শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫১

ফাইজার তথ্যভাণ্ডারে হানা উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের

নিশানায় করোনা ভ্যাকসিন

ফাইজার তথ্যভাণ্ডারে হানা উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের

করোনা টিকা সংক্রান্ত তথ্য চুরি করতে মরিয়া উত্তর কোরিয়া। এর জন্য ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সংস্থা ফাইজারের তথ্যভান্ডারে সাইবার হামলা চালায় কিমের দেশের হ্যাকাররা। গতকাল এমনটাই বিস্ফোরক দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস’। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই করোনা রুখতে সীমান্ত বন্ধ করে বাইরের জগতের সঙ্গে প্রায় সম্পর্ক ছিন্ন করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের দাবি, তাঁর দেশে এখনো থাবা বসাতে পারেনি মারণ ভাইরাসটি। কিন্তু বাস্তবে  সামনে এসেছে অন্য চিত্র।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সিওলের দাবি, কিমের দেশে  রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করেছে করোনাভাইরাস। প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ওপর মহামারীর প্রকোপে কার্যত ভেঙে পড়েছে কমিউনিস্ট দেশটির অর্থনীতি।

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদ সদস্য হা তায় কেয়ং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘করোনার টিকা তৈরি করতে মরিয়া উত্তর কোরিয়া। এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য হাতিয়ে নিতে ফাইজারের তথ্যভান্ডারে হানা দিয়েছে সে দেশের হ্যাকাররা। এই বিষয়টি নিয়ে একটি রিপোর্ট দিয়েছে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা।’

উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ার কাছে রয়েছে কয়েক হাজার সদস্যের একটি সুশিক্ষিত হ্যাকার বাহিনী। সরাসরি কিমের নির্দেশে অস্ত্র তৈরি প্রযুক্তি ও ভ্যাকসিনসহ অন্যান্য তথ্য হাতাতে গোটা বিশ্বেই সাইবার হামলা চালায় তারা। গত বছরের ডিসেম্বরে ন’টি সংস্থার পরিষেবা বিকল করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরির চেষ্টা চালিয়েছিল হ্যাকাররা। এই তালিকায় ছিল আমেরিকা, ব্রিটেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ছ’টি ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা। আরও চমকপ্রদ বিষয় হল, সংস্থাগুলির নাম। আমেরিকার জনসন অ্যান্ড জনসন থেকে নোভাভ্যাক্স আইএনসি, ব্রিটেনের অ্যাস্ট্রাজেনেকার মতো বিখ্যাত সব নাম হ্যাকারদের হিটলিস্টে ছিল। এছাড়াও ছিল বোস্টনের ইসরায়েল ডিকোনেস মেডিকেল সেন্টার এবং জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব টিউবিনজেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরির চেষ্টা চালালেও হ্যাকারদের সেই চেষ্টা আদপে সফল হয়েছে কিনা, তা এখনো জানা যায়নি। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই কাজ উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত হ্যাকার দল ‘কিমুস্কাই’-এর। কারণ, এর আগেও এরা আমেরিকা, জাপানের গোয়েন্দা সংস্থা থেকে জরুরি তথ্য হাতানোর চেষ্টা করেছিল।