শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৬ আগস্ট, ২০২১ ২৩:২০

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ফের বাড়ল

বন্ধ ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গতকাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক পর্যালোচনা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া দেশের সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ধাপে ধাপে খোলার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার আগে শিক্ষার্থীদের টিকা ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দফতর সূত্র গতকাল জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে ফের আগামী ১ সেপ্টেম্বর যৌথ সভা আহ্বান করেছে মন্ত্রণালয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, এ বৈঠক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক, বিশেষ করে এসএসসি-এইচএসসির পরীক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে এনে সরাসরি পাঠদানের ঘোষণা আসতে পারে।

গতকালের বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান এ প্রতিবেদককে জানান, করোনা পরিস্থিতি এখন নিম্নমুখী। এ ধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১৫ অক্টোবর খুলে দেওয়া হবে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টিকাদানসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ইউজিসিকে জানাবে। ইউজিসি এসব তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সব বিশ্ববিদ্যালয় যে এক দিনে খুলে দিতে হবে এমন নয়। কেউ যদি মনে করেন পাঠদান কার্যক্রম শুরু করতে সময় লাগবে, তবে তিনি পরেও খুলে দিতে পারবেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর অনেক বড়, শিক্ষার্থীও অনেক বেশি। এ বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতিতে হয়তো একটু বেশি সময় লাগতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সব সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিগগিরই চিঠি দিয়ে জানানো হবে। জানা গেছে, গতকালের বৈঠকে শিগগিরই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পাঁচ দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী করোনার সংক্রমণের হার পাঁচ শতাংশের নিচে থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংক্রমণের হার ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে কোনো একটি সংখ্যা বিবেচনা করা যায় কি না সে বিষয়ে টেকনিক্যাল কমিটির পরামর্শ চাওয়া হবে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল রি-ওপেনিং প্ল্যান করে রেখেছে, এর পরও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে আলোচনা করে এই রি-ওপেনিং প্ল্যান আগামী সাত দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পর স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালিত হচ্ছে কি না তার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে মনিটরিং সেল গঠন এবং প্রতিদিন প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয় তাদের টিকা নেওয়া, টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করা, টিকা গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেনি কিন্তু শিক্ষার্থীর এনআইডি আছে, যাদের এনআইডি নেই কিন্তু তাদের বয়স ১৮ পেরিয়ে গেছে এবং যাদের বয়স এখনো ১৮ হয়নি তাদের একটি তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। যাদের এনআইডি নেই কিন্তু তাদের বয়স আঠারোর ওপরে, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে এনআইডি পাওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলবে। এর পর সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। টিকাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার জন্য ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ তাদের বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন, ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. কাজী শহীদুল্লাহ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম মো. হাসিবুল আলম, কভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি শেখ কবিরসহ স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দফতর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এই বিভাগের আরও খবর