Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মে, ২০১৯ ০০:০৬

টপস ফতুয়ায় ঈদ উৎসব

টপস ফতুয়ায় ঈদ উৎসব
♦ মডেল : সোহা মীম ♦ ছবি : মুনতাকিম ♦ পোশাক : ওয়েস্ট রঙ (রঙ বাংলাদেশ)
রোজার শুরু থেকেই শপিং মলগুলোতে লেগেছে কেনাকাটার ভিড়। ঈদের কেনাকাটায় মেতে উঠেছে নগরবাসীসহ গোটা দেশ। আর তা টের পাওয়া যায় বাইরে বেরোলেই। কারও পছন্দ বারো হাতের শাড়ি, কারও বা সালোয়ার কামিজ। কেউ দামি গাউন, লেহেঙ্গা ও শর্ট কামিজ এমনকি টপস জিন্স ছাড়া অন্য কিছুই ভাবতে পারছেন না। লক্ষ্য কিন্তু একটাই-ঈদে চাই নতুন পোশাক। আর তা যদি হয় টপস-ফতুয়া তবে তো কথাই থাকে না। কেননা, গরম এখন চরমে।  আর এ সময় হালকা ফ্যাশন হিসেবে ট্রেন্ডি টপস-ফতুয়াই বেস্ট। জানাচ্ছেন- তানিয়া তুষ্টি

 

দেশীয় ফ্যাশনে নতুনত্ব আনতে ফ্যাশন ডিজাইনাররা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবে বদলাচ্ছে মানুষের ফ্যাশন বিষয়ক চিন্তা -ভাবনা। ঈদ বা উৎসবগুলোতে তার প্রমাণই মেলে। দেশীয় পোশাকে আন্তর্জাতিক উপকরণ আর নকশার মিশ্রণে প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ হচ্ছে লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডগুলোর আউটলেট। যেহেতু ঈদ, তাই পোশাকে থাকবে রং, কাট ও আধুনিকতার মিশেল।

 

দেশীয় পোশাক ব্র্যান্ড রঙ বাংলাদেশের পরিচালক শৌমিক দাস বলেন, ‘সময় বদলেছে। প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে ফ্যাশন ট্রেন্ড এবং কাট। ইন্টারনেটের প্রভাবে তরুণীদের হাল ফ্যাশনে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। আর তা উৎসব-পার্বণে সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। পাশ্চাত্যের ঢঙে সেজে উঠতে চান অনেক তরুণী। সেই তালে তাল মিলিয়ে চলতে চান মধ্য বয়সী অনেক নারীও। কিন্তু তাই বলে তো বাঙালিয়ানা ভুলে নয়। তাই দেশীয় আর পাশ্চাত্যের ঢঙে সাজানো হয়েছে আমাদের ওয়েস্ট রঙ-এর ঈদ কালেকশন।’

 

শহুরে তরুণীরা উৎসবে এখন টপস এবং ফতুয়া নিয়ে একটু ভিন্ন লুকে হাজির হতে চান। এখনকার ঈদে সিঙ্গেল কামিজ, পালাজ্জো, ন্যারো শেপ প্যান্ট, লেগিংস বা স্কার্টে নিজেকে ধরা দিয়ে থাকে অনেক উঠতি বয়সের তরুণী। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ না পরে অনেকে ধুতি-সালোয়ার, ট্রাউজারের সঙ্গে বেছে নিচ্ছে রকমফের টপস এবং ফতুয়া। মাঝে সাঝে শার্ট, টি-শার্টে মেতে ওঠেন অনেক তরুণী। স্লিভ ডিজাইনে বৈচিত্র্য নিয়ে স্লিমফিট কাটের পোশাক বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। সঙ্গে চামড়ার জুতো, বেল্ট আর এক্সেসরিজে পাল্টে দিয়েছে বর্তমান সময়ের তরুণীদের ফ্যাশন ট্রেন্ড।

 

ফ্যাশন বোদ্ধাদের মতে, কাপড় যেমনই হোক না কেন, এর কাটিং আর প্যাটার্নে পশ্চিমা প্যাটার্ন রাখাটা যেন হাল আমলের ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। তবে এই ঈদে গরমের জন্য হালকা রংগুলো পোশাকের চাহিদা বেশি। তাতে থাকছে কারচুপি, অ্যামব্রয়ডারি, সিকোয়েন্স, ডিজিটাল প্রিন্টসহ নানারকম নিরীক্ষাধর্মী কাজ। তরুণীরা উজ্জ্বল রঙের পোশাকের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বেশি। তবে তুলনামূলকভাবে বয়স্করা আরামটাকে বেশি প্রাধান্য দেন। নতুন কাপড়ের মধ্যে রয়েছে সিকোয়েন্স, ডিজিটাল, জুমার, লামলাম কটন, লেদার প্রিন্টসহ নানা ধরনের কাপড়। এর মধ্যে সিকোয়েন্স কাপড় বেশ গর্জিয়াস। ইন্ডিয়ান কটন রয়েছে কয়েক ধরনের। ইন্ডিয়ান কটনগুলোর পাড়ে চওড়া অ্যামব্রয়ডারি ও হাতের কাজ করা। ভেলভেট কাপড়ে জর্জেটের ওপর নকশা করা হয়েছে ভেলভেট দিয়ে। সিল্ক, সিফন বা কটনের মধ্যেও রয়েছে চোখ ধাঁধানো নানা ডিজাইন।

 

ইদানীং ভারত পাকিস্তানের বাহারি পোশাক যা নাম কুর্তা হলেও বাংলাদেশি মেয়েদের কাছে জনপ্রিয় একটি পোশাক। তবে তা লং লেনের না হয়ে কিছুটা শর্টস হিসেবে পরিচিত। ফ্যাশনের এ অন্যতম অনুষঙ্গটি সব বয়সীর পছন্দের শীর্ষে। কুর্তা আরামদায়ক ও বেশ ঢিলেঢালা। কুর্তার আদলে নানা রঙে ঢঙে নিজেকে সাজিয়ে তোলা সম্ভব। ক্যাজুয়াল অথবা ফরমাল যে কোনো স্টাইলের সঙ্গেই এই পোশাকটি বেশ মানানসই। তাই তো এবারের ঈদে জিন্স, লেগিংস ছাড়া ঢিলা সালোয়ারের সঙ্গেও কুর্তা বেছে নিচ্ছেন উঠতি বয়সের তরুণীরা।


আপনার মন্তব্য