রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

বেশি সংখ্যক উইঘুরদের একসঙ্গে আটক রাখার পরিকল্পনায় বন্দিশালা বানিয়েছে চীন!

অনলাইন ডেস্ক

বেশি সংখ্যক উইঘুরদের একসঙ্গে আটক রাখার পরিকল্পনায় বন্দিশালা বানিয়েছে চীন!

নানাভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিমরা। এবার তাদের নিয়ে নতুন কৌশল নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বন্দিশালা বানিয়েছে চীন। ধারণা করা হচ্ছে, বেশি সংখ্যক উইঘুর মুসলিমদের একসঙ্গে আটক রাখার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বন্দিশালা নির্মাণ করা হয়েছে।

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় ২২০ একর জায়গা জুড়ে নির্মিত এই বন্দিশালায় ১০ হাজার বন্দিকে রাখা যাবে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। এই বন্দিশালা আয়তনে ভ্যাটিকান সিটির দ্বিগুণ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এই বন্দিশালার বেশ কিছু ছবি।

এক লাখেরও বেশি সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের গত চার বছরে ছুরিকাঘাত আর বোমা হামলার অভিযোগ এনে কারাবন্দি করেছে চীন। চীন এসব মুসলিমদের আটকে রাখাকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেছে বলে বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, এসব বন্দিশালায় অনেক নিরপরাধ ব্যক্তিতেও আটকে রাখা হয়েছে।

প্রায় এক মাইল জায়গা জুড়ে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যা ২০১৯ সালের স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে। এর আগে অবশ্য এই বন্দিশালা বানানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছিল চীন। তবে ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিকভাবে এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার পর বিষয়টি স্বীকার করে বেইজিং।

এদিকে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উইঘুর মুসলমান ছাড়াও অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ চালায় চীন। 

জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, জিনজিয়াংয়ের ক্যাম্পগুলোয় বন্দি ১০ লাখের বেশি উইঘুর মুসলিম। তাদের জোরপূর্বক কম্যুনিস্ট মতার্দশে দীক্ষা দেয়া হচ্ছে। বাধ্যতামূলক শ্রমের পাশাপাশি রয়েছে ধর্ষণ, হত্যা, ধর্মীয়-বাক স্বাধীনতা হরণের মতো অভিযোগও।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রত্যেকটি অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্যে স্পষ্ট, মানবাধিকার ভুল পথে যাচ্ছে। জিনজিয়াংয়ে শুধু উইঘুর মুসলিম নয় বরং সংখ্যালঘু নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর ওপর চালানো হচ্ছে নির্যাতন। এমনকি গণহত্যা চালাতেও পিছুপা হচ্ছে না চীন সরকার। বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষায়, মার্কিন কূটনীতির সব কৌশল ব্যবহৃত হবে। দায়ীদের আনা হবে জবাবদিহিতার আওতায়।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার 

এই বিভাগের আরও খবর