থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা শুক্রবার দেশের সাংবিধানিক আদালতের রায়ে পদচ্যুত হয়েছেন। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক ফোনালাপে পেতংতার্নের সাথে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন কথোপকথনের বিষয়বস্তুর কারণেই মূলত এই রায়।
ফোনালাপটি ১৫ জুনের, যখন দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফোনালাপে পেতংতার্ন হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করেছেন এবং সীমান্ত সংঘর্ষে নিহত কম্বোডীয় সেনাকে কেন্দ্র করে নিজ দেশের সেনাদের সমালোচনা করেছেন। তিনি হুন সেনকে বলেছেন, “আপনি যা চাইবেন, বলুন, আমি ব্যবস্থা করব।” এই মন্তব্যগুলোই আদালতের মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর দেশটিতে জাতীয় উত্তেজনা তৈরি হয়। সীমান্ত বিতর্কের কারণে ইতোমধ্যেই জাতীয়তাবাদী আবহ সৃষ্টি হয়েছিল। সমালোচকরা অভিযোগ করেন, পেতংতার্ন দেশের স্বার্থে ক্ষতি করেছেন। যদিও পেতংতার্ন জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, মন্তব্যগুলো ছিল কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল।
এবারের রায়ের ফলে থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন পর্যায় শুরু হয়েছে। পেতংতার্ন পরিবারের অনেকেই আগে সরকারের শীর্ষ পদে ছিলেন—থাকসিন সিনাওয়াত্রা, ইয়িংলক সিনাওয়াত্রা, সোমচাই ওয়ংসাওয়াট।
পেতংতার্নের পদচ্যুতের ফলে ফিউ থাই পার্টিকে সংসদে নতুন প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। পছন্দের একমাত্র প্রার্থী হতে পারেন প্রাক্তন ন্যায়েরমন্ত্রী চাইকাসেম নিটিসিরি, তবে পার্টির জোট অংশীদারদের ভোট নিশ্চিত কিনা তা অনিশ্চিত।
পূর্ববর্তী ঘটনায়, ভুমজাইথাই পার্টির নেতা অনুতিন চারনভিরাকুল এই ফাঁস হওয়া ফোনালাপের কারণে জোট ছেড়ে দেন এবং পদত্যাগ করেন। নতুন প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী না আসার ক্ষেত্রে নতুন নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিনাওয়াত্রা পরিবার এখনও থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে শক্তিশালী, তবে এই বরখাস্তের ফলে তাদের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
সোর্স: সিএনএন
বিডি প্রতিদিন/আশিক