Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:১২

ডেঙ্গু নতুন তথ্য ও ঈদানন্দ

অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

ডেঙ্গু নতুন তথ্য ও ঈদানন্দ

ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গু আতঙ্ক, এরই মধ্যে মানুষের দোরগোড়ায় চলে এসেছে খুশি, আনন্দের ঈদ। শহুরে মানুষের ঘরে ফেরার আনন্দে এবার কিছুটা চিন্তার উদ্রেক করছে ডেঙ্গু। ঈদে বাড়ি যাওয়া যাবে কিনা এই উৎকণ্ঠা সবার মনে। যারা ভুগছেন কিংবা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় আছেন, সবারই চিন্তা ঈদটাই না এবার মাটি হয়ে যায়!

যাদের জ্বর চলছে বা আক্রান্ত তারা গ্রামে যেতে পারবেন কিনা?

যারা ডেঙ্গু জ্বরে ভুগছেন অর্থাৎ যাদের জ্বর চলছে কিংবা বাড়ি যাওয়ার আগেই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে বাড়ি না যাওয়াটাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। কারণ এবার ডেঙ্গুর ধরনের ভিন্নতার জন্য হঠাৎ করে জটিলতা দেখা দিচ্ছে। সুতরাং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমনকি বড় শহরগুলোর বাইরে যথাযথ চিকিৎসা পাওয়া যাবে কিনা অথবা কোনো জটিলতা হলে সামাল দেওয়া যাবে কিনা, তা বিবেচনায় নিতে হবে। তাই জ্বর নিয়ে বাড়ি না যাওয়াই যুক্তিযুক্ত। তবে যাদের জ্বর নেই তারা যেতে পারবেন। যারা সম্প্রতি ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তারা গ্রামে গেলে তাদের থেকে ডেঙ্গু গ্রামে ছড়াতে পারে কিনা? না, তাদের থেকে জ্বর ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ, আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ডেঙ্গুর লক্ষণ প্রকাশের পর অর্থাৎ জ্বর শুরুর ৪-৬ দিন পর্যন্ত ডেঙ্গু ভাইরাস থাকে। এই সময়ের মধ্যে স্ত্রী এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। সুতরাং যারা জ্বর থেকে সেরে উঠেছেন তাদের কাছ থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ছড়ানোর আশঙ্কা নেই।  আবার যদি কারও শহর থেকে শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করে এবং গ্রামে গিয়ে লক্ষণ প্রকাশ পায়, তবুও গ্রামে তার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়ানোর আশঙ্কা নেই বললেই চলে। কারণ ডেঙ্গুর একমাত্র বাহক স্ত্রী এডিস মশা, অন্য মশার কামড়ের দ্বারা ডেঙ্গুর জীবাণু ছড়ায় না। আর এডিস মশা থাকে শহরে, গ্রামে সাধারণত এ মশার অস্তিত্ব নেই।

ডেঙ্গু আক্রান্ত সব রোগীর হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তির প্রয়োজন আছে কিনা?

ডেঙ্গুর প্রকোপের চেয়ে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে যেন আতঙ্কই বেশি। সাধারণ জ্বরেও সবাই ছুটছেন হাসপাতালে। ফলে রাজধানীর সব হাসপাতালে ভিড় বাড়ছে। আসলে সব ডেঙ্গু জ্বরে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন নেই। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে বাসায় চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। তবে অতিরিক্ত বমি হলে বা রোগী যদি খেতে না পারে, রক্তের প্লাটিলেট অতিরিক্ত কমলে, শরীরের কোনো অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হলে (যেমন রক্তবমি, কালো পায়খানা বা নাকে, দাঁতের গোড়া থেকে ইত্যাদি) হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। এছাড়া যারা অন্যান্য রোগে ভোগেন যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি, গর্ভবতী মহিলার ডেঙ্গু হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবা নিতে হবে।

লেখক : সাবেক ডিন, মেডিসিন অনুষদ,

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।


আপনার মন্তব্য