সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ টা

ইভিএমে কোনো দল ভোট বয়কট করবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইভিএমে কোনো দল ভোট বয়কট করবে না

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট ডাকাতির সুযোগ নেই। রাতে ভোট দেওয়ার সুুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। তিনি বলেন, ইভিএম ব্যবহার করার কারণে কোনো রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করবে না। নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে আসবে। কেননা, ইভিএম নিয়ে দলগুলোর অন্তরে বিশ্বাস আছে, মুখে নেই। গতকাল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মো. আলামগীর বলেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর বা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে যে নির্বাচন হবে, তাতে সব দল অংশগ্রহণ করবে বলে আমরা আশাবাদী। ৩৯টি দলই যে আছে, তারা সবাই আসবে বলে আশা করি। তবে হ্যাঁ, কেউ যদি মনে করে অন্য দলের সঙ্গে নির্বাচন করবে অথবা অন্য একটি দলকে জিতিয়ে দেওয়ার জন্য অংশগ্রহণ করবেন না, এমনটাও তো হতে পারে। আমরা অবশ্যই ভোটের পরিবেশ তৈরি করব। আমাদের ভিতরে ও বাহিরে এক। আলাদা নেই কিছু। তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে একটা ভ্রান্ত ধারণা আছে। এগুলো নিয়ে অনেকেই অপপ্রচার করছেন। হয়তো জীবনে কোনোদিন দেখেননি, তারা টিভিতে কথা বলছেন। যারা পক্ষে বলছেন তারাও ভুল বলছেন। সব মিলে ইভিএম নিয়ে ভুল তথ্য যাচ্ছে। তাই ইভিএম নিয়ে আমরা ম্যাসিভ প্রচারণা চালাব।

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ইভিএমে ওভাররাইট করার সুযোগ নেই। এখানে ওভাররাইটের বিষয়ও নেই। কারও আঙুলের ছাপ না মিললে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রথমে সংশ্লিষ্ট ভোটারের এনআইডি নম্বর মিলিয়ে দেখেন। পরে তাকে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেন। অথচ টক শোতে বলা হচ্ছে ওভাররাইট করা যায়।

তিনি বলেন, অনেকে বলছেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এটাকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করতে পারেন। কিন্তু আপনারা এসে দেখেন, যে ইভিএম চাইবেন আপনাদের সেটাই পরীক্ষা করতে দেব, দেশে বিদেশের এক্সপার্ট নিয়ে আসেন, দেখেন। আবার বলা হয়, মামলা হলে কীসের ভিত্তিতে হবে। ইভিএমে তো ভিভিপ্যাট নেই। আমাদের ইভিএমে এর চেয়ে উন্নত ব্যবস্থা আছে। ডিজিটালি থাকে সেটা। নির্বাচনের পর মামলা করার সময় (এক বছর) পর্যন্ত তা সিলগালা অবস্থায় থাকবে। যে কেউ যদি চ্যালেঞ্জ করেন। তবে আদালতে সেই সিলগালা করা বস্তা নিয়ে হাজির হবেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের সামনে তা খোলা হবে। তখন প্রিন্ট দিলেই দেখা যাবে কোন মার্কায়, কখন, কত ভোট পড়েছে। সাবেক এই ইসি সচিব বলেন, ইভিএমে বিশ্বাস কিন্তু ভোটাররা করে। কোথাও দেখেছেন এটা নিয়ে প্রতিবাদ করতে, মিছিল করতে? যারা লিখছেন তারা তো ইভিএম দেখেনইনি, শুনেনওনি। তারপরও লিখে ফেলছেন। এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের টার্গেট সুষ্ঠু নির্বাচন করা।

ইভিএমে ব্যালট ছিনতাই, জাল ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো মাস্তানি করার সুযোগ নেই। তাই যেখানে ইভিএমে ভোট হবে, ওখানে দুষ্টু লোকরা যাবে না। যাবে ওইখানে, যেখানে ব্যালট পেপারে ভোট হবে। আমরা ওই জন্যই ব্যালটে যেখানে হবে, সেখানে ফোর্স বেশি মোতায়েন করব। আমাদের ওই ফোর্স এখানে দিতে হতো, সেগুলো ইভিএমের আসনগুলোতে অত লাগবে না, তাই সেগুলো আমরা ব্যালটের ওখানে দেব।

তিনি বলেন, একটি বড় দল, তার সঙ্গে আরও চারটি দল সরাসরি ইভিএম চেয়েছে। শর্ত সাপেক্ষে আরও সব মিলিয়ে ১৭টি দল চাচ্ছে। ইভিএম নিয়ে কে সত্য, মিথ্যা বলছে, তা বলব না। ইভিএম নিয়ে আমরা যেটা বলছি তা সত্য। ইভিএমে ভোট ডাকাতির সুযোগ নেই। রাতে ভোট দেওয়ার সুুযোগ নেই।

ইভিএম নিয়ে দলগুলোর আস্থাহীনতার বিষয়ে এই কমিশনার বলেন, ১২ কোটি ভোটারের পরিপূর্ণ আস্থা আছে। হয়তো দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশল আছে। তবে তাদেরও অন্তরে বিশ্বাস আছে, মুখে (বাইরে) নেই। কারণ অনেক দলই বিপক্ষে কথা বলছে, কিন্তু আমাদের কাছে যখন আনঅফিশিয়ালি আসেন, তখন পক্ষে বলেন। একটি দলের একজন সংসদ সদস্য আমাদের কাছে এসে লিখিত দরখাস্ত করেছেন তার এলাকায় ইভিএম দেওয়ার জন্য। কাজেই এটা অন্তরে আছে, ওরা ইভিএম বিশ্বাস করেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে জোর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানো এবং প্রার্থীর প্রস্তাবক-সমর্থকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর না দেওয়া বিষয় স্বীকার করানো হয়েছে। এ বিষয়ে কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তদন্ত করে দেখব। প্রমাণ হলে নির্বাচন হওয়ার পরেও ব্যবস্থা নিতে পারব। প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের তথ্য তাৎক্ষণিক জানাতে আমরা একটি অ্যাপ তৈরির চিন্তা করছি। এটা তৈরি হলে, কেউ কোনো প্রার্থী বা ভোটের ফলাফল তাৎক্ষণিক এই অ্যাপে দেখতে পাবেন।

সর্বশেষ খবর