম এ আউয়ালের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাড়া করা স্থানীয় সন্ত্রাসীরা শাহীনকে হত্যা করেছে। আনুমানিক ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি দখলে বাধা দেওয়ায় তাকে খুন করা হয়।

মামলার প্রধান আসামি লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল। অন্য আসামিরা হলেন- ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সুমন, মো. আবু তাহের, মুরাদ, মানিক, মনির, শফিক, টিটু, কামরুল, কিবরিয়া, দিপু, আবদুর রাজ্জাক, মরন আলী, লিটন, আবুল, বাইট্যা বাবু, বড় শফিক, কালু ওরফে কালা বাবু, নাটা সুমন ও ইয়াবা বাবু। আসামিরা সবাই পল্লবী থানা এলাকার বাসিন্দা। এই মামলায় মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।