সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

হঠাৎ কারসাজি চিনির বাজারে

প্রতি মণে দাম বেড়েছে ১৮০ টাকা, কেজিতে ৪ থেকে ৮ টাকা

রুহুল আমিন রাসেল

হঠাৎ কারসাজি চিনির বাজারে

চিনির বাজারে হঠাৎ কারসাজি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারিতে প্রতিমণ চিনির দাম বেড়েছে ১৮০ টাকা। প্রতিকেজি চিনির দাম বেড়েছে সাড়ে ৪ টাকা পর্যন্ত। তবে খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, প্যাকেটজাত চিনির দাম প্রতি কেজি ৭৮ টাকা থেকে বেড়ে ৮২ টাকা হয়েছে। খোলা চিনি প্রতি কেজি দাম বেড়ে ৭২ টাকা থেকে হয়েছে ৮০ টাকা। খুচরা পর্যায়ে কেজিতে ৮ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন-বিএইচএফআইসি পরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বেসরকারি পর্যায়ে সিন্ডিকেট করে চিনির দাম বাড়িয়েছে। এই সিন্ডিকেটই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদিত চিনির দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। সরকারই দাম বেঁধে দিয়েছে। যদিও আমাদের চিনির উৎপাদন খরচ প্রতি কেজি ১৩৩ টাকা। বিক্রি করতে হচ্ছে খোলা চিনি ৬৩ টাকা ও প্যাকেট চিনি ৬৮ টাকা। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, এক সপ্তাহ আগে বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৮ থেকে ৭৫ টাকা ছিল। এখন তা ৭৫ থেকে ৭৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিশ্ববাজারে চিনির দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। এ কারণে দেশেও বাড়তি। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন- গত কয়েক দিনে খোলা চিনির দাম কেজিপ্রতি ৭ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে। যাঁর দোকানে আগে কেনা চিনি ছিল, তিনি বিক্রি করছেন ৭৭-৭৮ টাকা কেজিতে। যে খুচরা বিক্রেতা নতুন করে কিনেছেন, তিনি বিক্রি করছেন ৮০ টাকা কেজি দরে। হাতিরপুলের মুদি দোকানদার খলিল মিয়া বলেন, মাত্র তিন দিনে খোলা চিনির দাম ৭২ টাকা থেকে ৭৫ টাকা ও প্যাকেট চিনি ৭৮ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। মহাখালী বাজারের মুদি দোকানদার তারিক হোসেন বলেন, ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম পাঁচ দিনে ৬০০ টাকা বেড়েছে। কোম্পানিগুলোও প্যাকেটজাত চিনির দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পাইকারি পর্যায়ে ভোগ্যপণ্য বিক্রেতাদের সংগঠন মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, দেশে এখন চিনির কোনো ঘাটতি নেই। তবুও বাড়তি উৎপাদন খরচ ও বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে হঠাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিমণ চিনি ১৮০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে মিলগুলো। এক সপ্তাহ আগে যে চিনি প্রতিমণ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫৪০ টাকা, সেই একই চিনি আজ (গতকাল) বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭২০ টাকা। এটা স্পষ্ট, মিল মালিকদের কারসাজিতে প্রতিমণে ১৮০ টাকা দাম বেড়েছে।

টিসিবি পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মইনউদ্দিন আহ্মদ বলেন, বাজারে চিনির দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। দেশে চিনির কোনো ঘাটতিও নেই। বাজারে পর্যাপ্ত চিনি রয়েছে। টিসিবির কাছেও চিনির ভালো মজুদ আছে। হঠাৎ করে চিনির দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো ব্যবসায়িক ইস্যু থাকতে পারে।